ইয়াহু’র কাছেও তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৩, ২০:১৭
প্রযুক্তি বিশ্বে এখন বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা গ্রাহকদের তথ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং তার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নজরদারির বিষয় নিয়ে চলছে তোলপাড়। এরইমধ্যে ফেসবুক, মাইক্রোসফট এবং অ্যাপল জানিয়েছে তাদের কাছে চাওয়া তথ্যের কথা। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এবারে ইয়াহু জানিয়েছে, তাদের কাছেও বিভিন্ন অ্যাকাউন্টধারীর ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কে জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ‘প্রিজম’ সারভেইল্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় গত দেড় বছরে ইয়াহু’র কাছে ১২ থেকে ১৩ হাজার অনুরোধ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে। প্রতারণা, হত্যা, অপহরণ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্তের সুবিধার্থে ইয়াহু’র এসব অ্যাকাউন্টের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়াহু। তবে এসব অনুরোধের মধ্যে কতগুলো জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত, সেই সংখ্যাটি প্রকাশ করেনি ইয়াহু। এই তথ্যটি প্রকাশ না করতে পেরে হতাশাও জানিয়েছে তারা। সম্প্রতি ইয়াহু’র নিজস্ব ব্লগে এক ব্লগপোস্টে এই তথ্য জানিয়েছে ইয়াহু। ইয়াহু’র সিইও মারিসা মেয়ার এবং জেনারেল কাউন্সেল রন বেল-এর বরাত দিয়ে লেখা এই ব্লগপোস্টে বলা হয়েছে, ‘অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতোই কিছু কিছু বিষয়ে, বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত বিষয়গুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট সংখ্যাগুলো আমরা প্রকাশ করতে পারি না। তবে আমাদের গ্রাহকদের কাছে আমার অবস্থানকে স্বচ্ছ রাখতে আমাদের পক্ষে যতটুকু জানানো সম্ভব, ততটুকু তথ্য আমরা সরবরাহ করছি আমরা।’ গত দেড় বছরে ১২ থেকে ১৩ হাজার অ্যাকাউন্টের তথ্য জানতে চাওয়ার তথ্য জানিয়ে ইয়াহু জানিয়েছে, এখন থেকে তারা বছরে দুইবার ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট প্রকাশ করবে, যাতে তাদের কাছে জানতে চাওয়া অ্যাকাউন্টের তথ্যগুলো জানানো হবে। চলতি গ্রীষ্মেই প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ইয়াহু। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনে ফেসবুক, অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত বছরের শেষ অর্ধে ফেসবুকের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ৯ থেকে ১০ হাজার অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং মাইক্রোসফটের কাছে ৬ থেকে ৭ হাজার অ্যাকাউন্টের ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চেয়েছে। অন্যদিকে ডিসেম্বর ২০১২ থেকে চলতি মে মাস পর্যন্ত অ্যাপল’র কাছে একই ধরনের অনুরোধ এসেছে ৪ থেকে ৫ হাজার। বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের ব্যক্তিগত তথ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার এই আগ্রহের সমালোচনা করে আসছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।