ধর্ষণের পর হত্যার শিকার এক তরুণীর বাড়িতে সহানুভূতি জানাতে গিয়ে বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়েন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতাই তাকে ওই পরিস্থিতির মুখোমুখি করে। -খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের। ৭ জুন বারাসাতের কামদুনি গ্রামের ২০ বছরের এক কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে নৃশংসভাবে নিহত হন। ১১ দিন পর সোমবার হঠাত্ ওই গ্রামে গিয়ে হাজির হন মমতা। একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য রাস্তা কাটা থাকায় গ্রামে ঢুকতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িবহর। কিন্তু তাতে দমে না গিয়ে মোটর সাইকেলের পেছনে চড়ে প্রায় আড়াই মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মমতা নিহত তরুণীর বাড়ি পৌঁছান। কিন্তু মাত্র দশ মিনিট অবস্থান করেই তিনি ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে। তিনি নিহত তরুণীর বাবা-মার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে নিহতের ভাইদের তাদের চিকিত্সার ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেন।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে চলে যেতেন মমতা। কিন্ু্ত মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ঘটনার এতদিন পরে আসায় গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে শ্লোগান দেয়। নিহত তরুণীর বাড়িতে অবস্থানকালীন তার বিরুদ্ধে শ্লোগান শুনেছিলেন মমতা। ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার পর সেখানে জড়ো হওয়া গ্রামের নারীরা তাকে তাদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান। কিন্তু তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন মমতা। এতে গ্রামের উত্তেজিত নারীরা চিত্কার করে প্রতিবাদ জানালে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উপস্থিত নারীদের এবং ধর্ষকদের প্রতিদ্বন্দ্ব্বী বামপন্থী রাজনৈতিক দল সিপিএম-এর কর্মী বলে অভিহিত করেন।
মমতা ওই গ্রামের টুম্পা নামের এক নারীকে ধমক দিলে ওই নারী তাকে পাল্টা ধমক দেন। মমতার ব্যবহার আর তাদের সবাইকে সিপিএম-এর কর্মী বলায় গ্রামের নারীরা বিস্মিত হয়ে পড়েন। ‘এখানে রাজনৈতিক দলের বিষয় এলো কেন?’, প্রশ্ন করেন টুম্পা। চিনা নামের অপর এক নারী মন্তব্য করেন, মমতা তাদের সঙ্গে কোনো কথা না বলে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে গেলেন।
গ্রামবাসীদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এ ব্যবহারে বিব্রত হয়েছেন নিহত তরুণীর পরিবারের সদস্যরাও। তরুণীর ভাই বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী এখানে আসাটা খুব ভালো সিদ্ধান্ত ছিল, তবে তার জন্য অপেক্ষারত গ্রামবাসীদের সঙ্গে দুটি কথা বলে গেলে আরও ভালো করতেন।’ মমতা গ্রামটি ছেড়ে বের হয়ে আসার সময় গ্রামের মানুষ বিশেষ করে নারীরা তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। মমতার মন্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিকমহল ও বুদ্ধিজীবীমহলেও প্রতিক্রিয়া হয়েছে। মমতা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে পারেননি বলে মনে করছেন তারা।
