প্রিমিয়ার লিগ সংকট

সভাপতির দিকেই চেয়ে আছে সব পক্ষ

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৩, ২১:৪৯
বাংলাদেশের ক্রিকেটে গত কয়েক বছর ধরেই ছোট-বড় সব সংকটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতিই একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছেন। ঢাকা মহানগরী প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার ক্ষেত্রে তাই হতে যাচ্ছে। খেলোয়াড়রা ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশ (সিসিডিএম) দুই পক্ষই এখন সংকট নিরসনের জন্য সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের দিকে চেয়ে আছেন। গত সোমবার প্রিমিয়ার লিগ বর্জনের ডাক দেয়া ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) গতকাল সিসিডিএমকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকের ব্যাপারে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। সিসিডিএম চেয়ারম্যান ও বোর্ড পরিচালক জালাল ইউনুস জানালেন, সভাপতিকে এ বিষয়টা জানানোও হয়েছে। এখন তিনিও আশাবাদী, সভাপতির সঙ্গে আলোচনার ভেতর দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে। তা না হলে তেমন কোনো আশা কোনো পক্ষই দেখতে পাচ্ছে না। গত মার্চ মাসে মূলত শুরু হওয়ার কথা ছিল প্রিমিয়ার লিগ। তখন ক্লাবগুলোর আপত্তির মুখে লিগ পিছিয়ে যায়। এরপর বর্তমান সূচিতে আবার যখন লিগ করার উদ্যোগ নেয়া হয়, তখন দলবদল পদ্ধতিতে একেবারে নতুন এক নিয়ম প্রবর্তন করে ক্লাবগুলো ও সিসিডিএম। তারা খেলোয়াড়দের উন্মুক্ত দলবদল বন্ধ করে তাদের গ্রেডিং ঠিক করে সে অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লাবের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুতে এই পদ্ধতি নিয়েই আপত্তি থাকলেও একটা পর্যায়ে ক্রিকেটারদের আপত্তির প্রধান জায়গা ছিল তাদের বিভিন্ন গ্রেডের পারিশ্রমিকের পরিমাণ নিয়ে। এ নিয়ে ক্রিকেটাররা নিজেদের মতো করে একটি পারিশ্রমিক তালিকা জমাও দিয়েছে সিসিডিএমের কাছে। কিন্তু ক্রিকেটারদের সেই বেশি পারিশ্রমিকের তালিকা গ্রহণ না করে সিসিডিএম ক্লাবগুলোর প্রস্তাবিত পারিশ্রমিকই ঠিক রাখে। আর এটাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ক্রিকেটাররা সোমবার ঘোষণা দেন, একেবারেই আগের পদ্ধতিতে দলবদল না করলে প্রিমিয়ার খেলবেন না তারা। ক্রিকেটারদের সর্বশেষ এই অবস্থানে একটু বিস্মিত সিসিডিএম চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, ‘ক্রিকেটাররা গ্রেডিং পদ্ধতিতে রাজীও ছিল। কিন্তু এখন কেন পদ্ধতিটাকেই বাতিল করতে বলছে, বুঝতে পারছি না।’ অবশ্য সবকিছুর পরও তিনি আশাবাদী যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটা সমাধান হয়ে যাবে, ‘সমাধানের আশা তো করতেই হবে। আমি সভাপতিকে জানিয়েছি সব। আশা করছি, আলোচনায় ক্লাব ও খেলোয়াড় সবাই একমত হতে পারবে। তবে আবারও বলি, আমরা সিসিডিএম থেকে কাউকে জোর করতে পারি না। শুধু আশা করতে পারি। আমরা আমাদের মতো করে দলবদলের তারিখ ও লিগ শুরুর তারিখ মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাকিটা সময় বলবে।’ এই প্রস্তুতির ব্যাপারটাই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বললেন বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীও। তিনি অবশ্য একটু যোগ করলেন, ‘আমরা জানি, সিসিডিএম প্রিমিয়ার লিগের দল বদল ও লিগ শুরুর তারিখ ঘোষণা করেছে। সে অনুযায়ী সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়া যে উদ্ভূত পরিস্থিতি, সে সম্পর্কে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না, বলে মন্তব্য করা কঠিন।’ এই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো, না-জানানো নিয়েও বেশ একটা আলোচনা জমে উঠেছে। বিসিবি বলছে, তারা খেলোয়াড়দের বয়কট আনুষ্ঠানিকভাবে জানে না, এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি পায়নি বলে খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসতে পারছে না। এর বেশ জবাবও তৈরি কোয়াব সভাপতি দেবব্রত পালের কাছে, ‘সিসিডিএমও তো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেডিং, দলবদল পদ্ধতি নিয়ে খেলোয়াড়দের কিছু জানায়নি। ক্লাবগুলোকেও তো তারা জানায়নি দলবদল নতুন কোনো নিয়মে হবে কি না। সবাই সংবাদ মাধ্যমের মারফত জানছে। আমরাও তাই জানিয়েছি।’ তবে শেষ পর্যন্ত পুরো ব্যাপারটায় দেবব্রত নমনীয় সুরই শোনালেন। তিনিও সভাপতির সঙ্গে আলোচনায়ই সমাধান দেখছেন, ‘বোর্ড সভাপতি আমাদের অভিভাবক। আমরা শুরু থেকে বলে আসছি, আলোচনায় সমাধান সম্ভব। আর আমরা মনে করি, সভাপতি আমাদের সমস্যাটা বুঝবেন। তাই আমরা তার দিকেই চেয়ে আছি।’