তিন দিন ধরে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উত্তর ভারতের হিমালয়সংলগ্ন উত্তরখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে নিহতের সংখ্যা ১৩০ ছাড়িয়ে গেছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। পাহাড় ও সেতু ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ৭০ হাজার তীর্থযাত্রী আটকা পড়েছেন কেদারনাথের পথে। ভারতের টেলিভিশন এনডিটিভি বুধবার জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে কেবল উত্তরখণ্ডেই ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রূদ্রপ্রয়াগ জেলায় নিহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। অলকানন্দার প্রবল স্রোতে তীরের মাটি ধসে তলিয়ে গেছে ৪০টি হোটেলসহ অন্তত ৭৩টি ভবন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, উত্তরাখন্ড ও হিমাচল প্রদেশের কয়েক হাজার বাড়ি-ঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টার দিয়ে মানুষজনকে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করছে। ‘প্রাদেশিক সরকার এবং সেনাবাহিনী নিমজ্জিত উপত্যকাগুলো ও মন্দিরে আটকে পড়া হাজার হাজার পর্যটককে উদ্ধারের চেষ্টা করছে’ বললেন উত্তরখন্ডের দুর্যোগ ত্রাণ মন্ত্রী জাসপাল অরোইয়া। কেদারনাথ, বদ্রিনাথ, গঙ্গোত্রি, গোমুখ—এই চার তীর্থস্থানে যাওয়ার পথে উত্তরখণ্ডের বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছেন ৭০ হাজারেরও বেশি হিন্দু পুণ্যার্থী। ১৫ স্থানে ভূমিধসের কারণে হার্সিল-গঙ্গোত্রি সড়কেই আটকা পড়ে আছেন ৬ হাজারের বেশি তীর্থযাত্রী। অরোইয়া বলেন, প্রবল ঢলের কারণে বিখ্যাত কেদারনাথ মন্দিরের একটি অংশ দৃশ্যত কাদার মধ্যে তলিয়ে গেছে। মন্দির প্রাঙ্গণের একটি অংশও ভাসিয়ে নিয়ে গেছে নদী। ঐ মন্দির এলাকায় অন্তত পাঁচশ লোক নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে এনডিটিভির প্রতিবেদনে, যাদের মধ্যে ৪৫ জন পুলিশ সদস্যও আছেন। সেখানে দশ হাজার মানুষকে এখনই উদ্ধার করা প্রয়োজন।
প্রবল বর্ষণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরখন্ডের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছে, বন্যায় প্রায় ২০০ কার গাড়ি এমনকি যথাস্থানে করে রাখা একটি হেলিকপ্টারও ভেসে গেছে। গত শনিবার থেকে দেশটির ঐ অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। স্থানীয় এবং পর্যটকদের পানি ও খাবার যোগান দিতে ৪০টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। মঙ্গলবার প্রদেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে ২৫০ জনকে উদ্ধার করেছে বিমানবাহিনী। অনেককে ত্রাণ শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। ‘কিন্তু এখনো অনেকে অবরুদ্ধ রয়েছে এবং এদের সকলকে উদ্ধার করতে তিন দিনের বেশি সময় লাগতে পারে।’ বললেন অরোইয়া।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হিমালয় পাদদেশের এই চার তীর্থস্থানে রবিবার থেকেই তীর্থযাত্রা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সেনাবাহিনীর পাঁচশ সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়েছে উদ্ধার কাজে। তীর্থযাত্রীদের সরিয়ে নিতে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। উত্তরখণ্ড ও হিমাচলের সড়কপথে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে বিমানের মাধ্যমে খাবার, পানির বোতল, জরুরি ওষুধ এবং কম্বল ফেলা হচ্ছে।
