গত পনের দিনের গরমে ওষ্ঠাগত অবস্থা থেকে আপাতত রেহাই পেয়েছেন ফুটবলাররা। আষাঢ়ের বৃষ্টিতে ভিজেছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ। এই বৃষ্টিতে অবশ্য সমস্যাও হল, প্রায় ৪৫ মিনিট দেরীতে শুরু হল সুপার কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ দিনের খেলা। আর দেরীতে শুরু হওয়া গতকাল শেষ দিনের প্রথম ম্যাচে মোহামেডানের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে সেমিফাইনালে চলে গেল ব্রাদার্স ইউনিয়ন; মোহামেডান আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। দিনের প্রথম ম্যাচ ড্র হওয়ায় শেখ জামাল ও বিজেএমসির ম্যাচের আর কোনো গুরুত্ব ছিল না।
কাল প্রথম ম্যাচটির দিকেই দৃষ্টি ছিল সবার। কারণ মোহামেডান যদি ব্রাদার্সকে হারিয়ে দিত, তাহলে শেখ জামালের সামনে সেমিফাইনালে উঠার সুযোগ থাকতো। তখন অংকের হিসাব নিয়ে মাঠে নামতো তারা। কিন্তু কোনো হিসাব খুঁজতে হয়নি। মোহামেডান-ব্রাদার্স ম্যাচটি গোল শূন্য ড্র হওয়ায় ‘বি’ গ্রুপ থেকে মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন এবং ব্রাদার্স রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায়। বিদায় নিশ্চিত হয় শেখ জামালের। কাগুজে লড়াইয়ে পরিণত হয়ে পড়ে শেখ জামাল-বিজেএমসির ম্যাচটি। সুপার কাপ ফুটবলের প্রথম সেমিফাইনালে শুক্রবার ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন শেখ রাসেল খেলবে ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে। পর দিন শনিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মোহামেডান লড়বে মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে। দুটি সেমিফাইনাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হবে।
মোহামেডানের বিপক্ষে কালকের ম্যাচ শেষে ব্রাদার্সের কোচ মহিদুর রহমান মিরাজ অবশ্য বললেন, এই বৃষ্টিভেজা মাঠে খেলে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছিলেন না তারা। তারপরও ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন অন্তত ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ায়, ‘আমি তো বৃষ্টি ভেজা মাঠে খেলতেই চাইনি। কারণ এমন মাঠে আমার টিম খুব ভালো খেলতে পারবে না। খেলা নষ্ট হবে বলে মনে হচ্ছিল। রেফাররি কারণে খেলতে হয়েছে। তারপরও আল্লাহর কাছে শুকরিয়া ম্যাচটা ড্র হয়েছে।’
মোহামেডান আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করায় গতকাল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। সেরা একদশ থেকে মারুফ, গোলকিপার মামুন খান, মোবারক, রজনী এবং মেজবাবুল হক মানিককে বিশ্রাম দেন কোচ সাইফুল বারী টিটু। এর মধ্যে মামুন মিয়া ও মারুফের দুইটি করে হলুদ কার্ড ছিল। রজনী ও মোবারককে অবশ্য পরে মাঠে নামিয়ে ছিলেন টিটু।
মোহামেডানের খেলার ভঙ্গিই বলছিল, তাদের লক্ষ্য ম্যাচটা ড্র করে হলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তবে মোহামেডান কোচ অবশ্য স্বীকার করে গেছেন, ‘ব্রাদার্স যদি ম্যাচের প্রথমার্ধে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগতে পারতো তাহলে ম্যাচটা হেরেও যেতে পারতাম।’ শেষ পর্যন্ত ফলাফল যাই হোক এই দল নিয়ে সেমিফাইনালে উঠতে পেরে আপাতত তৃপ্ত ব্রাদার্সের কোচ মিরাজ, ‘সেমিফাইালে উঠার লক্ষ্য ছিল, সেটা পূরণ হয়েছে।’
