দুরন্ত নেইমারে দুর্বার ব্রাজিল

আপডেট : ২০ জুন ২০১৩, ২১:৩৪
মাঝে অল্প কয়েকটা দিন জাতীয় দলের হয়ে দুরন্ত ফর্মটা দেখাতে পারছিলেন না। তাতেই সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। নিজের ঘরের মাটিতে কনফেডারেশন্স কাপকে যেন সমালোচনার জবাব দেয়ার সুযোগ হিসেবেই নিলেন নেইমার। বুধবার নিজে একটি গোল করে এবং আরেকটি করিয়ে মেক্সিকোর বিপক্ষে ব্রাজিলকে ২-০ গোলের জয় এনে দিলেন এবং প্রথম ম্যাচের দুরন্ত ফর্মটা ধরে রাখলেন সদ্য বার্সেলোনায় যাওয়া এই তারকা। এই জয়ের ফলে ব্রাজিল এক ম্যাচ হাতে রেখে উঠে যায় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে। জাপানের সাথে প্রথম ম্যাচে চোখ ধাঁধানো এক গোল করে নিজের আগমন বার্তা শুনিয়েছিলেন নেইমার। অসাধারণ ক্ষিপ্রতার সেই গোলের আবেশ কাটতে না কাটতে বুধবার আবারও ব্রাজিলিয়ানদের আনন্দে ভাসালেন। ম্যাচের নবম মিনিটে পেনাল্টি বক্সের একটু ভেতর থেকে নেইমারের বাঁ পায়ের জোরালো ভলিটি খুঁজে নেয় জাল। দ্বিতীয়ার্ধেও নেইমার যাদু চললো। মেক্সিকান ডিফেন্ডাররা নেইমারের ক্রসটা ক্লিয়ার করতে পারলেন না; দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে বল চলে যায় জো‘র কাছে। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ব্রাজিল মেক্সিকো থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে। জো জাপানের বিপক্ষেও অতিরিক্ত সময়ে গোল করেছিলেন। ঠিক (৯০+৩) একই সময়ে! সদ্যই বার্সেলোনায় চুক্তিবদ্ধ ২৪ বছর বয়সী নেইমার নিজের এই ফর্ম ধরে রাখতে পেরে খুবই খুশি। তবে বেশি খুশি দল ভালো করতে থাকায়, ‘আবারো ভাল খেলতে পেরে আমি খুশি। কিন্তু সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা হচ্ছে দলের পারফরমেন্স ভাল। আমরা ম্যাচের পর ম্যাচ উন্নতি করছি এবং আমরা আরো ভাল দলে পরিণত হচ্ছি। এটা আমাদের পরবর্তী ম্যাচের জন্য আরো আত্ববিশ্বাস জোগাচ্ছে।’ ব্রাজিলের সাথে সর্বশেষ তিন ম্যাচের দু’টিতে জিতেছিল মেক্সিকো। এই ম্যাচেও দারুণ লড়েছিল তারা। কিন্তু আক্রমণভাগে সফল হয়নি দলটি। ফলে কনফেডারেশন্স কাপ থেকে বিদায় নিতে হলো তাদের। মেক্সিকোর কাছে ব্রাজিলের সম্প্রতি হার হচ্ছে গত বছর লন্ডন অলিম্পিকে। ফাইনালে ব্রাজিল স্বর্ণ খুইয়েছিল মেক্সিকোর কাছে। যে দলটির নেতৃত্বে ছিল নেইমার ও অস্কার। কিন্তু ফেবারিট থাকা সত্বেও ব্রাজিল অলিম্পিকে নিজেদের প্রথম স্বর্ণ জয় করতে ব্যর্থ হয়। তাই এই ম্যাচটাকে অনেকে প্রতিশোধের ম্যাচ হিসেবে দেখছিলেন। ম্যাচশেষে ব্রাজিলের কোচ লুইজ ফিলিপ স্কলারি সেটা খানিকটা স্বীকারও করে নিলেন, ‘সম্প্রতি মেক্সিকোর সাথে আমরা খুব ভালো করতে পারছিলাম না। অলিম্পিক ফাইনালের কথা আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মাথায় ছিল। তাদের সাথেএই জয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ নেইমার ব্রাজিলের বড় তারকা। সমালোচনা ছিল সান্তোসের সফলতা তিনি জাতীয় দলে দেখাতে পারতেন না। কিন্তু এই যাত্রায় কনফেডারেশন্স কাপের প্রথম দুটি ম্যাচেই ভাল খেললেন। স্কলারি বলেন, ‘নেইমারের স্কিল রয়েছে। পুরো ম্যাচে মেক্সিকোর খেলোয়াড়দের সমস্যায় ফেলেছে সে। আমাদের যা দরকার সে তা করেছে। সে আমাদের সাহায্য করেছে মেক্সিকোর রক্ষণভাগ ভেঙে দিতে।’ ব্রাজিল গ্রুপের প্রথম ম্যাচে জাপানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল। অন্যদিকে মেক্সিকো ইতালির কাছে হেরে গিয়েছিল ২-১ ব্যবধানে। ইতালি এবং ব্রাজিল সমান ছয় পয়েন্ট তুলে নিয়েছে। মেক্সিকো ও জাপান কোন পয়েন্ট এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারেনি। আট দলের টুর্নামেন্টে চার দলের করে এক এক গ্রুপ থেকে সেরা দু’টি দল সেমিফাইনালে যাবে।