[ রা জ নী তি ]

দেশে একাত্তরের জয় পরাজয়ের পুনরাবৃত্তির পূর্বাভাস?

আপডেট : ২২ জুন ২০১৩, ২১:৩৯
ুচার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলের পরাজয়ের পর কিছু বিদেশি বন্ধু আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন, তোমাদের বাংলাদেশের মানুষের বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের ‘সাইকি’ আমরা বুঝতে পারি না। এই সেদিন ৫মে তোমরা ভয়াবহ মৌলবাদী অভ্যুত্থান সাফল্যের সঙ্গে প্রতিহত করলে। সারা দুনিয়া তোমাদের বাহবা দিলো, তারপর একমাস না ঘুরতেই চার চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেই জয়ী দলটি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলো। জয়ী হলো মৌলবাদীদের সমর্থিত একটি দল। শুধু জেতা নয়, বিপুল ভাবে জেতা। হাউ কাম! এটা কেমন করে সম্ভব? বাংলাদেশের মানুষের ‘সাইকিটাতো’ দেখছি বোঝা মুসকিল। প্রশ্নটা আমার মনেও জেগেছে। বার বার এটা কেন হয়? একাত্তরেও এটা ঘটেছে, বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের জন্য একটা নিষ্ঠুর বিদেশি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছে। অকাতরে প্রাণ দিয়েছে। তারপরই সেই স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছর না যেতেই তারা কি করে জাতীয় নেতাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, সামরিক এবং ৭১-এর পরাজিত সাম্প্রদায়িক শক্তির শাসন আবার মেনে নেয়? মেনে নেয় হানাদারদের কোলাবরেটর ও যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় বসা। এই প্রশ্নটি চারটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পর আবার মনে জেগেছে। শুধু আমার মনে নয়, বাংলাদেশ সম্পর্কে অনুসন্ধিত্সু কিছু বিদেশির মনেও যে জেগেছে সে কথা এই লেখার শুরুতেই উল্লেখ করেছি। বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত মিলে রাজপথের যুদ্ধে পরাজিত; কিন্তু রাজনৈতিক যুদ্ধে জয়ী। একথাটা কি ইতিপূর্বেও প্রমাণিত হয়নি? একাত্তরে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তির পরাজয়ের পর কলকাতার সাপ্তাহিক ‘কম্পাস’ কাগজের সম্পাদক আওয়ামী লীগ, সিপিবি ও মুজাফফর ন্যাপকে সতর্ক করে তার সম্পাদকীয় কলামে লিখেছিলেন, ‘আপনারা অত্যন্ত শক্তিশালী সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে সামরিক যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক যুদ্ধে এখনো জয়ী হননি। এখন এই রাজনৈতিক যুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়োগ করে জয়ী হতে না পারলে বর্তমানের সাময়িক জয় স্থায়ী হবে না। এই সতর্কবাণী যে কতোটা সঠিক ছিলো তা প্রমাণিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে। গণতান্ত্রিক ও সেকুলার শক্তিকে মাত্র সাড়ে বছরের মাথায় রাজনৈতিক যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয়। এর মূল কারণ ছিলো, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসার পর ধরেই নিয়েছিল, তাদের প্রতিপক্ষ চিরকালের জন্য পরাজিত হয়েছে। তারা আর মাথা তুলতে পারবে না। ফলে মৌলবাদ ও ধর্মান্ধতার যে প্রচণ্ড শক্তি, তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সদ্য স্বাধীন দেশটির ক্ষমতাসীন দল রণক্ষেত্রের যুদ্ধের জয়কেই চূড়ান্ত বলে ধরে নিয়েছিলেন। তাকে সমাজ ও রাজনীতি থেকেও বিতাড়িত করার জন্য স্বাধীনতার অর্ধসমাপ্ত বিপ্লবকে সমাপ্ত করার প্রয়োজন বোধ করেননি। বরং সাম্প্রদায়িক দলগুলোকে দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরও ক্ষমতার লোভে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতাকে ক্ষেত্রবিশেষে প্রশ্রয় দিতে দ্বিধা করেননি। এর পরিণতি ১৯৭৫-এর ট্রাজেডি। অতীতের এই ভুল থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নেয়নি। ২০০৮ সালের নির্বাচনী যুদ্ধে আওয়ামী লীগ বিশাল বিজয়ের অধিকারী হয়ে ক্ষমতায় গেছে। কিন্তু ক্ষমতায় বসে দেশ থেকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধতার শিকড়কে সম্পূর্ণ নির্মূল করার জন্য আওয়ামী লীগ সমমনা সেকুলার রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিয়ে নির্বাচন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পরবর্তী রাজনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত রাখেনি। বরং বহুক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার সঙ্গে আপস করে চলার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভুল রণকৌশলই ছিলো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শত্রু হিসেবে কেবলমাত্র জামায়াতকে ঠেকানো। কিন্তু এই চেতনার মূল শত্রু যে সকল সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ দল এবং রাজনীতি থেকে সার্বিকভাবে এই শত্রুকে উচ্ছেদ করা প্রয়োজন, আওয়ামী লীগ তা উপলব্ধি করেনি। ফলে ক্ষমতায় বসে আওয়ামী লীগ যখনই জামায়াতের উপর আঘাত করেছে জামায়াত তখনই প্রকাশ্যে আশ্রয় নিয়েছে বিএনপির কোলে এবং অপ্রকাশ্যে আশ্রয় নিয়েছে হিজবুতের মতো নানা সন্ত্রাসী মৌলবাদী দলের সাইনবোর্ডের আড়ালে। এবার যেমন রাতারাতি হেফাজতে ইসলাম নামের আড়ালে থেকে ভয়াবহ অভ্যুত্থান ঘটাতে চেয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে দমনের জন্য হেফাজতের সঙ্গে আপস করতে চেয়েছে। শাপলা চত্বরে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েও গোপনে তাদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এই প্রশ্রয় আসলে পেয়েছে জামায়াত। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে হেফাজতিদের সামনে ঠেলে দিয়েই তারা আওয়ামী লীগের শাপলা চত্বরের রণবিজয়কে নির্বাচনী যুদ্ধে রাজনৈতিক পরাজয়ে পরিণত করেছে। এখন তাই বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী অনেকের মনেই ভয় ঢুকেছে যে, এই চার সিটি নির্বাচনের ফল কি ৭১-এর যুদ্ধের জয়-পরাজয়ের পুনরাবৃত্তির পূর্বাভাস? অর্থাত্ একাত্তরে রণক্ষেত্রের যুদ্ধে জিতেও যেমন গণতান্ত্রিক সেকুলার শক্তিকে রাজনীতির যুদ্ধে পরাজিত হয়ে স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হতে হয়েছিল, বর্তমানেও তেমনি বিএনপি, জামায়াত, হেফাজতের সম্মিলিত সন্ত্রাসী হামলা (আন্দোলনের নামে) প্রতিরোধের যুদ্ধে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে কি রাজনীতির যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আবার দেশে ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী অবস্থায় ফিরে যেতে হবে? বাংলা ভাইয়েরা আবার জেগে উঠবে? আমার ধারণা, দেশের এই পরিস্থিতির দরুন বাংলাদেশের মানুষের সাইকি বা দ্রুত ভোল পাল্টানোর স্বভাবকে দায়ী করে লাভ নেই। দেশে বার বার রাজনৈতিক পরিস্থিতির যে ভোল পাল্টানো, তার জন্য মূলত দায়ী আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অনৈক্য ও দুর্বলতা। প্রগতিশীল রাজনৈতিক চিন্তা ও কার্যক্রমের ভ্যানগার্ড ছিলো যে ছাত্র সমাজ, তার বড় অংশই এখন বহুধা বিভক্ত। শুধু বিভক্ত নয়, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বেড়াজালে বন্দী। মানুষ এখন ছাত্রদল ও যুবদলের নাম শুনলে যেমন ভয় পায়, তেমনি ভয় পায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নাম শুনলে। বাম রাজনৈতিক দলগুলোর মতো বাম ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলো খুবই দুর্বল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আর্থ-সামাজিক ভিত্তি ছিলো সোস্যাল ডেমোক্রেসি বা সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র। সমাজতন্ত্রের আদর্শিক বিপর্যয়ের পর শুধু বাংলাদেশে নয়, মধ্য এশিয়ার মতো দক্ষিণ এশিয়াতেও দ্রুত তার স্থান দখল করেছে ক্রুর ধর্মীয় মৌলবাদ। আমেরিকা কম্যুনিজম ঠেকানোর জন্য এই ধর্মীয় মৌলবাদকে পলিটিক্যাল ডগমায় পরিণত করেছে, তাকে অস্ত্র সজ্জিত করেছে। এখন কম্যুনিজমের বিপর্যয়ের পর যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী মৌলবাদ রাজনৈতিক সন্ত্রাস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, তা ঠেকাতে গিয়ে আমেরিকাই হিমশিম। হোয়াইট হাউসে কালো প্রেসিডেন্ট বসিয়ে এবং সন্ত্রাস দমনের নামে বিভিন্ন দেশে ড্রোন হামলা চালিয়েও আমেরিকা সুবিধা করতে পারছে না। তার এখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচির অবস্থা। এক ভারতীয় সাংবাদিক বন্ধু আমাকে বলেছিলেন, যে সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রের আদর্শের ভিত্তিতে তোমাদের স্বাধীনতার জন্ম, মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সেই আদর্শকে প্রত্যাখ্যান করে তোমাদের দেশে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের উত্থান বিস্ময়কর। আমি তাকে বলেছি, ধর্মীয় মৌলবাদ, তা ইসলামি, হিন্দু বা খিস্ট্রিয় যাই হোক, তার উত্থান এখন বলতে গেলে বিশ্বের অধিকাংশ স্থানের একটা ট্রেন্ড। নইলে কামাল আতাতুর্কের কট্টর সেক্যুলার দেশে তুরস্কে ইসলামি দলের এডোরগান এতোকাল প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে পারেন? সেক্যুলার আরব জাতীয়তাবাদের দেশ বা নাসেরের মিসরে ইসলামি ব্রাদারহুডের মুরসি ক্ষমতায় আসতে পারেন? বিলাতে লেবার পার্টির সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর টনি ব্লেয়ার বলতে পারেন আইয়্যাম এ রিবোর্ন খ্রিস্টান? আমেরিকার বাইবেলপন্থি গোঁড়া মৌলবাদীদের উত্থানের কথা আর নাই লিখলাম। এখন যে ভারত গণতন্ত্রের পীঠস্থান বলে গণ্য, সেখানেও উগ্র হিন্দুত্ববাদের উত্থান ঘটেছে। এমন কি তারা বার বার কেন্দ্রীয় ক্ষমতাও দখল করছে। বাংলাদেশে তবু গোলাম আজমের মতো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তির দীর্ঘকাল পরে হলেও বিচার চলছে। কিন্তু ভারতে গোলাম আজমের মতোই মানবতার আরেক শত্রু, গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে হাজার হাজার সংখ্যালঘু হত্যার জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখনো শুধু ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত নন, তিনি ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীও হতে পারেন বলে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভারতের সাংবাদিক বন্ধুকে বলেছি, মৌলবাদের উত্থানের জন্য শুধু বাংলাদেশকে দায়ী করে লাভ নেই। এটা এখন অনেকটাই বিশ্ব-ট্রেন্ড। সমাজতন্ত্রের মতো এক সার্বজনীন আদর্শের বিপর্যয়ের পর সারা বিশ্বেই যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়, অর্থনীতির ক্ষেত্রে সেই শূন্যতা পূরণ করতে চাচ্ছে, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত গ্লোবাল ক্যাপিটালিজম এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে ধর্মীয় মৌলবাদ। নইলে নাইন ইলেভেনের পর মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোকে আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে তত্কালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ মুখ ফসকে একথা বলে ফেলতে পারতেন না যে, “এই যুদ্ধ হচ্ছে আমাদের ক্রুসেডের পুনরাবৃত্তি।” কট্টর মৌলবাদের এই উত্থানের যুগে বরং বাংলাদেশের হাসিনা সরকার ও হাসিনা নেতৃত্বকে প্রশংসা করতে হয় এজন্য যে, আমেরিকার মতো সুপার পাওয়ার নিষ্ঠুর ড্রোন হামলা চালিয়েও যেখানে তালেবানদের রুখতে পারছে না, সেখানে পাকিস্তানে ও আফগানিস্তানে বিপরীত ঘটনা প্রবাহ সত্ত্বেও হাসিনা সরকার ব্যালটের সাহায্যেই বাংলাদেশে মৌলবাদী উত্থান এতোকাল ঠেকিয়ে রেখেছেন এবং ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগে ৫ মের হেফাজতি অভ্যুত্থান ও ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত রুখে দিয়েছেন। এখন সম্মুখ সমরে পরাজিত হয়ে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি আবার রাজনীতির আশ্রয় গ্রহণ করেছে এবং দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষপুটে আশ্রয় নিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদের জন্য তত্পর রয়েছে। দেশ শাসনে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো কোনো ব্যর্থতায় অসন্তুষ্ট এবং বিরোধী দলগুলোর অসত্য ও অর্ধসত্য প্রচারণায় বিভ্রান্ত মানুষ পুরসভা ও সিটি কর্পোরেশনগুলোর নির্বাচনে প্রতিপক্ষ বিএনপিকে ভোট দিচ্ছে বলে জানছে। কিন্তু বিএনপির আড়ালে এই ভোট যে যাচ্ছে জামায়াত ও হেফাজতিদের তহবিলে এই সত্যটি তারা এখনো উপলব্ধি করে উঠতে পারছে না। আওয়ামী লীগের প্রচার শক্তি অত্যন্ত দুর্বল। সম্প্রতি দারিদ্র্য বিমোচন ও মেয়াদের দুবছর আগেই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আওয়ামী সরকারের বিরল সাফল্য সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক যে রিপোর্ট দিয়েছে তাকেও জনগণের সামনে তুলে ধরার মতো প্রচার দক্ষতা ও শক্তি আওয়ামী লীগ দেখাতে পারছে না। অনেক ভালো কাজ এবং সাফল্য সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ যদি আগামী সাধারণ নির্বাচনে পরাজিত হয় তবে তা হবে প্রধানত প্রচার শক্তির দীনতা ও হীনতার জন্য। আওয়ামী লীগ যা বুঝতে পারছে না, তাহলো মৌলবাদী উত্থানের একটি বিশ্ব-ট্রেন্ডের মুখে দাঁড়িয়ে একা তার পক্ষে লড়াই করা সম্ভব নয়। দেশের সকল গণতান্ত্রিক ও সেক্যুলার শক্তির ঐক্য তাকে গড়ে তুলতেই হবে। তাকে তার আদর্শিক অবস্থানে অবশ্যই ফিরে আসতে হবে এবং রাজনৈতিক কৌশলের নামে এমন আপস ও এপিজমেন্টের পথে থেকে সরে আসতে হবে যা দেশের মানুষ বিশেষ করে নবজাগ্রত যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করে। ড. ইউনূস, ড. কামাল হোসেন, ট্রান্সপারেন্সি, সুশীল সমাজ এরা আবার জোটবদ্ধ হবে এবং বাঘের মুখোশ ধারণ করে ভয় দেখাবে। এই কাগজের বাঘদের গুরুত্ব না দিয়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন এবং গণসংযোগ একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত বাড়াতে হবে। আওয়ামী লীগ তাহলে দেশের মানুষকে আবার তার শিবিরে ফিরে পাবে। \ লন্ডন, ২২ জুন শনিবার, ২০১৩ \