আলোকপাত

আত্মবিশ্বাসই উন্নয়নের চাবিকাঠি

আপডেট : ২২ জুন ২০১৩, ২১:৩৯
কেবলমাত্র আত্মনির্ভরশীল জাতিই চরম উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে। যে জাতির আত্মবিশ্বাস নেই, তারা কোনোদিনই আলোর মুখ দেখতে পারে না। চিরটা কালই অন্ধকারে হাবু-ডুবু খেতে থাকে। ’৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধই তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। পশ্চিমা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো এমন কি অস্ত্র বাঙালির হাতে ছিল? তবে হ্যা তাদের চেয়েও অনেক বড় অস্ত্র ছিল গভীর আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় মনোবল। প্রতিটি বাঙালির মনে-প্রাণে অটুট বিশ্বাস ছিল এদেশ একদিন হানাদারমুক্ত হয়ে স্বাধীন হবেই হবে। মাত্র নয় মাসের মাথায় ঠিকই দেশটি স্বাধীন হয়ে গেল। আর এত অল্প সময়ে দেশটি স্বাধীন হবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। এদিক থেকে বাঙালি একটি সার্থক জাতি। এতে কোনোরকম সন্দেহ নেই। সম্প্রতি রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এরপর গার্মেন্টস সেক্টরে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে। বিভিন্ন অজুহাতে হরতাল, ধর্মঘট, জ্বালাও-পোড়াওসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়া। ফলে অনেক গার্মেন্টস বন্ধ করে দেয়া হয়। এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয় বরং সমস্যা আরো বেড়ে যেতে থাকে। কারণ শ্রমিকরা আন্দোলন করার সুযোগ পেয়ে যায়। সমস্যা উত্তরণের ব্যবস্থাও আছে। কারণ গার্মেন্টস সেক্টর দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওকে উপেক্ষা করা মানে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া। কারণ দেশের অর্থনীতিতে সিংহভাগ টাকা আসে গার্মেন্টস সেক্টর থেকে। ঠিক এই সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বললেন, বাংলাদেশকে এশিয়ার টাইগার বানানো হবে। তাঁর এই উদাত্ত আহবান এবং প্রত্যাশাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তাঁর মতো অনেক রাষ্ট্রদূত ও মন্ত্রীরা এসে এদেশ সম্পর্কে উচ্চ আশা পোষণ করে বিবৃতি দিয়ে থাকেন যা অবশ্যই আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে থাকে। কিন্তু বাস্তবটা অন্য জিনিস। যেমন- হাজারো আহবান, উত্সাহ-উদ্দীপনা কোনো কাজে আসবে না যদি আমাদের প্রত্যেকের মাঝে দায়িত্ববোধ না আসে। দায়িত্বশীল হয়ে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সঠিকভাবে দায়িত্ব বোধ না আসে। দায়িত্বশীল হয়ে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করি। কাজকর্মে ফাঁকিতে বাঙালিরা পটু। এ ব্যাপারে কেউ দ্বিমত পোষণ করবে না। তারপরে সীমাহীন অলস ও আড্ডাপ্রিয়। ড্যান মজিনা এও বলেছেন- গার্মেন্টস সেক্টরে ট্রেড ইউনিয়ন অনুমোদন দেয়া খুবই জরুরি। শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন ওই সেক্টর উন্নয়নে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। এই ব্যাপারে গার্মেন্টস মালিকদের সহনশীল হওয়া একান্ত প্রয়োজন। তবে এটা চরম সত্য কথা যে গার্মেন্টস মালিকরা এ ব্যাপারে খুবই অনীহা প্রকাশ করে থাকে। শুধু তাই নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিরোধী ভূমিকাও পালন করে থাকে। যা মোটেও সঠিক নয়। শহরবাসীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিদ্যুত্,পানি (মানে ঢাকা ওয়াসা),গ্যাস ও সিটি কর্পোরেশন। যদি কোনো কারণে একটি সংস্থার ভূমিকায় বিঘ্ন ঘটে পুরো শহর অচল হয়ে যাবে। নগরবাসীর ভোগান্তির শেষ থাকবে না। মানুষের জীবনে পানির কোনো বিকল্প নেই। হাত-মুখ ধোয়া, গোসল করা, ওজু করা, বাথরুম ব্যবহার করা, কাপড় কাচা, রান্না-বান্না ও দৈনন্দিক জীবনে এমন কোনো কাজ নেই যেখানে পানির দরকার হয় না। তবে পানির ব্যবস্থাটা শহর আর গ্রামের মাঝে ব্যাপক পার্থক্য। গ্রামে আছে পুকুর, খালবিল, নদীনালা, তারপরে নিজস্ব টিউবঅয়েল। তাই গ্রামবাসীকে কখনো পানির তীব্র অভাব অনুভব করতে হয়নি। আর এই ব্যবস্থাগুলোকে অনেকটা প্রাকৃতিক ব্যবস্থা বলা চলে। কিন্তু শহরে এই ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই। শহরে পানি সরবরাহের একমাত্র দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঢাকা শহরে কোথাও পানির ক্রাইসিস আছে তা শোনা যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, পত্র-পত্রিকায় এমন কি কোনো মিডিয়াতেও দেখা যাচ্ছে না। অথচ একটা সময় ঢাকা শহরে পানির দারুণ হাহাকার ছিল। প্রায় ওয়াসা অফিসগুলোর সামনে কলসী মিছিলের দৃশ্য দেখা যেত। অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে ভাঙচুর করত। পানির হাহাকার শব্দটা মানুষের মুখে মুখে ভেসে বেড়াত। পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসা, পানির হাহাকার শব্দটা চিরতরে বিদায় করে দিয়েছে। দক্ষতা বলে-ই এই অসম্ভব কাজটি সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ১০ শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন চালু আছে। সেক্টর ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির মতে, মালিকরা কখনো চান না পোশাক শিল্প কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে উঠুক। এ ক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে পোশাক শিল্প নিয়ে জাতির যে স্বপ্ন তা বাস্তবে রূপদান করা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। তবে আমরা চাই, পোশাক শিল্পের প্রতিটি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন চালু করে, তাদের শক্তিশালী ভূমিকার মাধ্যমে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটিয়ে বাংলাদেশকে এশিয়ার টাইগার বানানো হোক। লেখক :শিশু সাহিত্যিক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন