দেশের চারটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়ে গেল। অনেকেই বলছেন যে, নির্বাচন খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু এমন মূল্যায়ন মেনে নেয়া যায় না। নির্বাচনের দিন বড় রকম সংঘাত না হলেই সেটিকে ভালো নির্বাচন বলা যায় না। দেখতে হবে নির্বাচনকালীন সমগ্র প্রক্রিয়াকে। সেদিক থেকে দেখলে বলতেই হয় যে, এই চারটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে টাকা উড়ানো হয়েছে ব্যাপকভাবে, গুণ্ডা-পাণ্ডা-মাস্তান-ক্যাডার শক্তির পাল্টাপাল্টি মহড়া হয়েছে, নির্বাচনী আচরণ বিধির সব নির্দেশনা নির্বিচারে লংঘন করা হয়েছে। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয়, সাধারণ মানুষের ধর্মানুভূতি নিয়ে ভোটের খেলা খেলতে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনী আইন বলছে যে, স্থানীয় নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে করা যাবে না। অথচ চারটি নির্বাচনই সর্বাংশে দলীয় নির্বাচন হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কোনোরকম কোনো বাধা দেয়া হয়নি। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে এরূপ ‘নির্দলীয় তামাশার’ কি অর্থ থাকতে পারে?
চারটি সিটি কর্পোরেশনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছে। পুরানো মেয়ররাই এসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রার্থী ছিলেন। কর্পোরেশনের কাজে দক্ষতা দেখালেও তাদের পরাজয় ঘটেছে জাতীয় ফ্যাক্টরের কারণে,—এরূপ ব্যাখ্যা আওয়ামী লীগ থেকেই দেয়া হয়েছে। বিএনপি বা তাদের প্রার্থীদের সম্পর্কে মানুষের ধারণা যে ভালো এমনও নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ থেকে যারা মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে তারা অনোন্যপায় হয়ে বিএনপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের অনুপাত ৩:২ এর মতো। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা যে কতোটা হ্রাস পেয়েছে, ভোটের এ হিসাব থেকে তা স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়। বিএনপি প্রার্থীরা মূলত নেগেটিভ ভোট পেয়ে জিতেছে। জামায়াতকে সঙ্গে না রাখলেও এই ভোট তাদের ঘরেই আসতো। হাতের সামনে অন্য কোনো জাতীয় বিকল্প না থাকায় এমন হওয়াটাই অবধারিত ছিল। তথাপি জামায়াতের কলঙ্ককে বিএনপি এখনো কেন কাঁধে নিয়ে বেড়াচ্ছে, মানুষের মনে তা একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন।
এদিকে জাতীয় নির্বাচন যত কাছে এগিয়ে আসছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা-অস্থিতিশীলতা-নৈরাজ্য যেন আরো বেশি জেঁকে বসছে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, লুটেরা পুঁজিবাদী আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার কতগুলো মৌলিক অসংগতি ও বৈশিষ্ট্য এর জন্য দায়ী। বামপন্থিরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার এই মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে না পারলে গণতন্ত্রের বিকাশ নিশ্চিত করা যাবে না। শুধু তাই নয়, এর ফলে গণতান্ত্রিক ধারা সবসময় বিপদের মুখে থাকবে। গণতন্ত্রের স্থিতিশীল বিকাশের জন্য দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন প্রয়োজন। প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজ বিপ্লব।
কিন্তু এই এক কথাতেই রাজনীতির সবকথা শেষ হয়ে যায় না। রাজনীতিতে আশু যে সব ঘটনা ঘটে বা ঘটবে তা আরো কতগুলো ‘চালক’ বা ‘ফ্যাক্টর’ দ্বারা প্রভাবিত হয়। রাজনীতির চলতি ঘটনাবলীর কতগুলো দৃশ্যমান উপাদান সেসব অনিশ্চয়তা-অস্থিতিশীলতা-নৈরাজ্যের তাত্ক্ষণিক সুনির্দিষ্ট রূপ দিচ্ছে।
দেশের রাজনীতিতে নানা ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে। নির্বাচন হতে পারে, নাও হতে পারে। ওয়ান-ইলেভেনের মতো দৃশ্যপট সৃষ্টি হতে পারে। নির্বাচন হলেও তা সকলের অংশগ্রহণমূলক যেমন, তেমনি আবার একতরফা নির্বাচনও হতে পারে। কি হবে তা নির্ভর করে বর্তমান আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যেই উপস্থিত মতো ঘটে যাওয়া নানা চলতি ঘটনার ওপর। চলতি ঘটনা প্রবাহের প্রতি নজর না রাখলে আমরা দিকহারা হয়ে পড়তে পারি। যেমন কিনা বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতির অনিশ্চয়তার ক্ষেত্রে এখনো সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হল— দেশে নির্বাচন যথাসময়ে হবে, নাকি ‘ওয়ান-ইলেভেন’-এর মতো ছন্দপতনের নাটক মঞ্চায়িত হবে। এ ক্ষেত্রে অনেক উপাদানই প্রভাবক রূপে ভূমিকা পালন করবে। এসব ঘটনা প্রবাহকে উপেক্ষা করে শুধু সমাজ বিপ্লব নিয়ে পড়ে থাকলে কোনো দিক দিয়েই কাজের কাজ কিছু হবে না।
বাংলাদেশের রাজনীতির বিদ্যমান বাস্তবতা হল, বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দ্বারা রাজনীতির গতি-প্রকৃতি বহুলাংশে নির্ধারিত হয়। দুর্ভাগ্য হল, এ দুটি দলই রাজনীতির ‘লজিক’ দ্বারা পরিচালিত হয় না। নীতি-আদর্শের বালাই এদের মধ্যে সামান্যই আছে। ক্ষমতার রাজনীতিই এদের কাছে মুখ্য; এদের প্রধান লক্ষ্য গদি বা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করা। এক্ষেত্রে তারা যতোটা না সুনির্দিষ্ট নীতি-আদর্শের দ্বারা পরিচালিত হয় তার চেয়ে বেশি পরিচালিত হয় ‘ক্ষমতার’ নানা হিসেব-নিকেশ দ্বারা। তাদের প্রণোদনার প্রধান বিষয় হচ্ছে ক্ষমতার অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো নিজের পরিবার ও দলের জন্য কুক্ষিগত করা। লুটেরা পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে এটা আরো বেশি করে সত্য। কারণ, এই ব্যবস্থায় রাজনৈতিক ক্ষমতা একটি খুবই লাভজনক কারবার। ‘গদি দখলের’ প্রজেক্টে ‘ইনভেস্টমেন্ট’ কয়েকশ গুণ বেশি হয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে, লোকসানের কোনো ভয় নেই। ক্ষমতায় থাকলে ‘পার্সেন্টেজ’ ধরে কমিশন পাওয়া যায়। টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি করে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে যাওয়া যায় রাতারাতি। আর অনায়াসেই এসব কালো টাকার প্রটেকশনও পাওয়া যায় ক্ষমতায় থাকলে। এসব কারণে ‘ক্ষমতা’ এতো লোভনীয় এবং ক্ষমতা নিয়ে দুপক্ষের এহেন গলাকাটা প্রতিযোগিতা।
সব সময়ই দেখা যায়, লুটেরা পুঁজিবাদী রাজনীতিতে ‘ক্ষমতাবলয়’কে কেন্দ্র করে একশ্রেণির ‘মক্ষীকূলের’ জন্ম হয়। এরা ক্ষমতার বদৌলতে ক্ষমতার রাজনীতির লুটপাটের ভাগীদার হয়। যদিও এই লুটপাটের ভাগ নিয়েই আবার শুরু হয় দ্বন্দ্ব-সংঘাত। সেই দ্বন্দ্ব-সংঘাত দুই দলের মধ্যে যেমন হতে পারে, আবার একই দলের দুই উপ-দলের মধ্যেও হতে পারে। এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সবটাই আবার ‘টেইক কেয়ার’ করে মক্ষীকূলের কেন্দ্রে বসে থাকা একশ্রেণির চতুর ব্যক্তি, যারা ‘ক্যাডার’ বা ‘গডফাদার’ হিসাবে পরিচিত। এরাই দল দু’টোকে আজ জিম্মি করে ফেলেছে। নীতি-আদর্শ বর্জিত ক্ষমতার রাজনীতির খেলায় পরস্পরকে মোকাবেলায় এই ‘ক্যাডার’ বা ‘গডফাদার’দের লালন-পালন করা ছাড়া দেশের বড় দল দুটোর কোনো গত্যন্তর নেই। একদল যদি দলে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে ‘ক্যাডারদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় তত্ক্ষণাত্ তারা অপর দলে যেয়ে আশ্রয় নিবে। তাই ‘ক্যাডারদের’ দ্বারা উভয় দলই ব্ল্যাক-মেইল হচ্ছে, ও এভাবে তাদের হতে জিম্মি হয়ে আছে। এরাই ক্ষমতার রাজনীতির কীটপতঙ্গ। লুটপাটকে কেন্দ্র করেই এদের জীবনচক্র। লুটপাট এদের জন্ম দেয়, আবার এরাই লুটপাটকে জিইয়ে রাখে।
একটা সময় আমাদের দেশে আওয়ামী লীগ নামক দলটি মূলতঃ উকিল, মাস্টার কেরানী প্রমুখ মধ্যবিত্ত শ্রেণির দ্বারা পরিচালিত হতো। বর্তমানে এই দলের শ্রেণিচরিত্র বদলে গেছে। এখন এই দলের নেতৃত্বে লুটেরা ধনীদের ভূমিকাই প্রধান। যতদিন যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের শ্রেণিগত চরিত্র ততই লুটেরা ধনিক শ্রেণির ধারায় রূপ নিচ্ছে। এদিকে ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়া বিএনপি জন্মগতভাবেই লুটেরা ধনিকদের দল। বিশ্বায়নের অজুহাতে তারা উভয়েই বিদেশি-সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির সেবায় নিয়োজিত। এভাবে দুটো দলই সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা ধনতন্ত্রের হাতে বৃত্তবন্দী হয়ে আছে। এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য হল—অস্থিরতা-নৈরাজ্য-অনিশ্চয়তা। তারই প্রতিফলন বাংলাদেশের চলতি রাজনীতিতে চলছে।
ক্ষমতার ইস্যু, অর্থাত্ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এখন সামনে চলে আসছে। ফলে অস্থিরতা-নৈরাজ্য ও অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২৫ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হবে। তার তিন মাসের মাথায় নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এখান থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ সরকারের দিক থেকে নেই। জনমতের বাতাস আওয়ামী লীগের জন্য এখন প্রবলভাবে প্রতিকূল। এরকম অবস্থায় অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে পরাজয়ের ‘রিস্ক’ কি আওয়ামী লীগ নেবে? এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের দলীয় স্বার্থ যেমন জড়িত, সাথে সাথে অন্য কতগুলো বিষয়ও জড়িত। ক্ষমতা বিএনপি-জামাতের হাতে গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া কি অব্যাহত থাকবে? এ বিষয়টিকে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে আওয়ামী লীগ ছলচাতুরির মাধ্যমে নির্বাচনে জিতে আসার পথ গ্রহণ করতে পারে। সম্ভাব্য ছলচাতুরির মধ্যে রয়েছে- একতরফা নির্বাচন, জামাতের সঙ্গে আঁতাত, এরশাদকে বিরোধী দল হিসাবে তৈরি করা, প্রশাসনকে অপব্যবহার করা ইত্যাদি। অনেকে সেই যুক্তির ফাঁদে পা দিতে পারে। কিন্তু ইতিহাস বলে- ভুল পন্থায় একটি সঠিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না।
বিএনপি বিগত সাড়ে চার বছর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যু ছাড়া জনগণের কোনো মৌলিক দাবি নিয়ে মাঠে ছিল না। তারা লাগাতার সংসদ বর্জন করেছে। মাঝে মাঝে বেতন-ভাতা খাওয়ার জন্য যেদিন সংসদে আইনগত হাজিরা দেওয়ার দরকার ততটা করেছে। এখন সংসদে উপস্থিত হয়ে অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করে সংসদকে কলুষিত করছে।
বিএনপির সামনে এখন অনেকগুলো অপশন। তারা চলতি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছে। চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তারা জয়ী হয়েছে। সংলাপের জন্য তারা প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। তাদের মধ্যে সমঝোতার সুর থাকলেও ‘চরম সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করে’ একটা ‘ডেডলক’ অবস্থা সৃষ্টির অপশনও তারা ছেড়ে দেয়নি। শুধু চাপ দিয়ে দাবি আদায়ের জন্যই নয়; প্রকৃতই ‘ডেডলক’ অবস্থা তৈরি করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শর্টসার্কিট করার কাজে সহায়তা করার সুযোগ ও পথ তারা ধরে রেখেছে। তাদের এসব কাজের পেছনে দলীয় চেয়ারপার্সনের ব্যক্তিগত ও পরিবারের লাভ-লোকসানের নানা বিষয়ও জড়িত। একথা মনে করারও যথেষ্ট কারণ আছে যে, বিএনপির অনেকগুলো এজেন্ডার মধ্যে একটি ‘হিডেন এজেন্ডা’ হল তারেক জিয়ার প্রত্যাবর্তন ইস্যু। নির্বাচনের আগেই বিএনপি এ বিষয়ে একটি ফয়সালা করতে চায়। তবে বিএনপি যদি নির্বাচনে বিজয়ের সম্ভাবনা খুব উজ্জ্বল দেখে তাহলে নির্বাচনের পরের জন্যও এই কাজটা রেখে দিতে পারে। সুতরাং নির্বাচন আদৌ হবে কীনা— হলে সেটা একতরফা হবে কীনা—নির্বাচনের আগে বা পরে ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ মতো অবস্থা তৈরি হবে কীনা; এসব অনেক কিছুই সামনের দিনগুলোর ঘটনাবলীর উপর নির্ভর করছে।
ইতোমধ্যে দুপক্ষের মধ্যেই ইসলামী ভোট নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে জামায়াত-হেফাজত-তরিকত-মাইজভাণ্ডারি-ওলামা-মাশায়েখ-আহলে সুন্নত ইত্যাদি নানা ঘরানা রয়েছে। এরা কেউই দুই দলের মনযোগের বাইরে নেই।
এদিকে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে জনগণের পক্ষ থেকে প্রবল চাপ রয়েছে সরকারের উপর। কিন্তু সরকার জামায়াত নিষিদ্ধ না করে সর্বসাধারণের জন্য সভা-সমাবেশ-মিছিলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। জামায়াতের সহিংস তাণ্ডবের জন্য সেই দলকে শাস্তি না দিয়ে গণতান্ত্রিক শক্তি ও নাগরিকদের অধিকার হরণ করে জনগণকে শায়েস্তা করা হচ্ছে। এ কেমন কথা? কিন্তু সরকার এ কৌশল নিয়েছে একদিকে জামাতের সাথে দেন-দরবারের পথ খোলা রাখা ও আমেরিকাকে জামায়াত ইস্যুতে সন্তুষ্ট রাখার জন্য। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের ন্যায্য আন্দোলন দমিত করে রাখার জন্য। তবে এসব কৌশল কাজে আসবে কীনা সন্দেহ। কারণ, একবার মানুষের মন থেকে দূরে সরে গেলে, এ ধরনের কোন পদক্ষেপই আর কাজে আসে না। বরং মানুষ আরো দূরে চলে যায়।
এই ‘অবস্থার’ সুযোগ নেবে বিএনপি-জামায়াত। কিন্তু আওয়ামী লীগ শাসন চলে গিয়ে বিএনপি-জামাতের শাসন আসলে সেটা হবে আরো ভয়াবহ; অনেকটা ফুটন্ত কড়াই থেকে জলন্ত উনুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো অবস্থা। সেই পরিণতিও হতে দেয়া যায় না। তাহলে উপায় কি? কঠিন প্রশ্ন! এই প্রশ্নের সহজ জবাব নেই। জনগণের মধ্যে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে তাতে তার দ্বারা বিএনপি-জামাতের বিপদ ঠেকানো সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। আওয়ামী লীগের পক্ষে সেই গণআস্থা ফিরে পাওয়াও সম্ভব হবে না। তাহলে মুক্তিযুদ্ধের ধারা রক্ষার কোনো উপায় কি নেই? সম্ভবতঃ তা করতে হলে একটিই সম্ভাব্য পথ আছে। তা হলো, ক্ষয়ে যাওয়া ভাবমূর্তির আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সত্-দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক-প্রগতিবাদী-বামপন্থি সব শক্তির একটি যুক্তফ্রন্ট গড়ে তুলে, বিএনপি-জামাতকে মোকাবেলা করা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির সমন্বয়ে একটি বাম-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বিকল্পই উভয় সংকট থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র সম্ভাব্য পথ। সময় বেশি নেই। সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তা তারা করবেন কি? দেখা যাক।
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
E-mail : [email protected]
