দিবস

সমাজ উন্নয়নে মাদকদ্রব্য নিবারণ অপরিহার্য

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৩, ২১:২৬
বর্তমান সমাজে মাদকদ্রব্য সেবন একটি প্রচলিত কুপ্রবৃত্তি। দিনে দিনে এ প্রবৃত্তি ক্রমশ সর্বত্র বিস্তার লাভ করছে। মানুষ যতই শিক্ষা-দীক্ষা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রসর হচ্ছে, ততই আধুনিকতার অনুসরণ করছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, রকমারি অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য সেবন আজকাল আধুনিকতা এবং সৌখিনতায় রূপ নিচ্ছে। অথচ শিক্ষিত মানুষ একথা জানেন যে, নেশা করা একটি ক্ষতিকর অভ্যাস। এটা ভালো মানুষকে পাগলের স্তরে নিয়ে যায়, সুস্থ-সবল ব্যক্তিকে অসুস্থ-দুর্বল করে, আর চরিত্রবান মানুষকে করে চরিত্রহীন। এছাড়া আর্থিক ক্ষতি, সামাজিক অমর্যাদা এবং পারিবারিক গোলযোগ তো লেগেই থাকে। মাদকদ্রব্যের ব্যবহার যতই বাড়ছে পরিবার, সমাজ এবং জাতির ক্ষতির পরিমাণ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকদ্রব্যের ব্যবহার দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর। খাদ্য বা পানীয় হিসাবে পৃথিবীতে বিকল্প নেই, যা মানুষের আর্থিক, মানসিক, সামাজিক এবং শারীরিক দিক দিয়ে এত বেশি ক্ষতি করতে পারে। নেশাদ্রব্য সেবনে কিছু সময়ের জন্য শরীরে উত্তেজনা বেড়ে থাকে এবং মনও প্রফুল্ল হয়। কিন্তু তা যেমন ক্ষণস্থায়ী, তেমনি নিরর্থক। তবুও মানুষ নেশার জন্য পাগল হয়ে উঠে। এ নেশাই মানুষের কর্মশক্তি হ্রাস করে। সে সঙ্গে চিন্তাশক্তি হ্রাস করে, চেতনা ও বিবেচনাশক্তির অভাব দেখা দেয়। সর্বোপরি মানুষকে করে চরিত্রহীন। মাতাল-চরিত্রহীনদের সমাজের ছোট-বড় সবাই ঘৃণা করে। অবস্থাসমপন্ন, উচ্চশিক্ষিত এবং অভিজাত পরিবারের লোক হলেও চরিত্রহীনকে কেউ ভালো মানুষের স্তরে স্থান দেয় না। টানা মদ খাওয়ার ফলে শরীরে নানা ধরনের রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়। স্নায়ু দুর্বল হয়, পেটে নানারকম রোগ বাসা বাঁধে, মূত্রাশয়ে রোগ জন্মে, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি জটিল রোগের উত্পত্তি হয়। এতে অনেকে অকালে-বেঘোরে প্রাণ হারান। বিষাক্ত মদ খেয়ে বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে অনেকের অকাল এবং করুণ মৃত্যুর খবর হরহামেশাই পাওয়া যাচ্ছে। নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই যুব সমাজের মধ্যে মাদকাসক্তির পরিমাণ সামপ্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। শহরাঞ্চলের ধনী পরিবারের সন্তানদের মধ্যে আসক্তির যে প্রবণতা দেখা দিয়েছে তা এক ভয়াবহ পরিণতির ইঙ্গিতবাহী। মাদক কেবল তরুণ প্রজন্মের প্রাণশক্তি ও মেধাকে ধ্বংস করছে না, এর কারণে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অপসংস্কৃতি ও অপরাধের বিস্তার ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তদের শুধু দায়ী করলেই হবে না, এর সাথে একদিকে দারিদ্র্য ও বেকারজনিত বিপুল হতাশা, অন্যদিকে সকল পর্যায়ে নীতি-নৈতিকতাবিবর্জিত সীমাহীন লোভ গোটা সমাজকে ভারসাম্যহীন করে তুলেছে। মাদক পাচার ও ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি প্রদানসহ মাদক পাচার রোধ ও মাদকের সহজ প্রাপ্যতা বন্ধ করতে হবে। নিজ সন্তানের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। সরকার ও জনগণের সমন্বয় প্রচেষ্টায় এ ভয়াবহ ব্যাধি দূর করতে হবে। মাদকাসক্তদের দ্বারা খুন-রাহাজানি বন্ধ করতে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদকাসক্ত ও বখাটে হবার আগেই সচেতন করার জন্য সকল মাধ্যমকে জরুরিভিত্তিতে কার্যকর করা জরুরি। মাদকদ্রব্য সেবনে মানুষের মানবতাবোধ লোপ পায়, শরীরে নানা রোগ দেখা দেয়, চরিত্র নষ্ট হয়, পরিবারে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, অর্থের অপচয় হয়, সামাজিক পদমর্যাদা—এ সব কিছুই থাকে না। ভালো মানুষ ও ভালো পরিবার সমাজে স্থান পায় না। কাজেই মাদকদ্রব্য ব্যবহার সবদিক দিয়েই মানুষের দারুণ ক্ষতিকর এতে কোন সন্দেহ নেই। গাঁটের পয়সা খরচ করে মানুষ যদি রুগ্ন হয়, অমানুষ হয়, মানুষের কাছে পরিত্যাজ্য হয় তাহলে সুস্থ সমাজ গড়ে উঠতে পারে না। সমাজ সুস্থ না হলে জাতীয় জীবন সুস্থ আশা করা যায় না। ফলে অনাচার, অবিচার, ব্যভিচার, দ্বন্দ্ব ও সংঘাত বিদ্যমান থেকেই যাবে, যা কোন দেশের পক্ষে শুভ হতে পারে না। কাজেই সমাজের উন্নতির জন্য মাদকদ্রব্য নিবারণ একান্ত অপরিহার্য। মাদকদ্রব্য যখন সবদিক দিয়ে সমাজের পক্ষে অনিষ্টকর, কাজেই এর সংস্পর্শে না গেলে বা চিরদিনের জন্য ত্যাগ করলে যখন সমাজের উন্নতি হতে পারে তাহলে দেশ, জাতি ও ভবিষ্যত্ বংশধরদের কথা মাথায় রেখে এ বিষাক্ত এবং সর্বনাশা দ্রব্য থেকে দূরে থাকার জন্য এগিয়ে আসতে হবে যুব সমাজকে। এতে দেশ ও সমাজ রক্ষা পাবে, সুস্থ ও সবল হয়ে বাঁচতে পারবে জাতি। এ শুভ কাজে সমাজপতি, মসজিদের ইমাম, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসা উচিত বলে আমরা মনে করি। লেখক :সাংবাদিক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন