শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৩, ২১:৩৫
স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশই হতে পারে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র হাতিয়ার যে কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত স্থায়ী বিনিয়োগ। কেবলমাত্র বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমেই কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। এই বিনিয়োগ নির্ভর করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশের উপর। বাংলাদেশ একটি দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে বিনিয়োগের অধিকাংশই বৈদেশিক বিনিয়োগের উপর নির্ভরশীল। আর বৈদেশিক বিনিয়োগের পূর্বশর্ত স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ যা বৈদেশিক বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করে। কিন্তু আমাদের দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজমান নয়। যা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধান প্রতিবন্ধকতা। বাংলাদেশে বহু দলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। বহুদলীয় রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতা গ্রহণ করা। এই দলগুলো তাদের রাজনৈতিক মূল উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন সময় হরতাল, অবরোধ ও লংমার্চের মত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যা রাজনৈতিক পরিবেশকে আরো সঙ্কটময় করে তুলছে। যার দরুন বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিম্নমুখী হচ্ছে। এছাড়াও অপরিকল্পিত শিল্পব্যবস্থা ক্ষমতার অপব্যবহার শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাব ইত্যাদি বিষয় বৈদেশিক বিনিয়োগকে প্রভাবিত করছে। যার বাস্তব প্রমাণ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের পোশাক শিল্পের জি.এস.পি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা। কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তরের পদ্ধতি নির্ধারণ করা ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আর এই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যতীত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। যেমনটি মাছের গায়ে ঘা হয়েছে, তা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হতে পারে সঠিক চিকিত্সা পদ্ধতি যা আমাদের দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মো. দেলোয়ার হোসেন অর্থনীতি বিভাগ (৩য় বর্ষ) সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা দু’দলের মধ্যে সুসম্পর্কই পারে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে পরিস্থিতি খুবই খারাপ। জনগণকে নিয়ে কেউই ভাবেন না, কারণ তাদের উদ্দেশ্য ক্ষমতায় বসা নিরীহ জনগণের খোঁজ-খবর রাখা নয়; ক্ষমতায় বসে তাদের নিজ নিজ দলের কিছু দালালদের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করতে পারলেই তাদের কাজ শেষ কিন্তু এদেশের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের ভোটেই যে তারা এমন ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন তা তারা ভুলে যান, তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয় তারা যেন শুধুমাত্র ঐ দালালদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে একটি শব্দ গ্রাম-বাংলায় প্রচলিত আছে। শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলি—ছাত্রদল এলে চলে ভর্তি বাণিজ্য, ছাত্রলীগ এলেও চলে ভর্তি বাণিজ্য। আমরা নিরীহ মানুষরা যাব কই? তাই দুই প্রাণপ্রিয় নেত্রীর নিকট বিনীত শ্রদ্ধাসহকারে বলতে চাই— আপনারা আপানাদের নিজ নিজ দলের এই চোরদের ধরুন এবং আপনারা দু’জন জাতির সংকটকালে একত্রিত থাকুন; আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করুন এবং এদেশের অবলা জাতি হিন্দুদের উপর নির্যাতন কমান। স্বরুপ কুমার রায়, অর্থনীতি বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল এদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে দরকার শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর থেকে অবশ্যই আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে দরকার শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। আমাদের সামগ্রিক জীবনও এর প্রভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। যে কোন সরকারের মূল লক্ষ্য থাকবে ক্ষমতায় এসে জনগণের সেবা করা, শাসক হিসেবে নয়। জনগণের চাওয়া-পাওয়া, প্রাপ্তি ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞ মহলেও এর প্রাপ্তিটাও অনেক। সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর সরকার ক্ষমতা ছাড়বে এবং নির্বাচনের পর জয়ী দল ক্ষমতায় আসবে। তবে এটি যেন সময়মতো এবং টেকসই পদ্ধতিতে করা হয়। বাংলাদেশের সার্বিক বিবেচনায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হোক এটা বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষের দাবি। আমরা সরকারের কাছে এই ন্যায্য দাবি রাখতে চাই। আকাশ আহমেদ (জারসা) বি.এস.এস ওল্ড ফার্স্ট ইয়ার-৩২১০ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর দেশ গড়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে ছোট বড় কোন কাজ সম্পাদনের জন্য শারীরিক, মানসিক, আর্থিক এবং জনপ্রিয়তার সমন্বয়ে অসাধারণ সামর্থ্য বলই হল ক্ষমতা। যে কোন কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজন কিছু না কিছু দক্ষতা ও ক্ষমতা। ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ হল বড় ধরনের কোন কাজ যা কোন দেশ ও জাতির বড় পাওয়া। আর ক্ষমতা চর্চা ও ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমেই এটা সম্ভব। সেই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজনে তা হওয়া দরকার শান্তিপূর্ণ উপায়ে। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজন সমঝোতা। যদিও তা বারংবারের আলোচ্য বিষয় কিন্তু বাস্তবায়নের অপেক্ষায় সেটি আজ ব্যর্থতার দ্বারে। সর্বোত্তম উপায় হিসেবে গণতন্ত্র অর্জনের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। গণতন্ত্রই হল সুষ্ঠু নির্বাচনের একটি পূর্ব সমঝোতা। পক্ষান্তরে ক্ষমতা হস্তান্তরটি হওয়া দরকার শান্তিপূর্ণ উপায়ে যা দেশের সুষ্ঠু নির্বাচন কাজ পরিচালনা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে এ মুহূর্তের জরুরি দাবি। মো. আল-আমিন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, শেষ পর্ব অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বনানী, ঢাকা ১২১৩