[ রা জ নী তি ]

একজন সাধারণ নাগরিকের রাজনীতি ভাবনা

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৩, ২১:৪৪
সপ্তাহের ৫ দিনই মালিবাগ মোড় থেকে লালমাটিয়া কর্মক্ষেত্রে পৌঁছানোর জন্য সিএনজি চালিত অটোরিকশায় উঠতে হয়। এখন সিএনজিতে চড়া ব্যয়বহুল এবং ঝামেলার কাজ। কেউই এক কথায় যাত্রীর গন্তব্যে যেতে চায় না, যারা যেতে চায় তারা ভাড়া হাঁকে বেশি, মিটারের চেয়ে ১০-২০ টাকা বেশিতেও নয়। দরদাম করতে হয় অনেকক্ষণ। তারপর উঠে বসার সঙ্গে সঙ্গে চালক জানিয়ে দেয়, পথে পুলিশ ধরলে বলতে হবে মিটারে যাচ্ছি। একে তো মিটারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হবে, তার ওপর চালকের জন্য মিথ্যাও বলতে হবে! কিন্তু এ নিয়ে রাগ-অভিমানে কোনো লাভ নেই। দিনের পর দিন একপ্রকার অসহায়ের মতোই সিএনজি চালকদের মর্জির ওপর ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে। সিএনজি কিংবা রিকশায় উঠে চালকদের সঙ্গে কথা বলার অভ্যাস অনেকেরই আছে। একটু মুখচোরা স্বভাবের কারণে আমি কারো সঙ্গেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও আগ বাড়িয়ে আলোচনার সূত্রপাত করতে পারি না। তবে কোনো সিএনজি কিংবা রিকশা চালক যেচে কথা বললে আমি হ্যা-হু দু’একটি জবাব দেই। নিজে থেকে আলোচনা জমানোর তাগিদ অনুভব করি না। গত ১৬ জুন অফিস যাওয়ার জন্য মালিবাগ মোড়ে হাতের ইশারায় একটি খালি সিএনজি থামিয়ে লালমাটিয়া যাবেন কিনা জানতে চাইলে এক কথায় রাজি হলেন চালক। ভাড়া কত নেবেন জিজ্ঞাসা করায় জবাব দিলেন, আপনি নিশ্চয়ই আপনার গন্তব্যে যাওয়ার ভাড়া জানেন। যে ভাড়ায় অন্যদিন যান সেই ভাড়াই আমাকে দেবেন। সিএনজি চালককে একটু ভিন্নরকম মনে হলো। তারপরও বললাম, যাওয়ার পর আমি যে ভাড়া দেবো তাতে যদি আপনার মনে হয় যে আপনাকে আমি ঠকালাম, তখন তো ঝামেলা হবে। সিএনজি চালক বলেন, আমি ঝামেলার লোক না। আমাকে দুই টাকা কম দিয়ে আপনি বড়লোক হবেন না। আবার আপনার কাছ থেকে দুই টাকা বেশি নিয়ে আমিও বড়লোক হতে পারবো না। দুই টাকা কম-বেশিতে কেউ কারো ‘কপাল’ কেড়ে নিতে পারে না, তারপরও মানুষ এ নিয়ে ঝামেলা করে, কিন্তু আমি সেই দলে নেই। আমি বিশ্বাস করি, আমার যাত্রী আমার সঙ্গে বেইনসাফি করবে না। সিএনজি চালকের এত লম্বা বয়ান শুনে মনে হলো, সত্যি লোকটা একটু আলাদা। ভাড়া নিয়ে আর কোনো কথা না বলে তাড়াতাড়ি সিএনজিতে উঠে বসলাম। ইদানীং লক্ষ্য করছি ঢাকা শহরে যানজট যেন একটু কমেছে। মালিবাগ থেকে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরের পেছনের রাস্তা লালমাটিয়ায় যেতে মাসকয়েক আগেও যেখানে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় লাগতো এখন সেখানে ২০-২৫ মিনিটেই পৌঁছতে পারছি। অবশ্য হরতালের দিন রাস্তা ফাঁকা থাকে বলে ১৫ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছা যায়। হরতালের দিন ভাড়াটাও তুলনামূলক কম থাকে। যাহোক, এটুকু সুবিধার জন্য কেউ নিশ্চয়ই ঘন ঘন হরতাল চাইবেন না। হরতালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই বেশি হয়। দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হয়। হরতালের চাপ সহ্য করার অবস্থা আমাদের দেশের না থাকলেও রাজনীতিবিদরা দেশবাসীর ওপর হরতাল চাপিয়ে দেন। অনিচ্ছুক জনগণ সেই চাপ বহন করতে বাধ্য হয়। ১৬ জুনও হরতাল হতো, যদি না আগের দিন চারটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ না করতেন। ১৫ জুন খুলনা, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়ে বিএনপি তথা ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয় অর্জন করায় দেশবাসী একটি হরতালের ধাক্কা থেকে রেহাই পেয়েছেন। এজন্য অভিনন্দন কার প্রাপ্য— বিএনপি নাকি চার সিটির ভোটারদের? মালিবাগ মোড় থেকে কিছুটা এগিয়েই সিএনজি চালক আমার দিকে না তাকিয়েই কিছুটা যেন স্বগতোক্তি করে বললেন, আওয়ামী লীগ এবার ‘শ্যাষ’। তার এই ‘শ্যাষ’ কথাটা কেন যে কানে খুব বাজলো। চুপ থাকতে না পেরে বললাম, শেষ মানে? তিনি এবার তার বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেন। প্রথমেই বললেন, আমাকে লীগবিরোধী ভাববেন না। আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। সবসময় আওয়ামী লীগকেই ভোট দিয়েছি। আওয়ামী লীগের জন্য দরদ-ভালোবাসা বড় বড় নেতানেত্রীদের চাইতে আমার কোনো অংশেই কম না। তবে তফাত্ এটাই যে, নেতারা দল ভালোবাসেন কিছু পাওয়ার বিনিময়ে আর আমরা ভালোবাসি কোনোকিছু না পেয়ে, এমনকি পাওয়ার প্রত্যাশা না করে। আওয়ামী লীগের এত বড় দরদি হয়েও আপনি কেন বলছেন যে, আওয়ামী লীগ ‘শ্যাষ’— জানতে চাই। সিএনজি চালক আবার বলতে থাকেন, গতকাল যে ভোট হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। অনেককেই বলতে শুনছি, আগামী জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ হারবে। আর এবার আওয়ামী লীগ হারলে তাদের খবর আছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াতকে যেরকম তাড়া করেছে, আওয়ামী লীগ তাদের কাছে তার চেয়ে বেশি তাড়া খাবে। বিএনপি-জামায়াত এইবার আওয়ামী লীগকে ‘শ্যাষ’ করে ছাড়বে। সেজন্যই বলছি আওয়ামী লীগ শ্যাষ। আওয়ামী লীগ ভক্ত সিএনজি চালককে আশ্বস্ত করার জন্য আমি বলি, মাত্র চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফলাফল দেখে এত হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের পরিস্থিতি পরিমাপ করা যাবে না। চার সিটির কয়েক লাখ ভোটার আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে বলেই সারা দেশের কোটি কোটি ভোটার মুখ ফিরিয়ে নেবে—এমন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। তাছাড়া এই পরাজয় থেকে নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগ শিক্ষা নেবে এবং জাতীয় নির্বাচনের যে কয় মাস বাকি আছে, তাকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করবে। আমার এই বক্তব্যে সিএনজি চালক উত্সাহিত হলো বলে মনে হলো না। কিছুটা নিস্পৃহভাবেই বললেন, আপনার কথা যদি ঠিক হতো, তাহলে আমার মতো সাধারণ আওয়ামী লীগ সমর্থক অনেকেই হয়তো খুশি হতো। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে ছুটির ঘণ্টা বাজার সময় হয়ে গেছে। চারদিকে কান পাতলে সরকার সম্পর্কে ভালোর চেয়ে খারাপ কথাই বেশি শুনছি। আমার গাড়িতে প্রতিদিন যেসব ‘ভদ্রলোক’ যাত্রী ওঠেন, তাদের বেশিরভাগই তো বলেন, আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আপনাদের মতো ভদ্রলোকরা যদি এভাবে বলতে থাকেন, তাহলে আমরা আশা পাই কীভাবে? ভদ্রলোকদের কথায়ই তো সাধারণ ভোটাররা প্রভাবিত হয়। আওয়ামী লীগ এবার ক্ষমতায় আসার পর মানুষের মধ্যে যতটা উত্সাহ-উচ্ছ্বাস দেখেছি, এখন আর তা দেখা যাচ্ছে না। আমি আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক হলেও আওয়ামী লীগের অনেক কাজকর্ম আমারও ভালো লাগে না। প্রতিদিন দুতিনটি সংবাদপত্র পড়ি। বিভিন্ন লেখকের কলাম পড়ি। দেশের কথা, রাজনীতির কথা, দলের কথা জানতে চেষ্টা করি। কিন্তু আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু খুঁজে পাই না। এ ওরে দোষ দেয়, ও এরে দোষ দেয়। তারপরও আমার এতদিন মনে হয়েছে, আওয়ামী লীগ আবার ভোটে জিতবে। দুই মেয়াদে আমাদের দেশে কোনো দল সরকার গঠন করতে পারে না বলে যে কথা চালু আছে সেটা মিথ্যা প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করবে। কিন্তু গতরাতে চার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ফল দেখে আমি হতাশ হয়েছি। মনে হচ্ছে, ভদ্রলোকদের প্রচার কি সত্য না হয়ে পারে। আওয়ামী লীগ আর ভোটে জিতবে না বলে আপনাদের মতো ভদ্রলোকরা যে প্রচার চালাচ্ছেন, তা অসত্য হয় কীভাবে? আমি বলি, সময় শেষ হয়ে যায়নি। জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল এরকম না-ও থাকতে পারে। আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই সিটি নির্বাচনে তাদের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করবে। ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে নতুন উদ্যমে মাঠে নামবে। মানুষের কাছে যাবে। আমার কথায় সিএনজি চালক খুব আশ্বস্ত হলেন বলে মনে হলো না। তিনি বললেন, গ্রাম দেশে একটি প্রবাদ আছে, জয়কালে ক্ষয় নাই, মরণকালে ওষুধ নাই। সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগের জয়কাল বোধহয় শেষ। এরপর সিএনজি চালক আমার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, আচ্ছা সত্যি বলেন তো, গত সাড়ে চার বছরে আওয়ামী লীগ কি ভালো কাজ বেশি করেছে, না খারাপ কাজ বেশি করেছে? আমি একটু দ্বিধায় পড়ি। ভালো বেশি, না খারাপ বেশি— সেটা কি আমিও পরিমাপ করে দেখেছি? তাছাড়া আমার বিবেচনার সঙ্গে আরেক জনের বিবেচনা মিলে যাবে, তাই বা কি করে আশা করি? আমি যদি বলি এই সরকার ক্ষমতায় এসে দেশে বিদ্যুতের উত্পাদন বাড়িয়ে ঘাটতি কমিয়ে এনেছে। লোড শেডিংয়ের মাত্রা কমেছে। তাহলে আরেকজন হয়তো বলবে, এর জন্য দেশের মানুষকে খেসারত কত বেশি দিতে হচ্ছে, তার হিসাব কে করবে? যদি বলি শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য চোখে পড়ার মতো, তাহলে আরেক জন হয়তো বলবেন, শুধু সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়েই কি শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করা যায়? সে জন্য সিএনজি চালকের প্রশ্নের উত্তরে কোনো ধরনের বিতর্কের মধ্যে না গিয়ে আমি মধ্য পথ গ্রহণ করি। বলি, এই সরকার ভালো কাজও যেমন করেছে, তেমনি খারাপ কাজও করেনি তা নয়। সমস্যা হলো, মানুষ ভালো কাজের জন্য সরকারের প্রশংসা না করলেও খারাপ কাজের সমালোচনা ঠিকই করে। তাছাড়া মানুষ হয়তো মনে করে যে, ভালো কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই তো সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই ভালো কাজ করা বা উন্নয়নমূলক কাজ করা সরকারের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করার জন্য সে মানুষের কাছে প্রশংসা প্রত্যাশা করবে কেন? সরকার তো ভোটের আগে বলেনি যে আমরা এই এই খারাপ কাজ করবো। সে জন্যই খারাপ কাজ করলে মানুষ সরকারের সমালোচনা করে। সরকারের মন্দ কাজের সমালোচনা বেশি হয়। মানুষ বিরূপ হয়। এবারও তাই হচ্ছে। তাছাড়া কিছু বিষয় আছে, যেগুলো করা না করার সঙ্গে সাধারণ মানুষের লাভ-ক্ষতির সম্পর্ক কম। সে ধরনের কাজে যদি সরকার অকারণে উত্সাহী হয়ে ওঠে তাহলে মানুষ তা ভালোভাবে নেয় না। যেমন ধরুন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে সরকার যা সব করেছে বেশিরভাগ মানুষের কাছে তা ভালো লাগেনি। ড. ইউনূস দেশের একজন সম্মানিত নাগরিক। তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়ে বাইরের দুনিয়ায় বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তাঁকে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে সরকার যেরকম লড়াইয়ে নেমেছে, তাতে মানুষ সরকারকে প্রতিহিংসাপরায়ণ ভেবেছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। একইভাবে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরকারের ভূমিকা মানুষকে খুশি করতে পারেনি। মানুষ মনে করেছে, সরকার কিছু আড়াল করতে চাইছে। সরকারের রাখঢাক নীতি এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে তাদের রক্ষা করার জন্য সরকারের অতি উত্সাহ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। সরকার সমর্থক বিভিন্ন সংগঠনের বাড়াবাড়ি, বিশেষ করে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে না পারা, বিশ্বজিতের হত্যাকারীদের ধরার ব্যাপারে গড়িমসি এবং সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের ভূমিকা রহস্যময় মনে হওয়ায় মানুষ ধরে নিয়েছে যে, যারা বিতর্কিত, যারা মানুষের চোখে খারাপ তাদের পক্ষ নেয়াটাই যেন সরকারের কাজ। এবার সিএনজি চালক বললেন, আপনার কথা থেকেও কি এই সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে যে, আগামী নির্বাচনে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নেয়া সরকারের পক্ষে খুব সহজ হবে? আমি বলি, সহজ তো অবশ্যই নয়। তবে রাজনীতিবিদরা তো আর কঠিন পথের তোয়াক্কা করেন না। আওয়ামী লীগের মতো দেশের সবচেয়ে পুরনো একটি রাজনৈতিক দলে অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও দক্ষ নেতাকর্মীর অভাব নেই। তারা সবাই যদি এক হয়ে কাজ করেন তাহলে পরিস্থিতি বদলাবে না কেন? সিএনজি চালক আর বেশি কিছু বলার সুযোগ পেলেন না। কারণ এর মধ্যেই আমি আমার গন্তব্যে পৌঁছে গেছি। আমি সিএনজি থেকে যখন নামছি, তখন শুনলাম, তিনি যেন নিজের কাছে নিজেই প্রশ্ন করছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কি হবে? যুদ্ধাপরাধের দায়ে যারা অভিযুক্ত তারাই কি আবার রাষ্ট্র ক্ষমতার অংশীদার হবে? তারেক রহমানের মতো একজন অতি আলোচিত-সমালোচিত বিতর্কিত ব্যক্তি যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হন তাহলে দেশ কীভাবে এখনকার চাইতে ভালো চলবে? দেশে কি সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে না? এবার বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠবে, তার কিছু নমুনা তো গত কয় মাসে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখিয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের এই হিংসা-হানাহানির রাজনীতি মানুষের রাজনৈতিক সমর্থন পাবে? এরকম প্রশ্ন হয়তো ওই সিএনজি চালকের মতো আরো অনেক মানুষের মনেই আছে। কিন্তু সিটি নির্বাচনের ভোটে তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। জাতীয় নির্বাচনে দেখা যাবে তার নিশ্চয়তা কি? লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক ই-মেইল :[email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন