মংলা শহর রক্ষা বাঁধ

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৩, ২১:২৯
মংলা আমাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর। কিন্তু ইহার পাদদেশে অবস্থিত শহরটি খুবই অবহেলিত। ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক খবর হইতে জানা যায়, সুদীর্ঘ ৩৮ বত্সরেও বন্দর শহর মংলায় কোন শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয় নাই। এই শহরটিকে ঘিরিয়া রহিয়াছে পশুর ও মংলা নদীসহ অসংখ্য খাল। ফলে প্রতি বত্সর বর্ষা মৌসুমের অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে এবং নিম্ন ও লঘু চাপের প্রভাবে নদী ও খালের পানি কয়েকগুণ বাড়িয়া যায়। তাহাতে সমগ্র শহর সয়লাব হইয়া পড়ে এবং শহর জুড়িয়া দেখা যায় অসহনীয় জলাবদ্ধতা। শহরের ময়লা-আবর্জনা সেই পানিতে মিশিয়া আরও দুর্বিষহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ইহাতে শহরবাসীর দুর্ভোগ ও দুর্ভাবনার কোন সীমা থাকে না। বিভিন্ন সময় সরকার ও পৌর কর্তৃপক্ষ জোয়ারের পানির প্লাবন হইতে শহরবাসীকে রক্ষায় প্রধান প্রধান রাস্তাঘাট কয়েক দফা উঁচু করিলেও তাহা ফলপ্রসূ হয় নাই। সেসব রাস্তা ভাঙিয়া এখন পানি শহরে প্রবেশ করে অনায়াসে। ইহার স্থায়ী সমাধান করিতে হইলে বাঁধ নির্মাণের কোন বিকল্প নাই। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে শহরে জোয়ারের প্লাবন রোধে ভেড়ি বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাঝপথে আসিয়া তাহা থামিয়া যায়। বিদেশি সাহায্যে ঐ ভেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হইয়াছিল। তবে নানা জটিলতার কারণে তাহা আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় নাই। জটিলতার কারণ যে প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ না পাওয়া তাহা বুঝিতে কোন অসুবিধা হয় না। দেখা যাইতেছে, বিদেশি অনুদান ছাড়া আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি বাঁধ বা কালভার্টও ঠিকমত নির্মাণ করিতে পারি না। অথচ আজকাল বড় বড় সেতু নির্মাণে নিজস্ব অর্থায়নের উপর জোর দেওয়া হইতেছে। এই যখন পরিস্থিতি, তখন মংলা পৌরসভার মেয়র আশ্বাস দিয়াছেন যে, ৫০ বত্সরের উপযোগী করিয়া আগামী এক বত্সরের মধ্যে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ হাতে নেওয়া হইবে। কিন্তু তিনি কোথা হইতে অর্থ পাইবেন সে ব্যাপারে পরিষ্কার করিয়া কিছু বলেন নাই। বলাবাহুল্য, বাংলাদেশে অর্থ সংস্থানই এই ধরনের উন্নয়নের প্রধান প্রতিবন্ধক। আগে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ বলিয়া বিদেশি সাহায্য-সহযোগিতা বেশি করিয়া পাইতাম। কেননা তাহারা আমাদের সেভাবেই চিনিতেন ও জানিতেন। এখন আমাদের হইয়াছে গরীবের ঘোড়ারোগ। আমাদের অর্থ না থাকিলেও আমরা এমন আচরণ ও হাবভাব করিতেছি যেন আমাদের অর্থের কোন অভাব নাই। অর্থাত্ অর্থ কোন সমস্যাই নয়। সেই সঙ্গে শক্তিশালী দেশকে হুমকিও দিতেছি নানান কথাবার্তায়। এই করিয়া আমরা আমাদের পায়েই কুড়াল মারিতেছি। মংলা শহর রক্ষা বাঁধসহ এই সমস্যা অনেক শহরেই আছে। আছে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কারের অভাব ও সংকট। এই ধরনের গণমুখী উন্নয়নের জন্য দরকার প্রচুর অর্থ। সেই অর্থ জোগাড় না করা পর্যন্ত সংবাদপত্রে এই ধরনের জনদুর্ভোগের খবর আসিতেই থাকিবে। আমরা মনে করি, বাঁধ নির্মাণে অসমর্থ হইলে জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বদলে কোন প্রতিশ্রুতি না দেওয়াই উত্তম। তবে যেহেতু বন্দর শহর মংলার অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীিম, তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শহরটির বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন