শুরুতেই আমি বলবো মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার আগে অবশ্যই লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট করে নিতে হবে। হ্যাঁ, আমি মেডিকেলে পড়তে চাই, ডাক্তার হতে চাই-ভেতর থেকে এই আগ্রই যদি না আসে, তবে তা প্রস্তুতিকে বাধাগ্রস্ত করবে। যদি অন্য বিষয়ে আগ্রহ থাকে , তবে বাবা-মার সঙ্গে আলোচনা করে সে বিষয়েই পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে প্রস্তুতি নেয়া ভালো। যেহেতু সময় কম, এক্ষেত্রে দু’ নৌকায় পা দিয়ে চলতে গেলে পা ফসকানোর আশঙ্কা বেশি থাকে। সুতরাং মেডিকেলে পড়তে চাওয়ার ইচ্ছেটা প্রথমেই মনের ভিতর থেকে আসতে হবে।
সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অবশ্যই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতকার্য হতে হবে।
এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষা মিলিয়ে জিপিএ ৮.০০ পেতে হবে।
এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় জীববিজ্ঞান বিষয়সহ অবশ্যই ৩.৫০ (জি.পি.এ) থাকতে হবে।
যে নিয়মগুলো মেনে চলাটা জরুরী:
একজন ছাত্রের কাছে এখন সময় খুবই কম, কিন্তু সিলেবাস পাহাড়সম। বিশেষ করে পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞানের মোট ৬ টি বইয়ের খুঁটিনাটি মাথায় রাখাটা আবশ্যক। ভর্তি পরীক্ষায় আগে ব্লগিং , আড্ডা, এ বিষয়গুলোকে আগামী তিন-চার মাসের জন্য শেলফে তুলে রাখতে হবে।
কোন কোচিং সেন্টারে ভর্তি না হলে শান্তি পাওয়া যায় না। বন্ধু- বান্ধবরা সব ভর্তি হয়েছে, আর আমি হবোনা, তা- তো হয়না। কিন্তু আমার মতে কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে এত টাকা, যাতায়াত কষ্ট, সময় নষ্ট-এগুলো না করে সেই শ্রম এবং সময়টা বাসায় কাজে লাগানো জরুরী। অনেকে হয়তো বলবে যে, কোচিং সেন্টারগুলোতে ভর্তি হলে পড়া ঠিক মতো হয়, পড়ার চাপ থাকে, পরীক্ষাগুলো দেয়া হয়, আইডিয়া বাড়ে ইত্যাদি কথা। কিন্তু আমার সাজেশন হলো, মডেল টেস্টগুলো দেওয়াটা জরুরী। ভর্তি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত চলা এসব বিভিন্ন কোচিং এর মডেল টেস্টগুলোর প্রশ্নগুলোর প্রশ্নপত্র টাকা দিলেই কিনে নেওয়া যায় কোচিংগুলো থেকে।
তারপর বাসায় বসে ফটোকপি করা ও .এম.আর শিটের মধ্যে ঘড়ি ধরে পরীক্ষাগুলো দেয়াটা জরুরী। এর চেয়ে ভালো হল বন্ধুদের কাজে লাগানো, ওরা আছে কি করতে যদি প্রশ্ন কিনতেই হয়?
মেডিকেল ভর্তির জন্য যেকোন এম.সি.কিউ পরীক্ষা দেবার পর সেটার ফিডব্যাক নেয়া এবং সঠিক উত্তরটি বই থেকে দেখে নেয়াটা জরুরী।
বিষয়ভিত্তিক পড়ার টেকনিক
সাধারণ জ্ঞান: সাধারণ জ্ঞান বই থেকে বাংলাদেশ বিষয়াবলি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি দেখে নাও। এই বইটির শেষে বিসিএস, পুলিশে ভর্তি, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ইত্যাদি যত প্রশ্ন আছে, সব মুখস্ত করে ফেলো। তারপর ধীরে ধীরে এই বইয়ের অন্যান্য বিষয়গুলোতে চোখ বুলুয়ে নাও।
ইংরেজি: বিগত বছরগুলোতে মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রশ্নপত্রে যেসব বিষয়ের ওপর ইংরেজি প্রশ্নগুলো (যেমন Voice, Narration, Synonym ইত্যাদি), সেগুলো সমাধান করার পাশাপাশি ভালো কোন গ্রামার বই থেকে ওই বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পড়তে হবে।
পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গাণিতিক সমস্যা: পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গাণিতিক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বিগত দশ বছরের মেডিকেল এবং ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর মুখস্ত করতে হবে। প্রতিদিন ২০০ প্রশ্নের উত্তর গাইড বই দেখে দাগিয়ে সোজা মুখস্ত করে ফেলতে হবে এবং বিগত দশ বছরের এই প্রশ্ন যথাসম্ভব বার বার রিভিশন দিতে হবে।
ফাইনাল পরীক্ষার আগের দিন
মূল পরীক্ষায় কমপক্ষে ২ দিন আগে প্রিপারেশন শেষ করা জরুরী। ফাইনাল পরীক্ষার ঠিক আগের দিনটিতে পড়ালেখা করার কোন দরকার নেই। রিল্যাক্স মুডে থাকো। নিজের সিট কোথায় পড়লো, সেটা একবার দেখে আসাটা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ ফাইনাল পরীক্ষার দিন সকালে তাহলে আর টেনশনে পড়তে হবে না।
অনুশীলন পাতা সম্পর্কে আপনার যেকোনো পরামর্শ জিজ্ঞাসা ও মতামত জানাতে
ফোন ০১৭১৪৭০৫৭২৭ অথবা ই-মেইল anushilon.
ittefaq10
@gmail.com
