ক’মাস আগেও দেশের রাজনীতি যেভাবে নিরন্তর সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল তাতে জনমনে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রায় উঠেই যেতে বসেছিল, অজানা আতঙ্কে মানুষ ভবিষ্যত্ নিয়ে স্বপ্ন দেখা প্রায় ছেড়েই দিতে বসেছিল। দেশের রাজনীতি তখন মনে হচ্ছিল সত্যিই এক অজানা গন্তব্যের দিকেই ধাবিত হচ্ছিল। সীমাহীন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল চারদিকের পরিবেশ। এখন মনে হচ্ছে তাতে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে ৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ আরও কিছু ছোটখাটো পৌর নির্বাচন। সম্মুখে আগামী ৬ জুলাই হতে যাচ্ছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এসব নির্বাচন যেন এক পশলা ঘন বৃষ্টির দারুণ স্বস্তি নিয়ে এসেছে দেশের উত্তপ্ত সংঘাত-সংঘর্ষের রাজনীতিতে। তাতে জনজীবনে এ মুহূর্তে কিছুটা হলেও শান্তি বিরাজ করছে যদিও বড় ধরনের শঙ্কা রয়ে গেছে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে— যা আর মাত্র ৬ মাস পরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি, কাটবে কিনা তাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। তবে এ মুহূর্তে দেশের রাজনীতি পৌর, সিটি আর একটি উপ-নির্বাচনের দোলাচলে দুলছে। কিশোরগঞ্জ উপ-নির্বাচনে যদিও বিরোধী দল বা জোট অংশ নেয়নি, তথাপি অঘোষিতভাবে তারা আওয়ামী লীগেরই একজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সেখানেও নির্বাচনকে জমিয়ে তোলার পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। ফলে এ মুহূর্তে দেশ কিছুটা হলেও রাজনৈতিক সংঘাত থেকে মুক্ত আছে।
তবে যে বিষয়টি গভীরভাবে লক্ষণীয় তা হচ্ছে গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত ৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সরকার এবং বিরোধী দলের অনেক ধারণাই পাল্টিয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত আরো কিছু পৌর নির্বাচনও তাতে যুক্ত হয়েছে। তাতে বিরোধী শিবিরে উত্তেজনা কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়েছে, সরকারি দল বা জোটেও বাহ্যত প্রশান্তি লক্ষ্য করা গেলেও ভেতরে ভেতরে অস্বস্তি বেড়েছে। বিরোধী দল ভাবতে পারেনি স্থানীয় নির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও সর্বত্রই জাতীয় রাজনীতির নানা ইস্যু এবং আরো কিছু বিষয় ভোটের ফলাফলে এভাবে প্রভাব বিস্তার করবে। বিরোধী দলের চোখ খুলে দিয়েছে এসব নির্বাচন। বিশেষত বিএনপি ভাবতে পারেনি ৪ সিটি কর্পোরেশনে তাদের সমর্থিত প্রার্থিগণ এতো সহজ বিজয় লাভ করবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ভাবতে পারেনি ঐ ৪ সিটি কর্পোরেশনে তাদের মেয়রগণ এতো ভালো কাজ করার পরও ভোটারগণ তাদের এভাবে বিজয় বঞ্চিত করবে। বিষয়টি সরকার এবং ১৪ দলীয় জোটকে বেশ ভাবিয়ে তুলছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট এবং মহাজোটের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ভীষণভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি গাজীপুরেও প্রার্থী সমর্থন দান নিয়ে আওয়ামী লীগই লেজেগোবরে অবস্থায় আছে, জাতীয় পার্টির একাংশ ১৪ দলে তো অন্য অংশ ১৮ দলে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও ৪ সিটি, গাজীপুরসহ প্রায় সবক’টি নির্বাচনই দেশের মানুষের গভীর মনোযোগে রয়েছে। নির্বাচনগুলো উত্সবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, টান্ টান্ উত্তেজনা এবং স্বতঃস্ফূর্ততায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে যে ক’টি শেষ হয়েছে সেগুলোর প্রত্যেকটিই অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে সর্বত্র স্বীকৃতি পেয়েছে। এতো ছোট স্থানীয় নির্বাচন এভাবে জাতীয় পর্যবেক্ষণে অতীতে আর কখনো হয়নি। এবার হওয়ার বেশকিছু কারণ রয়েছে। কারণগুলোও সকলের জানা বিষয়। বিশেষত জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সকলেরই আগ্রহ এগুলোর প্রতি অনেক বেশি রয়েছে। দ্বিতীয় যে কারণটি রয়েছে তা হচ্ছে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বাস্তবতা দেশে কতোটা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন সে রকম নির্বাচন অনুষ্ঠানে কতোটা সক্ষমতা ও দক্ষতা অর্জন করেছে তা দেখবার বিষয়। অন্যদিকে সরকার অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার পরিবেশ সৃষ্টির দাবি করছে তার ভিত্তি পরখ করে দেখারও বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জুন মাসটা নানা নির্বাচনে বেশ ভালোই কেটেছে। আমি বলবো, প্রচণ্ড খরতাপে এক পশলা বৃষ্টিতে যেভাবে স্বস্তি নিয়ে আসে অনেকটা যেন তেমনই পরিবেশ ফিরিয়ে দিয়েছে। এমনটিই তো হওয়া এবং থাকা স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে লালন করা তীব্র বিরোধ, প্রতিহিংসা, অবিশ্বাস ও অনাস্থার বিষয়গুলোকে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাজনীতিতে ছড়িয়ে দিয়ে দেশের রাজনীতিকে প্রায় সবসময়ই দ্বন্দ্ব ও সংঘাতময় করে রাখে, হরতাল, ভাংচুর, পোড়াপুড়ি ঘটিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তির উন্মত্ততা প্রদর্শন ঘটাচ্ছে। আসলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এ সবের তেমন কোন প্রয়োজনই পড়ে না। জনগণ যে কোনো ভোটের মাধ্যমেই তাদের রায় জানিয়ে দিতে পারে। একটি দল মাসের পর মাস হরতাল ডেকেও সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো অবস্থান যতোটা সৃষ্টি করতে না পারে ছোটখাটো স্থানীয় একটি নির্বাচনই তার চাইতে ঢের বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারে সরকারের ওপরে। এর জ্বলন্ত নজির আমরা হাতেনাতেই পেয়ে গেছি এরই মধ্যে। গত কয়েক মাসের সহিংস ও সংঘাতপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে বিরোধী দল সরকারকে যতোটা দুর্বল করতে পারেনি, তার চাইতে অনেক বেশি করতে পেরেছে কয়েকটি ছোটখাটো নির্বাচনে ভোটারগণই।
উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে বিরোধী দলকে রাস্তায় সংঘাত সংঘর্ষে লিপ্ত থাকতে দেখা যায় না, হরতাল অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর বা পোড়াপুড়িতে ব্যস্ত থাকতেও দেখা যায় না। এখন মিডিয়ার যুগ। মিডিয়ার সম্মুখে সরকার এবং বিরোধী দল প্রতিদিনই কথা বলছে, যার যার বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। জনগণ সবই শুনছে, সরকার এবং বিরোধী দলের কথা এবং কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখছে, কে ভালো করছে, কে খারাপ করছে তা জনগণ প্রতিদিনই দেখছে, বিচার বিশ্লেষণ করছে। ৫ বছর শেষে জনগণ গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় দিয়ে দিচ্ছে। গণতন্ত্র হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার যে দিকে রায় দেয়, ক্ষমতা বা দায়িত্ব সেদিকেই যায়। এভাবেই গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মিত হয়। আমাদের দেশে দীর্ঘদিন নির্বাচন ব্যবস্থায় নানা অনিয়ম ও হস্তক্ষেপ নিরঙ্কুশ ছিল। দেশে নির্বাচন কমিশন সেভাবে তখনও দাঁড়াতে পারেনি। বিশ্বাসযোগ্য ভোটার তালিকাই তৈরি করা যায়নি। সে কারণেই নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ছিল না। তা থেকে দেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাত সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠতো। সরকারগুলো চেষ্টা করতো যেনতেনভাবে নির্বাচন করিয়ে ক্ষমতায় আবার ফিরে আসতে। তবে প্রতিবারই জনগণ তা প্রতিহত করে দিতে মাঠে নেমেছিল। ফলে কোনো সরকারই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কারচুপির আশ্রয় নিতে গিয়ে সুবিধা করতে পারেনি। জনগণ তা প্রতিবারই প্রতিহত করে দিয়েছে। সর্বশেষ ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলেছিল এবং ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করে দিয়েছিল। এরপর দেশে একটি অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বটে, তবে সেই সময়ে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় ঘটানো সম্ভব হয়েছে দীর্ঘ প্রত্যাশিত আমূল সংস্কার। নির্বাচন কমিশন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে একটি ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে অথচ রাজনৈতিক দলগুলো দুই দশকেও এই একটি অতীব জরুরি কাজই করতে দেয়নি নির্বাচন কমিশনকে। এছাড়া আচরণ বিধিসহ আর্থিক আইনগত এবং প্রশাসনিক ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনকে আগে দেওয়া হয়নি যা ২০০৭ পরবর্তী সময়ে শুরু করা গেছে। সেই থেকে নির্বাচন কমিশনের একটি স্বাধীন অস্তিত্ব এবং মর্যাদার যাত্রা শুরু হয়েছে যা গত ৭ বছরে অনেকটাই নির্ভর করার একটি জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, প্রয়োজন ছিল একে প্রতিনিয়ত উন্নত করা, শক্তিশালী করা এর দক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকে উচ্চতর আসনে নিয়ে যাওয়ার মতো কাজ করা। এ ক্ষেত্রে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের দায়-দায়িত্ব ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গত ৫ বছর বিরোধী দল এদিকে কোনো মনোযোগ দেয়নি, একটি দাবিও নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে রাখেনি। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারকে অবশ্যই কৃতিত্ব দিতেই হবে। তারা অতীতের সরকারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি ত্যাগ করেছে, নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব হয়েছে যে গত ৫ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হাজার হাজার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা। বাংলাদেশে এখন নির্বাচন কমিশন প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনেই নিজেদের সক্ষমতা, দক্ষতা, যোগ্যতা এবং গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে পেরেছে। এভাবেই নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠান দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশে তা অনেকটাই ঘটেছে। ফলে কারচুপির নির্বাচন এখন অনেকটাই কারাবন্দী বা জাদুঘরে থাকার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সেখান থেকে ঐ দৈত্যকে আর কেউ ফিরিয়ে আনতে পারবে বলে মনে করি না। তেমন চেষ্টা করলে দেশে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবেই। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে দেশে আগের অবস্থা এখন আর নেই, কারচুপির আশঙ্কা বা অভিযোগ কোনোটিই বাস্তবে ফিরে আনা বা আসার সম্ভাবনা নেই। তবে এরজন্য সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে সজাগ থাকতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে সেভাবে কাজও করতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে। তবেই উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান দেশে সম্ভব হবে? এ ধরনের একটি বাস্তবতায় এই মুহূর্তে দেশের রাজনীতির নিকট ভবিষ্যত্ নিয়ে আশঙ্কা বা আতঙ্কের জায়গাটি আসলে কোথায়, কতটুকু নিহিত এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা চলে যে, সংকটটি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে, জনগণের মধ্যে ততোটা নয়। জনগণ এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, আগামী নির্বাচনে সরকার বা কোনো শক্তিরই প্রভাবিত করার মতো অবস্থা নেই। কিছুই নেই, সেটি যেই সরকারই হোক না কেন, জনগণই নির্বাচনে যে কোনো ষড়যন্ত্র বা কারচুপির চেষ্টা দমিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সেই অবস্থায় সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে এ নিয়ে উত্তেজনা ছাড়ানো, সংঘাত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
যে সরকারই ক্ষমতায় থাকবে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার চ্যালেঞ্জ তার ওপর বর্তাবে, এর এদিক ওদিক কিছু করলে বা ঘটবে সেই সরকার এবং দলের অস্তিত্বসমূহ বিপদে পড়বে। বিষয়টি এখন খুবই পরিষ্কার। কথা হচ্ছে, বাস্তবতাটি বিরোধী দল মনে করে কিনা। করলে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণে তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্যে এতো কিছু করার প্রয়োজন নেই। ভয়ের কোনো কারণ নেই। বরং ক্ষমতাসীন সরকারের সম্মুখে বিরাট নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার শতভাগ দায়িত্ব বর্তাবে এ নিয়ে কিছু ঘটলে সরকারের ওপর সকল দায় চাপানো হবে, যা মস্তবড় বিপর্যয় হিসেবেও দেখা দিতে পারে। জানি না আওয়ামী লীগ সেই বিপদ নিজের ঘাড়ে নিতে পারবে কিনা, নিয়ে টিকে থাকতে পারবে কিনা। কেননা, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সরকার বিরোধী মনোভাব প্রবল থাকে, সে ক্ষেত্রে বিরোধী দল অনেক বেশি সহানুভূতি লাভ করে। জনমনস্তত্ত্বের এমন বাস্তবতা দ্রুত কাটবে বলে মনে করি না। তবে এবার আওয়ামী লীগের জন্যে সুখকর নাও হতে পারে। অথচ আওয়ামী লীগ অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান নির্বাচিত সরকার হিসেবে নিজের ঘাড়ে নেওয়ার। তাতে আওয়ামী লীগ দল হিসেবে বিপদে পড়লেও তা সাময়িক হবে। আখেরে দেশ গণতন্ত্রে উত্তরণে বড় ধরনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে। রাজনৈতিক মহল বিষয়টি সেভাবে আদৌ বিবেচনা করে কিনা জানি না। আওয়ামী লীগের বোধ হয় সেই ধারণাও জনমনে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা হলেই সম্মুখের রাজনীতির দোলাচলের স্বরূপটি ধীরে ধীরে উদ্ভাসিত হতে পারে।
লেখক :অধ্যাপক, ইতিহাসবিদ
