আলোকপাত

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৯
পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হলো রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যা বলেন তা করেন, জনগণের কাছে দেয়া তার অঙ্গীকার পূরণে তিনি আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান। দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের প্রাণের দাবি হলো পদ্মা সেতু। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে পদ্মা সেতু নির্মাণের অঙ্গীকার করেছিল। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। এ লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়। বিশ্বব্যাংক, এডিপি এবং জাইকা পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, যুদ্ধাপরাধী, সুদ ব্যবসায়ী এবং লুটেরারা পদ্মা সেতু যাতে না হয় সেজন্য চক্রান্তে মেতে ওঠে। শুরু হয় পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেয় পদ্মা সেতুর প্রধান দাতা বিশ্বব্যাংক। যে প্রকল্পের কাজই শুরু হয়নি সেই প্রকল্পের দুর্নীতির ধুয়া তুলে অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের ভিত্তিতে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেয় সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশন। বিশ্বব্যাংক কোন তথ্য-উপাত্ত না দিলেও নিজ উদ্যোগে তদন্ত শুরু হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণে আন্তরিক সরকার অভিযোগ উত্থাপনের সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফিরে এসেও আবার ঋণ সহায়তা বন্ধ করেছে। এতে মনে হয় বিশ্বব্যাংকের একমাত্র লক্ষ্যই ছিলো পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাস্তবায়নকে প্রলম্বিত করা, যেন এই সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণ না করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আলোকবর্তিকা। জনগণের ক্ষমতায়নই তার রাজনীতির একমাত্র দর্শন। আর এই দর্শনের জন্যই তিনি জনগণের কল্যাণে নিজের জীবনকে উত্সর্গ করেছেন। এজন্যই জনগণের সুবিধার জন্যই তিনি তার অঙ্গীকার পূরণে দৃঢ়চিত্র অবস্থান গ্রহণ করেন। দেশি-বিদেশি চক্রান্তে যখন পদ্মা সেতুর ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত তখন প্রধানমন্ত্রী জাতিকে দিলেন নতুন দিক-নির্দেশনা। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ এখন যে নতুন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তা তিনি মনে করিয়ে দিলেন। ঘোষণা করলেন, নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর। বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। গত চার বছর টানা ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ। দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বের সবচেয়ে অগ্রসরমান দেশ। বাংলাদেশের রেমিটেন্স প্রবাহ ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বাংলাদেশ এখন খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশ নয়। তাই নিজের অর্থে পদ্মা সেতু এখন বাংলাদেশের জন্য স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। বাঙালি বীরের জাতি, যে জাতি ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছে সে জাতি যে নিজের অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারে নিশ্চয়ই। আমাদের গর্বের, অহংকারের পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। যে অপশক্তি পদ্মা সেতু নির্মাণকে বাধাগ্রস্ত করেছে সেই অপশক্তি যদি আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে তাহলে পদ্মা সেতু কোন দিনই সম্পন্ন হবে না। লেখক :চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন