জাতিসংঘে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে নালিশ করবে বলিভিয়া

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৩, ২০:৫১
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনকে বহনের সন্দেহে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসকে বহনকারী বিমানকে ইউরোপের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমায় ঢুকতে না দেয়ায় এর বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নালিশ করবে বলিভিয়া। ফ্রান্সের বিমানবন্দরে বিমান নামতে না দেয়ায় ইতোমধ্যে বলিভিয়ার কাছে ক্ষমা চেয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। ফ্রান্স, পর্তুগাল, স্পেন, এবং ইতালি তাদের আকাশসীমায় মোরালেসকে বহনকারী বিমানটিকে প্রবেশ করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে বলিভিয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর এ ধরনের আচরণের সমালোচনা করে বলিভিয়া একে ‘আগ্রাসী কাজ’ বলে মন্তব্য করেছে। জাতিসংঘে বলিভিয়ার দূত সাচা লরেন্টি জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর এ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নালিশ করবেন। তিনি আরো জানান, ‘এ দেশগুলোর সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। আমরা জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে এর নিন্দা জানানোর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু করেছি।’ প্রসঙ্গত, ইভো মোরালেসকে বহনকারী বিমানটির মধ্যে স্নোডেন রয়েছেন এমন গুজবের উপর ভিত্তি করে গত মঙ্গলবার ফরাসি কর্তৃপক্ষ বিমানটিকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়। বিমানটি মস্কো থেকে বলিভিয়া ফিরছিল। এরপর সেটি অস্ট্রিয়ায় জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। কিন্তু অস্ট্রিয়া পরে জানায়, বিমানটিতে স্নোডেন থাকার তথ্যটি ছিল আসলে গুজব। স্নোডেন রাশিয়ার শেরেমেতেভো বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকা ছেড়েছেন এমন কোনো নজির দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা। এদিকে, ফ্রান্সের বিমানবন্দরে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসকে বহনকারী বিমান নামতে না দেয়ায় ইতোমধ্যে দেশটির কাছে ক্ষমা চেয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনার জন্য তারা সাবেক মার্কিন সিআইএ কর্মকর্তা এ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন বিষয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারকে দায়ী করেছে। ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওঁলাদ বার্লিনে বলেন, যখন তিনি জানলেন যে বিমানটিতে মোরালেস রয়েছেন তখনই যত দ্রুত সম্ভব তিনি সেটিকে বিমানবন্দরে নামার অনুমতি দেন। একই বিষয়ে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সে দেশে থাকা বলিভিয়ার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আনুষ্ঠিকভাবে ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এদিকে ওই ঘটনা এরই মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে ল্যাতিন আমেরিকা অঞ্চলে। এ বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল, ইকুয়েডরের রাষ্ট্রপ্রধানেরা।