১৯৮৬ সালে ইন্দোনেশিয়ায় এক ট্রেনিংয়ে পাওয়া ব্রুনেই’এর হাজ্জা’র। হাজ্জা নওরশিদা এখন আমাদের দেশের মেয়েদের কেউ কেউ যেমন পরতে শুরু করেছে, সুন্দর করে সেলানোতুনানো ও চমত্কার ফুল পাখির কাপড়ে টাইটফিট ডিজাইন করা পরিচ্ছদ, তেমন সব আবরণে সে নিজেকে ঢেকে রাখতো। সেটি ছিল তার আভরণও। সেই হাজ্জাকে একদিন এক ট্রেইনি বলেছিল, হাজ্জা তুমি খুব সুন্দর। একটুও নার্ভাস হয়নি সে। বলেছিল, ও: রিয়েলি! থ্যাঙ্ক য়্যু।
তোমার চুলগুলো না জানি আরও কত সুন্দর!
কিন্তু, সেতো তুমি তোমার লাইফটাইমেও দেখতে পাবে না।
তবে, মেয়েটি বড় আধুনিক ছিল। যে বিষয়গুলো সে আমাদের সঙ্গে ডিসকাস করতো, বাহনে ও বেঞ্চিতে যেভাবে আমাদের পাশে বসতো, যেভাবে আমাদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতো অথবা কখনও কো-পার্টিসিপেন্টদের কারও হাতের স্পর্শ লেগে গেলেও অস্বাভাবিক রকম স্বাভাবিক থাকতে পারতো, মনে হতো, পোশাকে-লেবাসে সে অষ্টাদশ শতাব্দীর, কিন্তু আচরণে একবিংশের।
ওর সঙ্গে আমার একটা স্মৃতি বড় অন্যরকম। একদিন কুড়ি দিনের ট্রেনিংয়ের একদিন, আমরা মাইক্রোবাসে পাশাপাশি বসেছিলাম। জাকার্তার এক কোণ থেকে আরেক কোণে যাচ্ছিলাম। আমি কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঝিমুতে শুরু করলাম। পুরনো স্বভাব। এখনও বহাল আছে। ঘুমের ঘাটতি থাক না থাক, ভিন্ন কথা, গাড়িতে ঘুম আমার পাবেই পাবে, সে আমার নিত্যসঙ্গী হবেই হবে। সে তার সোহাগিস্পর্শ আমাকে দেবেই দেবে।
কখনও কখনও বাসের রঙ ধরা অবস্থায় নিদ্রা নামের চিরতরুণী এই দেবিকা তার নিষিদ্ধ পরশও আমাকে দিয়ে গেছে। আমার ঝিমুনি দেখে হাজ্জা যা বললো, তা আমার দূরতম কল্পনায়ও কখনও আঁটাতে পারিনি। আমার এইখানে তুমি মাথাটি রাখো, আর আরামে ঘুমোও। তাতে তোমার ডান পাশেরজনের ডিস্টাব কম হবে।
মেয়েদের বেলায় যেটাকে বলে বিউটি-বো’ন, অঙ্গবিজ্ঞান যাকে বলে কলার বো’ন সেটির নিচে একটি প্রত্যঙ্গাংশ দেখিয়ে সে বললো এইখানে তুমি মাথা রাখো মিস্টার বিশ্বাস, সঙ্কোচ করার কোন দরকার নেই। প্লিজ ডৌন্ট হ্যাসিটেট। অমন গোল গোল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে দেখছো কী তুমি! শুরু কর! মাথায় গোল বাধিয়ো না। যা করার কোন দরকার নেই মনে করেছিল হাজ্জা, তা না করে আমি পারি না। সঙ্কোচ। আমি সেই সুন্দরী ও অসামান্য সেই তরুণীর বিউটি-বো’ন এর নিচে মাথা রেখে ঘুমুতে পারিনি। আমি আমার লুব্ধতাকে চোখ রাঙ্গিয়েছি, আর তাকে জানিয়েছি ‘থ্যাঙ্কস’। বয়স আমার তখন তিরিশ। একটি সন্তানের জনক আমি তখন হয়ে গেছি। হাজ্জার তখন কত হবে বলা মুশকিল কারণ মিনিমাম কুড়ি বছর ওদের বয়স বাড়ে না। জীবনের একটা বড় পরিসরে ওরা এক বয়সী পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত না টানলেও কুড়ি থেকে চল্লিশ ওরা একই আকর্ষণে ও একই উপযোগে স্থির থাকতে পারে। কখনও কখনও এই পরিসরটা তিরিশ-পঁয়ত্রিশও ছুঁয়ে বসে। প্রকৃতির অপার রহস্য। প্রকৃতি বড় অন্য রকম।
লেখক: শ্রমজীবী কথাসাহিত্যিক
