৬ বছর বয়সে আমরা প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হই। প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো সেশনজট নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভর্তি, পরীক্ষা ও রেজাল্ট হয়ে যায়। কিন্তু দশম শ্রেণির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরবর্তী বছরে পরীক্ষা গ্রহণ ও রেজাল্ট হতেই বছরের ৬ মাস শেষ হয়ে যায় । এদিকে দশম শ্রেণির নির্ধারিত সময় শেষে ১৬ বছর পূর্ণ হয় । এসএসসি পরীক্ষা ও ফলাফল বের হতে আরো ৬ মাস সময় লেগে যায় । এইচএসসি ভর্তি, পরীক্ষা ও ফলাফল সবমিলে ২ বছর ৪ মাস অর্থাত্ জীবনের প্রায় ১৯ বছর শেষ । অনার্সের ৪ বছরের কোর্স সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে ৬ বছর ৬ মাস থেকে ৭ বছর । ডিগ্রি ৩ বছরের কোর্সে সময় লাগে ৫ বছর । অনার্সের পর মাস্টার্স ১ বছরের কোর্স সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে প্রায় দেড় বছর এবং ডিগ্রি করা ছাত্রদের মাস্টার্স সম্পূর্ণ করতে সময় লেগে যায় ৪ বছরের বেশি। অর্থাত্ বলা যায় (এসএসসি+ এইচএসসি+অনার্স + মাস্টার্স) সব মিলে আমাদের জীবনের মহামূল্যবান ২৭ বছরের বেশি সময় হারিয়ে যায়। পাশাপশি যারা ডিগ্রি (পাস) থেকে মাস্টার্স করে তাদের আরো বাড়তি ১ বছর জরিমানা দিতে হয় ।
স্বাভাবিকভাবে বলা যায় আমাদের উচ্চতর ডিগ্রি সম্পূর্ণ করতে জীবনের ২৭/২৮ বছরের বেশি সময় কেটে যায়। সরকারি বিধি অনুযায়ী চাকরির আবেদনের শেষ সীমা ৩০ বছর । চাকরির আবেদনের জন্য সময় পাওয়া যায় ২/৩ বছর যা আমাদের চাকরির পূর্ব প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ঠ নয়। তাই চাকরির আবেদনের বয়স সীমা ৩০থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবি খুবই সময়োপযোগী এবং যুক্তিযুক্ত। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পূর্ণ করতে (সময় লাগে ২৩ বছর ) কোনো সেশনজট নেই। তারপরও সরকারি চাকরির আবেদনের বয়স সীমা ৪০ বছর। ২০১১ সালে ডিসেম্বর মাসে সরকারি চাকরির অবসরের বয়স সীমা ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়েছে। ডিসেম্বরে যাদের বয়স ২৮ ছিল তাদের ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বয়স হবে ৩০ বছর। এই ২ বছরের মধ্যে উল্লেখ করার মতো কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি নেই অর্থাত্ আমাদের সরকারি চাকরির কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং বেকার না থেকে উপায় কী?
সুমন লস্কর,
মাস্টার্স শেষ পর্ব (গণিত), সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা
