[ নি র্বা চ ন ]

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই !

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৩, ২১:২৮
৩ জুলাই অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের উপনির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফলই পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। ওই আসন থেকে সাত বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শূন্য আসনে উপনির্বাচন হয় অনেকটা নিয়ম রক্ষার জন্যই। কারণ বর্তমান সংসদের মেয়াদ আছে বড় জোর ছয় মাস। স্বল্প সময়ের জন্য নির্বাচনে কারো আগ্রহ থাকার কথা নয়। এই উপনির্বাচনে সরকারি দল অর্থাত্ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের পুত্র রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিককে। নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশ নেবে না এটা জানাই ছিল। তাই অনেকের ধারণা ছিল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যাবেন। কিন্তু বাধ সাধেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা সৈয়দ মহিতুল ইসলাম অসীম। দল থেকে পদত্যাগ করে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকায় রিটার্নিং অফিসার প্রথমে তার মনোনয়ন বাতিল করলেও পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে মহিতুল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান এবং বলা যায়, প্রচার-প্রচারণায় তিনি নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছিলেন। নির্বাচনে অংশ না নিলেও আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলতে বা বিব্রত করতে বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়ায়। বিএনপি-জামায়াতের সমর্থন পাওয়ায় মহিতুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণা কিছুটা জমজমাট হয়ে ওঠে। কোনো কোনো সংবাদপত্রে নির্বাচনযুদ্ধে তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও তুলে ধরা হয়। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এই উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয় নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল বলে মনে হয় না। চমকপ্রদ কিছু ঘটার পরিস্থিতি সেখানে ছিল না। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। ভোটার উপস্থিতির হার একটু কম হলেও সরকারের মেয়াদকালের শেষ সময়ে এসে একটি উপনির্বাচনে এর চেয়ে বেশি ভোটার উপস্থিত হওয়ায় সঙ্গত কারণও দেখা যায় না। আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন এক লাখ ভোট আর বিদ্রোহী প্রার্থী পেয়েছেন ৫৮ হাজারের কিছু বেশি। তাই এটা বলা যায় যে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হলেও একেবারে অনায়াস জয় তার হয়নি। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ যে আসনে সাত বার জিতেছে, সে আসনটি ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ধরে রাখতে পারবে কি-না সে প্রশ্ন উঠেছে। দলের প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতির ছেলেকে বেছে নেয়াটা সম্ভবত দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের খুব একটা পছন্দ হয়নি। এই অপছন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে মহিতুলের প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে। রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের রাষ্ট্রপতির ছেলে হওয়া ছাড়া প্রার্থী হওয়ার আর কোন যোগ্যতা ছিল? ওই আসনে নির্বাচন করার মতো আর একজন উপযুক্ত প্রার্থী কি দলের মধ্যে ছিলেন না? পরিবারকেন্দ্রিক কিংবা উত্তরাধিকারের রাজনীতির বলয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা না করলে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চর্চা বাড়বে কীভাবে? কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের উপনির্বাচন থেকেও একটি বিষয় খুব পরিষ্কার হয়েছে যে, প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলগুলো যে নীতি-পদ্ধতি অনুসরণ করে সেটা শুধু অগণতান্ত্রিকই নয়, এই পদ্ধতিতে সত্যিকার যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের বাছাই করাও সম্ভব হয় না। দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড অবশ্যই চূড়ান্তভাবে প্রার্থী মনোনয়ন করবেন। কিন্তু তার আগে স্থানীয় পর্যায় থেকে মতামত গ্রহণ করা দরকার। স্থানীয় মতামত উপেক্ষা করার কারণে অনেক সময়ই যে ‘ভুল’ প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়ে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়, এটা বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে। আমরা সবাই মুখে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারাকে এগিয়ে নেয়া বা বিকশিত করার কথা বলি। কিন্তু গণতন্ত্র যে চাপিয়ে দেয়ার ব্যাপারে নয়, নিয়মিত চর্চা বা অনুশীলনের ব্যাপার সেটা বাস্তবে স্বীকার করতে চাই না। পরিবার বা উত্তরাধিকার যদি প্রার্থী বাছাই বা নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচনার বিষয় হয় তাহলে নতুন কেউ রাজনীতিতে আসবে কীভাবে? একবার যিনি নেতা বা এমপি হবেন, তিনি যদি পরে আর কাউকেই জায়গা ছেড়ে দিতে না চান, তাহলে তো এক সময় ওই রাজনৈতিক দল স্থবির হয়ে পড়বে। নতুনের জন্য জায়গা ছাড়ার উদারতা না থাকলে রাজনীতিতে গতিশীলতা আসবে না। হামিদ সাহেব ওই আসন থেকে সাত বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। এবার তার জায়গায় অভিষিক্ত হলেন তার ছেলে। তিনি কতবার মনোনয়ন পাবেন, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন, তারা কি কখনও নির্বাচনে অংশ নেয়ার আশা করতে পারেন না? এক পরিবারের হাতে নেতৃত্ব সীমাবদ্ধ থাকলে অন্যরা নিশ্চয়ই একমন একপ্রাণ হয়ে যুগের পর যুগ রাজনীতি করবেন না। প্রার্থী মনোনয়ন কিংবা নেতৃত্ব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে কারো মনে বঞ্চনাবোধ বা ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ থাকে না। ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে যারা পদ-পদবি প্রত্যাশা করেন, তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সেখানে যাওয়ার সুযোগ পান। এর অন্যথায় তৈরি হয় ধামাধরা, জামাধরা নেতৃত্ব- যা প্রকৃতপক্ষে অগণতান্ত্রিক-স্বেচ্ছাচারী ব্যবস্থারই নামান্তর। যে কোনো গতিশীল-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের জন্য ওই ব্যবস্থা সম্পদ না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়াতে বাধ্য। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিয়ে রাজনীতিতে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্সাহ তৈরি হয়েছে। দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি এই সিটি নির্বাচনকে প্রেসটিজ ইস্যু হিসেবে গ্রহণ করায় নির্বাচনের গুরুত্ব ও তাত্পর্য অনেক বেড়েছে। রাজনৈতিক প্রচারণাও পেয়েছে নতুন মাত্রা। দুই দলের বাঘা বাঘা নেতারা দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে গলদঘর্ম হয়েছেন। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমতউল্লা খান জয়লাভ না করলে যেমন সরকারের পতন হবে না, তেমনি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এমএ মান্নান জিতলেও বিএনপি এখনই সরকারে যেতে পারবে না। তারপরও দেশের রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে গাজীপুরকে ঘিরে। বড় রাজনৈতিক দল দুটির আচার-আচরণ ও ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে, ৬ জুলাই গাজীপুরের নির্বাচনেই যেন দেশের রাজনীতির ভবিষ্যত্ নির্ধারিত হবে। একটি স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনকে এতটা গুরুত্ব দেয়া ঠিক হয়েছে কিনা সে প্রশ্ন অবশ্য কোনো মহল থেকেই তোলা হয়নি। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে গত ১৫ জুলাই সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল- এই চারটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়েছে। চার সিটিতেই বিস্ময়করভাবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের পরাজয় ঘটেছে। বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা। এই নির্বাচনী ফলাফলে আওয়ামী লীগ হতাশ এবং হতোদ্যম হয়েছে। একটি সিটিতেও না জেতার মতো হিসাব আওয়ামী লীগের ছিল না। অন্যদিকে ওই চার সিটির নির্বাচনী ফলাফল বিএনপিকে করেছে আশাবাদী এবং উজ্জীবিত। বিএনপি ধরে নিয়েছে, দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচনে তাদের বিজয় আর কেউ ঠেকাতে পারবে না। চার সিটিতে অপ্রত্যাশিত জয়-পরাজয়ের কারণেই গাজীপুর নির্বাচন দুই দলের কাছে অতিরিক্ত মনোযোগ পেয়েছে। তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ফলাফলকেই দেশের ভবিষ্যত্ রাজনীতির ভরকেন্দ্র বলে মনে করাটা সুবিবেচনার পরিচয় বহন করছে না। ঠিকই, এই নির্বাচনে যে দল জয় পাবে সে দলের কর্মী-সমর্থকরা উত্সাহিত হবে, সাধারণ মানুষের সমর্থন নিজেদের অনুকূলে এলে যে-কোনো রাজনৈতিক দলেরই অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা। তাই বলে যে দল পরাজিত হবে- তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ একেবারে অনিশ্চিত হয়ে যাবে, সে রকম মনে করারও কোনো কারণ নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার জাতীয় ইস্যু যেভাবে গুরুত্ব পেয়েছে, সেটাকে খুব ভালো লক্ষণ বলে মেনে নেয়া যায় না। প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা গুণাবলির চেয়ে প্রার্থী যে রাজনৈতিক দলের সদস্য সেই দলের ‘রাজনীতি’ যদি ভোটারদের বেশি প্রভাবিত করে তাহলে স্থানীয় সমস্যার সমাধান বা স্থানীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আগ্রহ কি ওই প্রার্থীদের কমে যাবে না? তাছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এখন সেটা হচ্ছে না। নির্বাচনে প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক পান না, তাছাড়া বাকি সবকিছুই তো দলভিত্তিক এবং রাজনৈতিকভাবে হচ্ছে। এই রাজনীতিকীকরণের ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কতটুকু জনকল্যাণকর হবে, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী না থাকলেও নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভূমিকা অকারণেই যেন বড় করে তোলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-র মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচনে তাদের পক্ষে জাতীয় পার্টির সমর্থন আদায়ের জন্য যেভাবে ছোটাছুটি করছেন, তা অনেকের কাছেই দৃষ্টিকটু লেগেছে। গাজীপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সব মিলিয়ে ৬০ হাজার ভোটও পাননি। সেই হিসাবে গাজীপুর সিটিতে জাতীয় পার্টির ভোট ১৪-১৫ হাজারের বেশি নয়। মোট সোয়া দশ লাখ ভোটারের মধ্যে ১৪-১৫ হাজার ভোট কি জয়-পরাজয়ে নির্ধারক ভূমিকা পালন করতে পারে? সবাই বলবেন, পারে না। তারপরও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেন জাতীয় পার্টির সমর্থনের বিষয়টিকে এত বড় করে দেখছে? এর কারণ সম্ভবত এটা যে, জাতীয় পার্টি মহাজোটভুক্ত একটি দল। এই দলের সমর্থন বিএনপির কাছে এ জন্যই গুরুত্বপূর্ণ যে, এর থেকে প্রমাণ হয়, সরকারের সঙ্গে কেউ থাকছে না। গত নির্বাচনের মিত্ররাও এখন তাদের ছেড়ে যাচ্ছে। আর জাতীয় পার্টিকে পক্ষে রাখতে পারলে আওয়ামী লীগের সুবিধা এটাই যে, তারাও বলতে পারে বিএনপি যতই প্রচার করুক, বাস্তবে তারা নিঃসঙ্গ নয়। দুই দলের তোয়াজের কারণে গাজীপুর নির্বাচনে জাতীয় পার্টির পোয়াবারো। এরশাদ সাহেবের কাছ থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-র দুই প্রার্থীই ‘দোয়া’ নিয়েছেন। মনে হচ্ছে, তিনি একজন বড় রাজনৈতিক পীরে পরিণত হয়েছেন। গাজীপুরের স্থানীয় জাতীয় পার্টি বিভক্ত হয়ে একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছে। আবার কেউ কেউ আওয়ামী লীগের পক্ষেও আছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, গাজীপুরে মেয়র পদে তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীকেই সমর্থন দেয়া হয়নি। একেই বুঝি বলে একেবারে ‘ছ্যারাবেরা’ অবস্থা। সরকারের দুই জন মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এরশাদের সঙ্গে কথা বলে গাজীপুর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন চাইলেও এরশাদ শেষ পর্যন্ত সমর্থন জানাননি। শেখ হাসিনার আহ্বানেও সাড়া না দেয়া থেকে কারো কারো কাছে এটা মনে হচ্ছে যে, এরশাদ আর ক্ষমতাসীন মহাজোটে থাকতে চান না। হাওয়া বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়ার নীতিহীন রাজনীতির অনুসারী এরশাদকে নিয়ে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল যে খেলা খেলছে, তাতে এরশাদ পুলকিত বোধ করলেও দেশের মানুষ খুবই বিরক্ত ও লজ্জিত বোধ করছে। ২৩ বছর আগে যে দুটি দল যুগপত্ আন্দোলন গড়ে এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল, সেই দুটি দলই এখন একটি স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনে জয় পাওয়ার জন্য এরশাদের কাছে ধরনা দিয়ে নিজেদের ছোট করেছে। এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কি হতে পারে! তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তোষামোদ করছে বলেই এরশাদ যদি মনে করেন যে, এই দুই দলের বদলে দেশের মানুষ তাকেই ক্ষমতায় দেখতে চাচ্ছে তাহলে তিনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। একেক সময় একেক কথা বলে রাজনীতিতে তিনি তামাশায় পরিণত হয়েছেন। এতে তার জনপ্রিয়তা মোটেও বাড়ছে না। প্রতিটি নির্বাচনেই জাতীয় পার্টির ভোট কমছে। এরশাদ যতই বলুন না কেন যে, তিনি আর কারো ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহূত হবেন না, কিন্তু বাস্তব এটাই যে, দিন যত যাচ্ছে, তিনি ওই সিঁড়ি হওয়ার ক্ষমতাও ততই হারিয়ে ফেলছেন। এই লেখাটি শেষ করার পর জানা গেলো জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ গাজীপুরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আজমতউল্লা খানের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন। সত্যি, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই! লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন