দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হলে ক্ষমতা হস্তান্তরে শান্তির পথ খুঁজতে হবে
দেশের উন্নয়ন করতে হলে তার পূর্বশর্ত হচ্ছে শান্তি। শান্তি বিরাজ না করলে কোথাও কোন কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় না। আমাদের দেশের বর্তমান যে হাল অবস্থা তাতে শান্তির লেশমাত্রও নেই। রাজনৈতিক কারণেই এ অবস্থা বিরাজ করছে। দেশে বড় দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ক্ষমতায় থাকা আর ক্ষমতায় যাবার যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে আমরা সাধারণ লোকজন খুব শংকিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন বেশ কিছুদিন ধরেই। কিন্তু তা কি সম্ভব? মোটেই না। কারণ প্রধান বিরোধী দল আন্দোলনের নামে যা করছে, তাতে শান্তি কোথাও নেই। সপ্তাহের কোন না কোন দিন হরতাল থাকছে। হরতালের সময় বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগসহ ত্রাস সৃষ্টির কোনটাই বাদ যাচ্ছে না। বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার নামে এই আন্দোলন করছে। আর সরকারি দল বলছে, সংবিধানে এধরনের কোন সুযোগ নেই। দেশের অর্থনীতির বারোটা বেজে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হবার কোন সম্ভাবনা নেই। আর শান্তিপূর্ণভাবে যদি ক্ষমতা হস্তান্তর না হয় তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে না। অর্থনৈতিক উন্নয়ন না হলে জনগণের কোন কল্যাণও হবে না। তাই সরকার এবং বিরোধী দলের উচিত্ হবে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সংসদ নির্বাচন করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হলে সকল দলকেই নির্বাচন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরে শান্তির পথ খুঁজতে হবে।
অরুণদ্যুতি পাল
মাস্টার্স (সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ)
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়
অর্থনীতি হচ্ছে যেকোন দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। আর এ উন্নয়নশীল দেশকে বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে তার প্রয়োজন অর্থনীতিকে সচল রাখা। আর অর্থনীতি সচল না হলে কোন দেশই উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারবে না। কিন্তু এই অর্থনীতিকে সচল করতে আমাদের দেশকে হতে হয় বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন। যার কারণে অর্থনীতির উন্নয়ন হয় না। দেশে প্রায় সবসময়ই ঘটছে খুন, রাহাজানি, হরতাল, অবরোধ। আর এ হরতাল-অবরোধের কারণে অর্থনীতি অনেকাংশে পিছিয়ে পড়ছে। যা হতে উত্তরণের কোন পথ নেই। হরতাল-অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়মিত হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছে সেশন জটে। যা হতে সহজেই উত্তরণ সম্ভব নয়। তাই দুই প্রাণপ্রিয় নেত্রীর নিকট শ্রদ্ধাসহকারে বলতে চাই, আপনারা দুজন জাতির সংকটকালে একত্রিত থাকুন এবং আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করুন। তাই আর ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে নয়, সোজাসুজি বলা যায়, শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সুজন দাস
ভাষা বিভাগ (সংস্কৃত)
শহীদ জিয়াউর রহমান হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
অর্থনীতির উন্নয়নে চাই দক্ষ সরকার আর এজন্য চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন
দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল জেনারালাইজ্ড সিস্টেম অব প্রিফারেন্সেস (জিএসপি) স্থগিত হওয়া। আর এই জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন আমাদের সরকার ও বিরোধী দলের বড় করণীয়, কিভাবে এই জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া যায়। আর জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার জন্য সরকারকে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে আর এতে সহায়তা করবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি; কিন্তু সরকার ও বিরোধী দল তা না করে কার জন্য এই জিএসপি সুবিধা বাতিল করা হল এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে নোংরা রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করছে। সরকারি দল দায়ী করছে প্রধান বিরোধী দলকে। এমনকি সরকারি দলের অনেক নেতারা দাবি করছেন বিরোধী দলের নেত্রীর ওয়াশিংটন টাইমসে লেখা নিবন্ধের কারণে জিএসপি বন্ধ করা হয়েছে। বিরোধী দল বলছে, এই লেখা বিরোধী দলের নেত্রীর নয়। কিন্তু এদেশের জনগণ এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি আর কতকাল দেখবে! এদেশের মানুষ আর এই নোংরা রাজনৈতিক খেলা দেখতে চায় না। কিন্তু এই জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ার পিছনে বর্তমান সরকার ও বিগত সরকার দুই সরকারই দায়ী। অতএব এদেশের মানুষ চায় একটি দক্ষ ও পরিপক্ব সরকার যার মাধ্যমে এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে আর এজন্য চাই সুষ্ঠু নির্বাচন যা অবাধ নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হবে।
মো. হাবিবুর রহমান
শিক্ষার্থী, পাতারহাট আর সি কলেজ,
মেহেন্দীগঞ্জ, বরিশাল
অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর
আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে যে দুঃখজনক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে দ্রুত পরিত্রাণ না পেলে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। এমনিতেই দেশে নানা ঘটনায় বিশেষ করে রানা প্লাজার ঘটনা, হলমার্ক কেলেংকারি, বিভিন্ন ব্যাংকের টাকা আত্মসাতসহ নানা দুর্নীতির খবরে আমরা মুহ্যমান। অর্থনীতি এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় নিত্য হরতালের কারণেও দেশের অর্থনীতির উপর চাপ পড়ছে। ছোট-বড় সকল ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু সরকারি দল আর বিরোধী দলের এতে কোন মাথা ব্যথা নেই। কয়েক মাস পড়েই দেশে সংসদ নির্বাচন হবার কথা। কিন্তু দুটি জোটের মধ্যে যে ধরনের রাজনীতি এবং টানাপোড়েন চলছে, তাতে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হবে কিনা এনিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছে। সুশীল সমাজ প্রতিদিন টিভি টকশোতে গলা ফাটাচ্ছেন। কিন্তু কাজের কাজ বিছুই হচ্ছে না। কিন্তু দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে ক্ষমতা হস্তান্তরও শান্তিপূর্ণভাবে হবে বলে মনে হয় না। এই সময় কোন অঘটন ঘটলে অথনৈতিক অবস্থা আরো নাজুক পর্যায়ে চলে যাবে। আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা যতই বলি না কেন, তা নির্ভর করবে দেশে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে। আর তা না হলে কোন কিছুই হবে না।
বিপাশা দত্ত
সম্মান, রসায়ন বিভাগ, নেত্রকোনা সরকারি কলেজ
