জনগণ কি চাইছে সেটাই রাজনৈতিক দলগুলোর মুখ্য বিষয় হওয়া উচিত
রাজনৈতিক দলগুলোর এমন কোন উদ্যোগ নেয়া ঠিক হবে না যেখানে সাধারণ জনগণ তাদের মৌলিক চাহিদা ও বিভিন্ন উপায়ে তাদের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় ্্্্্এবং বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়। আমার মতে- বর্তমানে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রায় দুর্লভ। জনগণ কি চাইছে সেটাই রাজনীতিক দলগুলোর মুখ্য বিষয় হ্ওয়া উচিত। কিন্তু তাদের বিভিন্ন মতামত জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। তারা জনগণের মতামতকে জিম্মি করে রেখেছে। এক সরকারের পতনের সাথে সাথে অন্য সরকারের আগমন ঘটে তখন যেটা দেখা যায় সেটা হচ্ছে অন্য সরকারের নেয়া উন্ন্য়নমূলক কাজগুলো বন্ধ করে দে্য়া হয়। কিন্তু তারা যদি জনগণের কথা চিন্তা করতো কখনোই কাজগুলো বাদ দিতো না। বাংলাদেশ এর ফলে জনগণের সাথে সাথে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নতি হওয়ার অনেক মাধ্যম আছে এবং সাথে সাথে বিশাল একটি জনবল আছে। এখন যদিও প্রয়োজন ক্ষমতা হস্ত্ান্তরের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন।
হাফিজা খাতুন
ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগ, ২য় বর্ষ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
শান্তিপূর্ণভাবে যদি ক্ষমতা হস্তান্তর না হয় তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে না
আমাদের দেশের বর্তমান যে হাল-অবস্থা তাতে শান্তির লেশমাত্রও নেই। আর যে কোন উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে শান্তি। শান্তি বিরাজ না করলে কোথাও কোন কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় না। আর এ অবস্থার জন্য দায়ী আমাদের দেশের দু’টি রাজনৈতি্ক দল। দেশের বড় দু’টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ক্ষমতায় থাকা আর ক্ষমতায় যাবার যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে আমরা সাধারণ লোকজন খুব শঙ্কিত। প্রধানমন্ত্রী শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলছেন বেশ কিছুদিন ধরেই। কিন্তু তা কি সম্ভব? মোটেই না। কারণ প্রধান বিরোধী দল আন্দোলনের নামে যা করছে, তাতে শান্তি কোথাও নেই। সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন হরতাল থাকছে। হরতালের সময় বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগসহ ত্রাস সৃষ্টির কোনটাই বাদ যাচ্ছে না। বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার নামে এই আন্দোলন করছে। আর সরকারি দল বলছে সংবিধানে এ ধরনের কোন সুযোগ নেই। দেশের অর্থনীতির বারোটা বেজে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হবার কোন সম্ভাবনা নেই। আর শান্তিপূর্ণভাবে যদি ক্ষমতা হস্তান্তর না হয় তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে না। অর্থনৈতিক উন্নয়ন না হলে জনগণের কোন কল্যাণও হবে না। তাই সরকার এবং বিরোধী দলের উচিত হবে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। দেশের অর্থনৈতিক এবং সর্বদিক উন্নয়ন করতে হলে সকল দলকেই নির্বাচন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।
তাহনিয়া বাশার তানি
২য় বর্ষ,উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
রাজনৈতিক পালাবদলের কবলে যেন দেশের চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা স্থবির না হয়ে যায়
রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সংঘাতময় রাজনীতি কোন দেশের মঙ্গলের জন্য কাম্য নয়। অর্থনীতি একটি দেশকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দেয়। কিন্তু যখন কোন দেশের অর্থনীতি রাজনৈতিক কারণে ভেঙ্গে পড়ে তখন ঐ দেশকে পার্শ্ববর্তী দেশ সাহায্য করতে চায় না, কেননা তারা জানতে পারে যে, ঐ দেশটি অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল নয়। ঠিক তেমনি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান থাকলে দেশ তার সার্বভৌমত্ব হারাতে পারে। সুতরাং উন্নয়নশীল বাংলাদেশে আমাদের উচিত রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা, আর তা না হলে আমাদের দেশ ও দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়ে যেতে পারে। আমরা চাই বাংলাদেশের অর্থনীতি যেন কারো হাতের মোয়া না হয়। সুতরাং আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যে, রাজনৈতিক পালাবদলের কবলে যেন দেশের চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা স্থবির না হয়ে যায়। আর এসর ক্ষমতা নিয়ে যুদ্ধ যতদিন চলবে ততদিন আমাদের দেশে শান্তি আসবে না। রাজনৈতিক সহিংসতা এড়িয়ে সুষ্ঠু, সুন্দর ও সর্বত্র গ্রহণযোগ্য উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর হোক এটাই রাজনীতিবিদদের কাছে আমাদের তরুণ সমাজের প্রত্যাশা।
রেজাউল রেজা
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
জনগণের কল্যাণমুখী কর্মসূচিই রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত
আজ যদি কেউ আমাকে প্রশ্ন করে, তুমি পেশা হিসেবে কি বেছে নিতে চা্ও। তাহলে আমি বলবো- আমি সরকারি কর্মকর্তা বা ব্যাংকার হতে চাই। কিন্তু বলবো না রাজনীতিবিদ হতে চা্ই। কারণ বর্তমানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি বলতে আমি যা বুঝি তাহলো রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম জনগণের জন্য হবে, নিজেদের স্বার্থান্বেষণের জন্য নয়। আমার মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে উদারনৈতিক চিন্তাধারার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতি পরিণত হচ্ছে কিছু দলের স্বার্থ অন্বেষণের মাধ্যম হিসেবে। কতিপয় রাজনৈতিক দলের দ্বন্দ্বের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে সাধারণ জনগণের চা্ওয়া-পা্ওয়াগুলো। জনগণের সমর্থনের মাধ্যমেই প্রত্যেকটাই রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি। এই কথা ভেবেই জনগণের কল্যাণমুখী কর্মসূচিই রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্য হ্ওয়া উচিত। আমার বিশ্বাস, একদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন হবে যেখানে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল দেশের ্উন্নয়নের জন্য একসাথে কাজ করবে। সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে আসলে আমার মতো নতুন প্রজন্ম রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে ্আগ্রহী হবে। সে্্ই দিনের প্রত্যাশায় রইলাম।
সুস্মিতা আচার্য
লোক প্রশাসন বিভাগ, ২য় বর্ষ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
অনুলিখন :সানজিদা জিনিয়া
