মিসরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডক্টর মুহাম্মদ মুরসীকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অপসারিত করে দেশটিতে ক্ষমতার পালাবদলের নীলনকশা প্রণয়ন করা হয়। সামরিক ও বিচারিক এলিটদের প্রত্যক্ষ মদদে গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে স্বৈরতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে হীন প্রয়াস চালানো হচ্ছে, তা দেশটির নব-জাগরিত গণতান্ত্রিক জোয়ারে খড়কুটার মত ভেসে যাওয়ার কথা। দুর্ভাগ্যবশত পতিত স্বৈরতন্ত্রের প্রেতাত্মা ব্যক্তি ও গোষ্ঠী, এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কায়েমী স্বার্থবাদীদের সর্বব্যাপী ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে লুণ্ঠিত গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার খুব কম সময়ে সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।
আরব বসন্তের সূচনালগ্নে বিশাল জনসমর্থন পেয়ে মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মুরসী মিসরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। মাথার উপর বিচারিক খড়্গ-ডাণ্ডাবেড়ি, পায়ের নিচে অভিজাত সামরিক বাহিনীর পুঁতে রাখা অজস্র মাইন ডানে-বামে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রীদের কুচক্রজাল পরিবেষ্টিত হয়েই মুরসীকে ক্ষমতার মসনদে পা রাখতে হয়। মুরসীর সেই গণতান্ত্রিক যাত্রা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, তা ছিল কন্টকাকীর্ণ, এই সত্যের উপলব্ধি এবং মিসরের অতীত রাজনৈতিক নৃশংসতার বিস্মৃতিই নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাচ্যুতিকে ত্বরান্বিত করেছে। পাশ্চাত্য শিক্ষিত, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাজর্ষি মুরসী মিসরের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের সুখ-শান্তির জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর হয়ে রাজনৈতিক ছল-চাতুরী ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার দূরদর্শিতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করে এবং সংবিধান প্রণয়ন করে গণতান্ত্রিক অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ শর্তপূরণে সক্ষম হন মুরসী। কিন্তু ঠুনকো অজুহাতে নির্বাচিত পার্লামেন্টের উপর খড়্গহস্ত হন বিচারিক এলিটরা এবং এক পর্যায়ে সেই নির্বাচিত পার্লামেন্টকে অকার্যকর করে তোলা হয়। সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর নানা অভিযোগ উত্থাপন করে শেষ পর্যন্ত মুরসীর উত্খাতের পর সেই সংবিধান বিচারিক ও সামরিক শক্তি প্রয়োগে বাতিল করা হয়।
৩০ জুন তাহরীর স্কোয়ারে মুরসী বিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকে জ্বালাও-পোড়াও ভাঙচুর চালালেও মুরসী ও ব্রাদারহুড ধৈর্য ও উদারতার সাথে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। ৩০ জুনের আগে-পরে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তির নিহতের খবর পাওয়া যায়, যাদের প্রায় সকলেই ব্রাদারহুড কর্মী ও মুরসী সমর্থক। বিভিন্ন শহরে ব্রাদারহুডের কর্মীদের সামনেই যখন ব্রাদারহুডের অফিসসমূহ তছনছ করা হয়, তখনো শান্ত-নীরব থেকেই সে তাণ্ডব সহ্য করা হয়। নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের আসনে বহাল থেকেও তখন মুরসী তাণ্ডবরত বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগে বিরত থেকে যে উদারতা ও গণতান্ত্রিকতার আদর্শ তুলে ধরেছেন তা একসময় প্রাপ্য সম্মানই তাঁকে ফিরিয়ে দেবে।
ক্ষমতারোহণের পর পরই মুরসী জাতীয় ঐক্য, আঞ্চলিক বন্ধুত্ব এবং শান্তি-শৃংখলা রক্ষার উপর জোর দিয়েছেন। পার্লামেন্ট নির্বাচন, সংবিধান প্রণয়ন এবং সবশেষে ৩০ জুনে মুরসীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হলে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনে তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান। সবসময় তিনি সংলাপ ও সমঝোতায় কথা বলেন। কিন্তু চরম গোঁয়ার্তুমি করে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সকল আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতাদর্শিক পার্থক্যের কারণে বিরোধীরা মুরসীর পতনে একদফা দাবিতে অনড় থাকেন। তাহরীর স্কোয়ারের জমায়েত থেকে মুরসীর বিরুদ্ধে ইসলামীকরণ দলীয়করণ, অর্থনৈতিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রগতিশীল, শান্তিময় ও স্থিতিশীল মিসর গঠনে কার্যকর সংলাপের ডাক দিলেও বিরোধীরা প্রেসিডেন্টের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে বিচারিক ও সামরিক আমলাদের যোগসাজশে মুরসীর পতন ঘটিয়ে সামরিক বিচারিক এলিটদের গড়া অগণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার পদ-পদবীর তুলতুলে আরামের স্বাদ গ্রহণে অন্ধ হয়ে ওঠেন।
এখন এটা সহজেই অনুধাবনযোগ্য কেন এল বারাদী ও হাযেম এল বেবলাবীর মত পাশ্চাত্যানুসারী গণতন্ত্রী ও উদারবাদীরা নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের ঐকমত্যের সরকার গঠনের আহবান প্রত্যাখ্যান ক’রে সামরিক অভ্যুত্থানে লালিত ও বিচারিক প্রশ্রয়ে জন্ম নেয়া স্বৈরতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার মন্ত্রিত্ব লাভের নির্লজ্জ প্রলোভনে মাতোয়ারা হয়েছেন। মিসরের পতিত স্বৈরতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপালনকারী এ সকল গণতন্ত্রী কেন কোন্ যুক্তিতে কোন জাতীয় স্বার্থে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে সামরিক-বিচারিক ষড়যন্ত্রচক্রের গোলকধাঁধায় আটকা পড়লেন? একদিন না একদিন গণতন্ত্র পিয়াসী মিসরীয় জনগণের এ প্রশ্নের উত্তর দিতেই হবে।
মুরসীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত দলীয়করণের অভিযোগ কি আদৌ সত্য? ক্ষমতায় আরোহণ করেই তিনি ঐকমত্যের শাসন শুরু করেন। ফলে সাবেক স্বৈরশাসক হোসনী মোবারকের সময়কার আমলা ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি তিনি ব্রাদারহুডকেও প্রশাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে জাতীয় ঐক্যের মজবুত স্থাপনা প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। তার মন্ত্রিসভার দিকে লক্ষ্য করুন। সেই পতিত স্বৈরশাসকের লোকজনের সমাগম! মার্শাল তানতাবীর ক্যাবিনেট মিনিস্টার ও হোসনী মোবারকের সময়কার যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদী আরবে মিসরের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ কামেল আমর হলেন প্রেসিডেন্ট মুরসীর প্রধান কূটনীতিক; মোবারকের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান ও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নিবিড় কর্ম-সহচর আব্দুল ফাত্তাহ আল শিশী হলেন তার সামরিক বাহিনীর প্রধান। মুরসীর ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস পার্টির কতিপয় নেতৃবৃন্দকে মাত্র কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে বসানো হয়েছে মাত্র, অন্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়সমূহ যথা: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, আভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়সহ সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের মত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দপ্তরে মোবারকপন্থিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরকে বসানো হয়েছে। তারপরও মুরসী-বিরোধিতা কেন?
সংবিধানের ইসলামীকরণ ও মিসরকে ধর্মরাষ্ট্রে পরিণত করার অভিযোগও অভিজ্ঞতাপ্রসূত। মুরসীর সংবিধানে মিসরের আইনের ভিত্তি হিসেবে কুরআন ও সুন্নাহকে বুলন্দ করার কথা বলা হয়েছে, কখনো সংখ্যালঘুদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোন বিধি সংযোজিত হয়নি। মুরসী তো সংবিধানের ব্যাপারে গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছেন, তাহলে তা কেন বিরোধীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন?
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য পদে পাশ্চাত্যের পছন্দনীয় ব্যক্তিদেরকে বসানো সত্ত্বেও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কঠোরভাবে মিসরীয় জনগণের স্বার্থ যেন কোনভাবে আমলা-মন্ত্রীদের জুলুমবাজ নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার রক্ষণাবেক্ষণ করেছিলেন। মিসরের পররাষ্ট্রনীতিতে শান্তি-শৃংখলা ও বন্ধুত্ব নীতি ঘোষণা করলেও তিনি মিসরকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শোষকদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারার বিরুদ্ধে রয়েছেন অতন্দ্র প্রহরীরূপে। যে ছদ্মবেশী স্বদেশি গণতন্ত্রীরা তাদের পাশ্চাত্য প্রভুদের স্বার্থরক্ষায় গণতন্ত্রের জুব্বা পরে মিসরীয়দেরকে প্রতারিত করে আসছেন, মুরসী ও ব্রাদারহুড সেই প্রতারণার বিরুদ্ধে দেশপ্রেমের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। ফলে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থান্ধ গোষ্ঠীর মিসরীয় সেবাদাস রাজনীতিক, আমলা, শোষক-নিপীড়ক অংশটি নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে উত্খাতের সমবেত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু মিসর, এর স্ট্রাটেজিক গুরুত্ব তাই অপরিসীম। ভূরাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ঔপনিবেশিক, প্রাক-ঔপনিবেশিক এবং স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মিসর বিশ্বশক্তির রাজনৈতিক দাবা খেলার কুরুক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ১৯৭৯ সনের শান্তিচুক্তির সুফল ভোগকারীদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ইসরাইল। মুরসীর ক্ষমতারোহণের পরপরই এ শান্তিচুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শোষকচক্রের মধ্যে প্রবল উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সৌদী আরবের মত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য-মিত্র রাষ্ট্র তার স্বৈরতান্ত্রিক স্থাপনা সুদৃঢ় ও দীর্ঘায়িত করতেই মিসরের নব-উত্থিত গণতন্ত্রসহ আরব বসন্তের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক পরাজয়, হামাসের উত্থান, ইরানের উপর্যুপরি কূটনৈতিক বিজয়, তুরস্কের ক্রমউন্নয়ন-এতসব প্রচ্ছন্ন পাশ্চাত্য স্বার্থবিরোধী, আঞ্চলিক শোষণ বিরোধী, আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী উপাদানসমূহের পাশাপাশি মিসরের জাগরিত গণতন্ত্রে উল্লসিত জনশক্তি, উজ্জীবিত জাতীয়তাবাদী যুবশক্তি এবং গণতান্ত্রিক বিকাশের হুমকি বৈশ্বিক শাসন-শোষণ চক্রের ভিত্তিমূলে যে কম্পন সৃষ্টি করেছে, তা নিবারণের কৌশল হিসেবে মিসরীয় গণতন্ত্রের অর্জনকে মুরসীর অপসারণের মধ্যদিয়ে নস্যাত্ করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
মুরসীর নিয়োগপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান শিশী মুরসীকে উত্খাত করে তারই নিয়োগকৃত বিচারপতি আদলী মনসুরকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। সেনাবাহিনী নিজেরা দৃশ্যত ক্ষমতা গ্রহণ করেনি। বড়জোর বলা যায় সেখানে ক্ষমতাসীন হয়েছে সেনা সমর্থিত একটি সরকার। এই ধরনের সেনা সমর্থিত সরকারের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানুষেরও আছে। মিসরে শপথ গ্রহণের মধ্যে উপবিষ্টদের পাশে গণতন্ত্রের প্রবক্তা আল বারাদীকে দেখে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কোরিওগ্রাফীর যে চিত্র দেখা যায়, তাতে ধারণা করা হচ্ছিল অচিরেই আলবারাদী কোন পদে বসবেন। হলোও তাই, ক্ষণিক পরে তাকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করা হলো। আফসোস, সালাফীপন্থি আল নূরের বিরোধিতায় আল বারাদীয় প্রধানমন্ত্রিত্বের স্বপ্ন চূর্ণ হলো। তবু তিনি ভাগ্যবান। আল নূর পার্টি তার উপ-রাষ্ট্রপতির পদ মেনে নিলেন। উদারপন্থি বেবলাভীর ভাগ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদ জুটলো।
অবাক হওয়ার কিছুই নেই। সেই পুরাতন জরাজীর্ণ পতিত স্বৈরশাসক মোবারকের সময়কার বিভিন্ন পদাধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই নব-স্বৈরশাসনের অলিতে-গলিতে পাহারারত রইলেন। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের যাঁতাকলে মিসরের পিষ্ট গণতন্ত্র অনির্দিষ্টকালের জন্য গৃহবন্দী থাকবে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসীকে ৭/৮ দিন ধরে অন্তরীণ করে রাখলেও মিসরের গণতন্ত্রীয় বা বৈশ্বিক গণতন্ত্রীরা সম্পূর্ণ নিরব-নিথর দর্শকের মত বসে আছেন। আর বৈশ্বিক শোষকগণ গণতন্ত্রের নিরুচ্চারিত বাণী হাঁকছেন:“অনতিবিলম্বে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হোক।” কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, জাতিসংঘসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বৃহত্ শক্তির কেউ-ই বলছেন না:“গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে পুনর্বহাল করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হোক।” মিসরের গণতন্ত্রের নক্ষত্রপতন রোধ করতে, গণতন্ত্রকে গৃহবন্দী দশা থেকে বাঁচাতে এ পর্যন্ত একশ’ মুরসীপন্থিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হয়ত বা আরো হত্যা, আরো রক্তের সমুদ্রের ওপারে অপেক্ষা করছে মিসরের গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
