শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক
উন্নয়নের পূর্বশর্ত
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল গণতান্ত্রিক দেশ। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারই হল গণতান্ত্রিক সরকার। দেশের জনগণ তাকে নির্বাচিত করে দেশের অভিভাবকের মর্যাদা দেয় যাতে সে দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু আমাদের দেশের সরকার ক্ষমতায় গিয়ে পরবর্তী নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করে। আর এতে বিরোধী দল ক্ষুব্ধ হয়, কারণ এদেশে সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই এতে বিরোধী দল জ্বালাও-পোড়াও, হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করে। আর এসবের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে দেশের অর্থনীতিতে। এসব কর্মসূচিতে তারা যানবাহন ভাঙচুর এবং তাতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, এতে পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে শেয়ার বাজারে। শেয়ার বাজারে ধস নামে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসা-বাণিজ্য। বৈদেশিক বিনিয়োগ কমে যায়, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দেশের অর্থনীতি ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমতে থাকে। এসব কর্মসূচিতে মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তাই এখন থেকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হলে এসব ধ্বংসাত্মক কাজ হবে না এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।
মো. সুমন মিয়া
শ্রেণী-দ্বাদশ, বিভাগ: ব্যবসায় শিক্ষা
নটরডেম কলেজ, ঢাকা
----
শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর কেন
প্রয়োজন?
কোন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর অনেকখানি নির্ভর করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ কথাটি পুরোপুরি সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। কারণ স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত এ দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাই বিরাজমান। আমাদের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় আসীন হয়ে কখনোই জাতীয় স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে তুলতে সক্ষম হয়নি। ক্ষমতাসীন দলের সীমাহীন দুর্নীতি, নির্লিপ্ততা, আন্তরিকতার অভাবই বিরোধীদলের প্রয়োজনীয়তার কথা জনগণের মনে জন্মিয়ে দেয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে জনগণ তখন চায় একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা বদল করতে। কারণ ক্ষমতার একচেটিয়াকরণ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল করবে এটাই স্বাভাবিক। আর রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলতা দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানের অবনতি তথা সমগ্র দেশটাকে অর্থনৈতিক মন্দার দিকে নিয়ে যাবে এটা কখনোই শান্তিকামী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জনগণের কামনা হতে পারে না। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির যে হানিকর পরিস্থিতি তা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন সংঘটন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটা কখনোই কাম্য হতে পারে না যে, একটি সরকার তাদের বাহুবলে একাধিকবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবেন। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত এমন কোন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি যে নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা নেই। তাই বাংলাদেশের জন্য এই ক্রান্তিকালীন মুহূর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এখন জনগণের চাওয়া। একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনই পারে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ভয়াবহ ছোবল থেকে দেশ, দেশের অর্থনীতি তথা দেশের জনগণকে রক্ষা করতে।
মুহাম্মদ মুস্তাফিজ
মানবিক বিভাগ
নটরডেম কলেজ, ঢাকা
----
শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হোক সবার অঙ্গীকার
বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে একটি উন্নয়নশীল দেশ। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এ দেশে যে গণতন্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল তা আমাদের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণে তা আজ ব্যাহত হয়েছে। আমরা আজকে এক প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতিতে মেতে উঠেছি। তাই আজকে গণতন্ত্রের আদর্শ জনগণের কল্যাণ তা পরিবর্তিত হয়ে ক্ষমতা দখল করাই হয়েছে গণতন্ত্রের মূল আদর্শ। যার ফলশ্রুতিতে দেখা যায় যে, সম্ভাবনাময় উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা ক্রমাগতভাবে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়ছি যা মোটেও আমাদের কাম্য নয়। তাই গণতান্ত্রিক সুফল লাভ করতে সরকারি দল এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে আমরা যদি আদর্শ রাজনীতি চর্চা করি তবেই গণতন্ত্রের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অগ্রসর হয়ে উঠবে।
রাসেল আহমেদ
বিজ্ঞান বিভাগ,একাদশ শ্রেণী
নটরডেম কলেজ, ঢাকা
----
অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হলে সুষ্ঠু রাজনীতি আবশ্যক, আর
এজন্য দরকার শান্তিপূর্ণ নির্বাচন
সারাবিশ্ব আজ গণতন্ত্রের জোয়ারে উদ্ভাসিত। আমরা শুধু নামেই গণতান্ত্রিক, কিন্তু তাতে রয়েছে চর্চার অভাব। এজন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়ে রয়েছে। নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের অভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজ হুমকির সম্মুখীন। একেবারে বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করলে তা আরও করুণ হয়ে দাঁড়ায়। এ দেশে আজ ১৮ কোটি মানুষের হাহাকার, দীর্ঘশ্বাস আর নীরব ক্রন্দন। হত্যা, লুণ্ঠন, দুর্নীতির পাহাড় চাপায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়েছে মানুষের আর্তনাদ। এছাড়াও রানা প্লাজার ঘটনা, হলমার্ক কেলেংকারি, বিভিন্ন ব্যাংকের টাকা আত্মসাত্, পদ্মা সেতু দুর্নীতি আরেকবার দেশের করুণ অবস্থার কথা মনে করিয়ে দেয়। অন্যদিকে হরতাল যেন মুখের বুলি হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর ‘ককটেল’, এটা তো কোন ব্যাপারই না। এই অবস্থায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভব নয়। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির জন্য দরকার স্থিতিশীল রাজনীতি। যার মাধ্যমে এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে আর এজন্য চাই সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন যা হবে সম্পূর্ণই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে।
সরোয়ার হোসেন রকি
বিজ্ঞান বিভাগ,
নটরডেম কলেজ, ঢাকা
