শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনীতিক উন্নয়নের অবশ্যই পূর্বশর্ত
একটি দেশ বা রাষ্ট্র পরিচালিত হয় কিছু সীমাবদ্ধ আইন এবং সরকার বা ব্যক্তিগত দ্বারা। কিন্তু যখন সেই সরকারই দেশের মধ্যে নানা রকম বিশৃঙ্খলা এবং অশান্তিপূর্ণ কার্যকলাপ সৃষ্টি করে ঠিক সেই সময় দেশের অর্থনীতিতে নেমে আসে অন্ধকার, যা সমাজ বা দেশের জন্য সঠিক নয়। আজ আমাদের দেশের মধ্যে নানা রকম অসামাজিক এবং দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। শুধু রাজনীতি নয়, এমনকি ক্ষমতা প্রয়োগে কিছু ঘটনা আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে এবং জানতে পারছি। তবে ক্ষমতা সঠিক এবং আইন অনুযায়ী হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্থনীতির এক বিরাট অংশের উন্নতি করা যেতে পারে। কারণ আজ আমাদের দেশের সকল অর্থনৈতিক বিষয়গুলো সরকারের উপর নির্ধারিত। যদি তারা প্রত্যেক রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সুসম্পর্ক রাখে এবং সঠিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তবে দেশের বর্তমান যে অর্থনৈতিক হ্রাসগুলো দেখা গিয়েছে বা দিচ্ছে সেগুলোর উন্নয়ন এবং উন্নতি সম্ভব। তাই আমার মতে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত।
মো. রাব্বী আরাফাত,
ব্যবসায় বিজ্ঞান, নটরডেম কলেজ
শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব
কোন দেশের ভেতরের কাঠামো বা বাইরের চাকচিক্য বজায় রাখতে সে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বলা হয়ে থাকে অর্থনীতি উন্নয়নের মূল চাকা আর এই চাকাকে যতদূর পর্যন্ত গড়ানো যায় ততদূর পর্যন্তই জাতির ভাগ্য গাঁথা হয়। একবিংশ শতাব্দিতে এসে জাতীয় চেতনাবোধে বিশ্বের বিভিন্ন জাতি নিজেকে করে তুলেছে সমৃদ্ধ। ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টায় জনগণের ভাল-মন্দ দেখাশোনা করতে ভুলে গেছে সরকার। কথায় বলে যে বনে যায় সেই বাঘ হয়। আর সেই বাঘ শিকার করার ফাঁদে এঁকেছে বিরোধী দল। এতে করে রাজনীতি করতে গিয়ে অপরাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছে পরস্পর বিরোধীদলগুলো। আর কলুর বলদের মতো ঘানি টানছে আমজনতা। যখন এই আমজনতার প্রয়োজনেই দেশ ও সরকার গঠিত হয় তখন ক্ষমতায় অবস্থানরত লোকগুলোর প্রয়োজন দেশ ও জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। ক্রমাগতভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পর্যাপ্ত পরিমাণে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাব, সরকারি হাসপাতালগুলোর সুচিকিত্সার অভাব এই সমস্যার সমাধান না করতে পারা, হলমার্ক কেলেংকারি, ডেসটিনির জালিয়াতি, শেয়ার মার্কেট ধস ইত্যাদি সমস্যাকে টোপ করে বিরোধী দলের হরতাল, অবরোধ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ধস নামাচ্ছে। সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন। এতে করে জনমনে আশংকা জেগেছে শান্তিপূর্বভাবে কিভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। হয়তো কেউ কেউ মনে করছে ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন দ্বারাই বোঝা যায় জনগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। আবার কেউ মনে করবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট গ্রহণ। এতেও বিশেষ কোন ফল আসবে বলে মনে হয় না। কারণ সরকার যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক চায় না তখন বিপক্ষে ভোট যাওয়ার সম্ভাবনাই থেকে যাবে আর বিরোধীদল পুরনায় টোপ গলধঃকরণ করে প্রচারে নেমে যাবে। হবে হরতাল, অবরোধ আবারো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। যদি দু’পক্ষ আলোচনায় বসে কোন একপক্ষ নমনীয় হয় সেক্ষেত্রে। তবে এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের উপরই গুরু দায়িত্ব বেশি। আর এভাবেই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে উন্নয়নের পক্ষে এগিয়ে যেতে হবে।
লিপি আক্তার,
সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয়, করটিয়া, টাংগাইল
শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরই পারে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে
শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরই পারে একটি দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করতে। যার উজ্জ্বল উদাহরণ হল বিশ্বের উন্নত দেশগুলো। কিন্তু আমাদের দেশে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়। আমরা যে যখনই ক্ষমতায় যাই তখনই নিজ দলীয় স্বার্থে সংবিধান রচনা করি এবং পরবর্তীতে সংবিধানের দোহাই দিয়ে নিজেদের অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখতে চেষ্টা করি। এতে বিরোধীদলগুলো জ্বালাও পোড়াও নীতি গ্রহণ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরূপ প্রভাব ফেলে। ক্ষমতার মোহে আমরা সবাই নিজ দলীয় স্বার্থকে বড় করে দেখি। একবারও তাকাই না দেশ ও জনগণের দিকে। এই ক্ষমতা হস্তান্তরের টালবাহানায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত হয়। যেমন বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাহত হয়, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়। প্রবৃদ্ধি হার নিম্ন হয় এবং বিরোধী দলের প্রতি সরকারি দল বিরূপ মনোভাব পোষণ করে। তাই বলা চলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরই দেশ, জাতি এবং জনগণের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে।
সমীর মন্ডল,
দ্বাদশ শ্রেণি, নটরডেম কলেজ,
মানবিক বিভাগ
সবাই মিলেমিশে যেভাবে দেশের উন্নতি হয় সেভাবেই কাজ করতে হবে
দেশের অর্থনৈতিক চাকা দিনে দিনে পিছিয়ে যাচ্ছে কারণ দু’দলই এখন জয়ের আশায় বিভর রয়েছেন। মাঝপথে জাতীয়পার্টিও অবস্থান করছেন। কিন্তু আমরা জনগণ চাচ্ছি দেশের উন্নতি এবং নিরাপদভাবে জীবন-যাপন করতে এটাই হলো জনগণের চাওয়া কিন্তু তা না হয়ে দু’পক্ষ শুধু ক্ষমতার জন্য অনেক কিছু করছেন এটা করতে গিয়ে যে দেশের অর্থনৈতিক চরমভাবে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে সেটা একটু খেয়াল রাখা উচিত। শান্তিপূর্ণ উপায়ে আগামী নির্বাচনসহ অন্য সকল কাজকর্ম যদি দু’পক্ষ অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে এগিয়ে যায় তাহলে দেশের মানুষের এবং বাংলাদেশ এমন থাকবে না দেশের সকল কিছুই উন্নতি হবে কারণ চিন্তা করে দেখুন ৫ বছর তো বলতে বলতে চলে যায়। এবং পুরাতন হিসাব নিতে নিতেই শেষ, মাঝ পথে জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায় এবং সরকার কাজ হাতে নেয় সেটা শেষ করাও সম্ভব হয় না। তাই বলবো সম্ভব হলে মিলেমিশে কাজ করে দেশের উন্নতি হয় সেই কাজই করুন। তাহলেই শান্তিপূর্ণ উপায়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব।
মো. মোশারফ হোসেন সোহাগ,
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম
