দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা : জীববিজ্ঞান

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৩, ১৯:২৬
অধ্যায়-১ উদ্ভিদের বিভিন্নতা পরিচ্ছেদ-৫ কিংডম ঃ ফানজাই শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের জন্য রয়েছে জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের ১ নম্বর অধ্যায়ের পঞ্চম পরিচ্ছেদ ‘কিংডম ঃ ফানজাই’ থেকে একটি একটি সৃনজশীল প্রশ্নোত্তর। ছুটিতে সেঁজুতি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আঙিনায় ঘোরার সময় ছায়াযুক্ত স্থানে সাদা ছাতার মতো কিছু বস্তু লক্ষ্য করল। পরবর্তীতে সেঁজুতি মামার কাছ থেকে এই ছত্রাক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারল। প্রশ্ন: ক. ঈস্টের বৈজ্ঞানিক নাম লেখ। প্রশ্ন: খ. পেনিসিলিয়ামকে সবুজ বা নীল ছত্রাক বলা হয় কেন? প্রশ্ন: গ. সেঁজুতির পর্যবেক্ষণকৃত ছত্রাকটির গঠন বর্ণনা কর। প্রশ্ন: ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছত্রাকটি কি অসম্পূর্ণ ছত্রাক? যুক্তিসহ মতামত দাও। উত্তর:ক.ঈস্টের বৈজ্ঞানিক নাম Saccharomgces cervisiae. উত্তর: খ. Penicillium একটি মৃতজীবী ছত্রাক। পেনিসিলিয়াম মাটি, বায়ু, বিভিন্ন ফলমূল ও শাক-সবজিতে বিদ্যমান। পচনশীল ফলমূল, শাক-সবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদিতে এরা অসংখ্য সবুজ বা নীল স্পোর অর্থাত্ কনিডিয়া উত্পন্ন করে। সেজন্য পেনিসিলিয়ামকে নীল বা সবুজ ছত্রাক বলা হয়। উত্তর: গ. সেঁজুতির পর্যবেক্ষণকৃত ছত্রাকটি agaricus| মাইসেলিয়াম থেকে ছাতার মত বায়বীয় অংশ সৃষ্টিকে ফ্রুকটিফিকেশন বলে এবং ঐ বায়বীয় অংশকে agaricus উদ্ভিদের ফ্রুটবডি বলা হয়। নিম্নে agaricus-এর দৈহিক গঠন বর্ণনা করা হলো:agaricus-এর দেহ দুইটি অংশে বিভক্ত। যথা: ১. দৈহিক অংশ বা মাইসেলিয়াম ২. জনন অংশ বা ফ্রুটবডি ১. মাইসেলিয়ামঃ মাইসেলিয়াম অত্যন্ত শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট ও সূত্রাকার এবং মাটি বা জৈব বস্তুর ভেতরে অবস্থান করে। মাইসেলিয়াম অসংখ্য সাদা বর্ণের, প্রস্থ প্রাচীরযুক্ত হাইফি নিয়ে গঠিত। হাইফার কোষগুলোতে দানাদার প্রোটোপ্লাজম, একাধিক নিউক্লিয়াস, ছোট ছোট গহবর ও সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে তেলবিন্দু অবস্থান করে। অনেক সময় হাইফিগুলো একত্রে জড়াজড়ি করে দড়ির মত গঠন তৈরি করে। একে রাইজোমর্ফ বলে। ২. ফ্রুটবডি: ফ্রুটবডি মাটি বা আবাদ মাধ্যম থেকে উপরে বৃদ্ধি পায়। এর কয়েকটি অংশ থাকে। গোড়ার দিকে কাণ্ডের মত অংশকে স্টাইপ এবং উপরের দিকে ছাতার মত অংশকে পাইলিয়াস বলে। পাইলিয়াসের নিচে ঝুলন্ত পর্দার মত অংশকে গিল বলা হয়। স্টাইপের মাথায় যে চক্রাকার অংশ রয়েছে তার নাম অ্যানুলাস। agaricus-এর ফ্রুটবডিকে ব্যাসিডিয়োকার্প বলে। গিলে বহু ব্যাসিডিয়াম তৈরি হয়। প্রতিটি ব্যাসিডিয়ামের শীর্ষে আঙুলের মত ৪টি অংশের মাথায় ১টি করে ব্যাসিডিয়োস্পোর তৈরি হয়। অনুকূল পরিবেশে স্পোর অংকুরিত হয়ে নতুন মাইসেলিয়ামের জন্ম দেয়।