রাজনীতির কষাঘাতে বিপন্ন আমাদের
অর্থনীতি
দেশের অর্থনীতি আজ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। দেশের অর্থনীতির একি বেহাল দশা! কেন আজ আমাদের সামনে অর্থনীতির এই অনিশ্চিত ভবিষ্যত্? কেনই বা উন্নতির জাহাজ মাঝ পথে থেমে গেছে? কেনই বা আজ আশার সূর্য অস্তগামী? আমার মতে দেশের ত্রুটিপূর্ণ রাজনীতিই এর জন্য দায়ী। দেশের রাজনীতির সিংহাসনে যেই বসে সেই মনে করে দেশটা তার একার। কেউ শুরু করে গুম হত্যা কেউবা শুরু করে হরতাল কেউবা হয় কালো বিড়াল আবার কেউবা হয় নতুন তত্ত্বের উদ্ভাবক। এই যদি হয় দেশের রাজনীতি তাহলে আমাদের সোনালী সূর্যটি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে। তাই আমাদের সুপারিশ, ‘বন্ধ করুন এই নাটক, নিজেরা অন্যের কথার সম্মান দিন। আপনারা বসে সমাধানে আসেন। দয়া করে নিজের স্বার্থটা না দেখে সাধারণ জনগণের কথা ভাবেন। দেশের কথা ভাবেন। আর নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি তার স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী হলেই মানুষ খুশি হয়।
ফয়সাল আহমেদ,
বিজ্ঞান বিভাগ,
নটরডেম কলেজ
অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্তই হলো শান্তিপূর্ণ নির্বাচন
একটি গণতান্ত্রিক দেশের রাজনীতির সামগ্রিক কার্যাবলী পরিচালনার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় দেশের অর্থনীতি। কিন্তু আমাদের দেশের অর্থনীতির অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা উন্নতির স্বর্ণশিখরে আরোহণ করতে আজো ব্যর্থ। কেননা অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে রাজনীতিবিদগণ। কিন্তু আমাদের দেশের ১৯৭৫ পরবর্তী রাজনীতিবিদদের চিন্তা-ভাবনা অনেকটা অত্মিকেন্দ্রিক। আজ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ইন্ধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অপহাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর তা আঘাত হানছে দেশের অর্থনীতির ওপর। আমাদের এই রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গড়ে তুলতে হবে অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত। আর ভিত রচনায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই। আমাদের একজন জনপ্রিয় নেতা বলেছিলেন, ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব। কারো সাথে শত্রুতা নয়’ এই মানসিক চিন্তা নিয়ে আমাদের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বসতে হবে এক টেবিলে। বের করতে হবে কিভাবে আমাদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করা যায়। তাই আমি নতুন প্রজন্মের সর্বোপরি সোনার বাংলার নিপীড়িত মানুষদের প্রতিনিধি হয়ে বলতে চাই শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং একথাটি ধ্রুব সত্য।
মো. কাউছার মাহমুদ (হিমু),
অনার্স ১ম বর্ষ,
অর্থনীতি বিভাগ,
সরকারি তিতুমির কলেজ
বাংলাদেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যেতে পারে
আমাদের সকলকেই মনে রাখতে হবে যে নেতার চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। একজন আদর্শবান রাজনীতিবিদ দেশের স্বার্থে, দেশের জনগণের স্বার্থে সবধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকেন। তাকে অবশ্যই বুঝতে ও মানতে হবে যে, জনগণ কি চায়। জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার মধ্যে কোন গৌরব নেই। যিনি দেশকে প্রকৃত ভালবাসেন তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত থাকেন। আমরা সকলেই জানি, যেদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করে সেদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যায়। এমনকি এক পর্যায়ে তা বন্ধও হয়ে যেতে পারে। যার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। তাই সরকারের উচিত শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশকে অর্থনৈতিক সংকটের হাত থেকে রক্ষা করা।
অজিত চন্দ্র বর্মণ,
মানবিক বিভাগ,
নটরডেম কলেজ, ঢাকা
অর্থনীতির উন্নয়নে চাই রাজনীতিবিদদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন ও দেশপ্রেম
আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা কি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন চান? তবে একথা সত্য যে, আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় বড় অর্জনগুলো এসেছে রাজনীতিবিদদের হাত ধরে। কিন্তু আজ কেন আমাদের হরতালের মত কর্মসূচি দেখতে হচ্ছে, হরতালের নামে গাড়িপোড়াও, গাড়ি ভাঙচুর, জ্বালাও পোড়াও ও রাস্তা অবরোধ, ককটেল বিস্ফোরণের মত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড দেখতে হচ্ছে এবং বিভিন্ন সময় নানান ইস্যুতে কিছু রাজনীতিবিদের কাছ থেকে দেশ অচল করে দেয়ার মত কর্মসূচির কথাও শোনা যায়। কিন্তু কোন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ কি এ ধরনের কর্মসূচির কথা ভাবতে পারে—কখনই না, তাই অর্থনীতির উন্নয়নে শুধু শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই যথেষ্ট নয়, চাই রাজনীতিবিদদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন ও দেশপ্রেম।
হাবিবুর রহমান,
শিক্ষার্থী, পাতারহাট আর.সি. কলেজ,
মেহেন্দীগঞ্জ, বরিশাল
