টেলিফোনে পাঠকের মতামত

সিটি নির্বাচনে বিজয়ীদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৩, ২১:০৩
দেশের প্রধানতম দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ওনার বক্তব্য সত্য হলে তিনি নির্বাচিত মেয়রদের শপথ পাঠ করাতে পারেন না। আর যদি শপথ বাক্য পাঠ করান তবে দেশবাসী জানবে ওনার কথার সাথে কাজের মিল নেই। মো. ফখরুল ইসলাম টিপু সেনবাগ, নোয়াখালী ক্ষমতাসীন সরকার আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো এ সময় গণবিরোধী এত সব কাজ করেছে যে, জনগণ সরকার ও দলটির প্রতি সম্পূর্ণ বিমুখ হয়ে পড়েছে। নির্বাচনে ওই বিমুখতারই প্রতিফলন ঘটেছে। অন্যের ওপর দোষ চাপানো অপরাজনীতির নামান্তর মাত্র। খায়রুল ইসলাম (ফুল) আরাপপুর, ঝিনাইদহ সরকারকে সঠিক রাজনীতি করতে হবে। ব্যর্থতার দায়ভার অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ফায়দা লাভের সম্ভাবনা নেই। সদ্য সমান্ত সিটি নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ঠিক নয়। সোহাগ ভাগলপুর লেন, নবাবগঞ্জ, ঢাকা সাম্প্রতিক ৫টি সিটি নির্বাচনে দলের ভরাডুবিতে প্রধানমন্ত্রীর মেজাজ যে খুবই খারাপ হয়ে আছে তা বোঝা গেছে তার বক্তব্যেই। গণতন্ত্রে জনগণই ক্ষমতার উত্স। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দলকে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা দরকার। প্রধানমন্ত্রী জনমতের প্রতি যে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী কোন ব্যক্তি করতে পারেন না। আইরিন সুলতানা সঞ্জু ধুপপুর, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম ক্ষমতাসীন জোট সমার্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের জন্য জনগণ দায়ী নয়। দায়ী ক্ষমতাসীন জোট বিশেষত আওয়ামী লীগ। গত সাড়ে চার বছরে সরকারের সফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পরিসংখ্যান অনেক বড়। এজন্য সরকারের ভরাডুবি হয়েছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে আমরা একমত হতে পারবো না। লাডলা পিলখানা, ঢাকা সিটি নির্বাচনে বর্তমান সরকারের সমর্থিত প্রার্থীরা হারার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। জনগণ তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে; তাদের সম্পর্কে এরকম লাগামহীন মন্তব্য প্রকারান্তরে জনগণকে অপমান করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বুঝাতে চাচ্ছেন যে, তার কিংবা তার সমর্থিত প্রার্থীরা ধোয়া তুলসী পাতা তাহলে শেয়ারবাজার, ডেসটিনি, হলমার্ক, রেলের কালো বিড়াল, কুইক রেন্টালও পদ্মাসেতুসহ অগণিত দুর্নীতির লক্ষ কোটি টাকার হিসাব গেল কোথায়। স্মরণ করা যেতে পারে যে, সরকার সমর্থিত সিটি নির্বাচনের প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে দেয়া হিসাব অনুযায়ী আগের বারের চেয়ে এবার অনেক সম্পত্তির মালিক হয়েছে। তাহলে কি তারা আলাউদ্দিনের চেরাগের সন্ধান পেয়েছিলেন? জনগণ ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছেন গত ৪ বছরে বর্তমান সরকারের দ্বারা এমন অবৈধ লেনদেন অপকর্ম নেই যা তারা করেননি। তাই বলছি মুখে মুখে সাধু সাজার দরকার নেই। সাজলেও জনগণ তা বিশ্বাস করেন না। এ সকল অপকর্মের ভয়ে নিজের অধীনে সরকার নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় আসার পাঁয়তারা করছে। শাহ আলম খান সরল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম ৪টি সিটি মেয়রের বেপরোয়া সম্পদ বৃদ্ধির খবর পত্র-পত্রিকায় ফলাও করে ছাপা হয়েছে। তাহলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেন এমন মন্তব্য করলেন? রিফাত ঝিনাইদহ যেখানে আগামী ২৭ জুলাই ৫টি সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়রদের শপথ অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে সিটি করপোরেশনের বিজয়ী মেয়রদের নিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ঐ আক্ষেপপূর্ণ মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। কারণ দেশের জনগণ অবাধে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত করেছেন। এখন তাদের অসত্, দুর্নীতিপরায়ণ, সন্ত্রাসী ও খুনী বলা মোটেই উচিত হয়নি বলে আমি মনে করি। কেননা যারা তাদের ভোট দিয়েছেন বা সহযোগিতা করেছেন তারা কি সবাই সন্ত্রাসী? কাজেই জনগণ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য আশা করেন নি। আলহাজ্ব মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু) হাউজিং স্টেট, রাজশাহী ৬২০২ ৫টি সিটি নির্বাচনে ৫-০তে শোচনীয়ভাবে হেরে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে ও দুঃখ ভারাক্রান্ত হূদয়ে বিজয়ী প্রার্থী এবং ভোটারদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা একদম সঠিক। কেন সঠিক বলছি—‘এক কৃষক চৈত্রমাসে কাঠ ফাটা রৌদ্রে তার হারিয়ে যাওয়া হালের দুটি বলদ গরু বহু খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে বুক ফাটা কান্নায় কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরেন। বাড়ির আঙ্গিনায় খেলারত তার ছোট ছেলে বাবার এই অবস্থা দেখে দৌড়ে গিয়ে বাবাকে প্রশ্ন করে ‘বাবা তোমার কি হয়েছে’? তুমি এভাবে কাঁদছো কেন? বাবা ছেলেকে বুকে নিয়ে বলতে থাকে, ভাইরে আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। ভাইরে আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। এখন আমরা কি করে খাব? এসব কথা শুনে কৃষকের বউ রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এসে স্বামীকে ধমক দিয়ে বলে উঠে এই তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে। আপন ছেলেকে ভাই ভাই করে ডাকছো। কৃষক তখন স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে আম্মা গো, আম্মা গো, আমাদের হালের গরু হারিয়ে গেলে মাথা কি আর ঠিক থাকে। গল্প এখানেই শেষ। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে মাথা ঠিক রাখতে হবে। গরম হলে চলবে না। জনগণের জনরোষের সঠিক কারণ নির্ণয় করতে হবে। তাদের কথায় উত্তেজিত না হয়ে সঠিক জায়গায়, সঠিক সব ব্যক্তিত্বকে বসাতে হবে। জনগণ ক্লিন বা ডার্টি বুঝে না। বুঝে শুধু সুশাসকের সুশাসন। মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা রাজশাহী শহর ৪ সিটির নবনির্বাচিত মেয়র কাউন্সিলরদের সম্পর্কে গণতন্ত্রের মানসকন্যা জনগণের অভিভাবক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা এখনকার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ সত্য কথা বলেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ক্লিন ইমেজ হলেও জনগণ আবারও সেই ভুল করে ক্রিমিনালদের বিজয়ী করেছেন। বিএনপি জামায়াত জোট সরকার যখন ছিল তখনকার সময় সন্ত্রাসী জঙ্গি গোষ্ঠী বাংলা ভাইয়ের বাহিনী অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শোডাউন করেছিল। ঢাকায় আওয়ামী লীগের শান্তিপ্রিয় সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নির্মমভাবে নিহত হয় আইভি রহমানসহ ২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। খুলনায় এরশাদ সিকদারসহ সারাদেশে বোমা হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র, মামলা, হামলাসহ অসংখ্য সন্ত্রাসীদের উস্কিয়ে দেয় বিএনপি। যার প্রমাণ মেলে ভারতীয় কারাগারে আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, সাজ্জাদ হোসাইনের স্বীকারোক্তি থেকে । ফারুক আহম্মেদ বাগমারা, রাজশাহী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একটি আশাজাগানিয়া রাজনৈতিক মুখরোচক শ্লোগান হলো, “ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া”। অথচ যাদেরকে উনি অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন, তাদের ভোটাধিকার যদি প্রধানমন্ত্রীর দল ও দলীয় প্রার্থীদের বিপক্ষে যায় তাহলে, সূক্ষ্ম, স্থূল ও দুর্নীতি বাজদেরকে নির্বাচিত করেছেন বলে তিরস্কার করেন। অর্থাত্ নিজপক্ষে না গেলে, উনি জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে কৃপণতা করেন। সম্প্রতি পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে, প্রধানমন্ত্রীর সার্টিফাইড সত্ ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীরা নির্বাচনে হেরে যাওয়ায়, বিরোধী পক্ষকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি ও খুনের সাথে জড়িতরাই জিতেছেন বলে মন্তব্য করেন। যা সত্যিকার অর্থে পীড়াদায়ক। সরকার প্রধানের নিকট থেকে এ ধরনের উক্তি বা মন্তব্য দেশবাসী আশা করেন না। আমরা গণতন্ত্রের কথা বলবো, অথচ গণরায়কে মেনে নিতে কষ্ট বোধ করবো, এটা গণতন্ত্রের পরিপন্থি। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকর গাছা, যশোর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য বাংলদেশের সম্মানিত ভোটারদের বিব্র্রত, অপমানিত করেছে।জনগণের ভোটই রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার চেয়ারে বসায় আবার নামায়। সেই জনগণের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে কটুক্তি জনবিচ্ছিন্ন হওয়ারই নামান্তর। পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের ভরাডুবি ও ১৮ দলীয় জোটের নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে বিভিন্ন মহলের বিচার বিশ্লেষণে দেখা যায় জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকারের আমলনামার জবাব দিয়েছেন। কিন্তু ১৪ দলীয় জোট এখনও সুশীল সমাজের মত ও জনমতকে মানতে নারাজ। বিগত সাড়ে চার বছরে সরকারের অনেক নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়া, দুর্নীতি ও আইন-শৃংখলার অবনতি, বিরোধী দল, হেফাজতের উপর নির্যাতন একাধিক কেলেংকারি ইত্যাদি । আর দেশের মানুষ এগুলোকেই ভরাডুবির কারণ বলে মনে করেছে। ১৪ দলীয় জোটকে মানুষ ভোট দিয়েছিল বড় রকমের দিনবদল অর্থাত্ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের আশায়, কিন্তু বিগত সাড়ে চার বছরে তার কতটুকু জনগণ পেয়েছে পাঁচ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ফলাফল তার ইঙ্গিত বহন করছে। এত কিছুর পরও সরকারি দল মনে করছে জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে না। যদিও এটা তাদের মনের কথা নয়। এখানে স্থানীয় ইস্যুর চাইতে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড ও ব্যর্থতার বিষয়গুলোই অধিক গুরুত্ব পেয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনমনে সন্দেহ ও শঙ্কা এখনও কাটছে না। জাতীয় নির্বাচন কিভাবে হবে তার রূপরেখা এখনও তৈরি হয়নি। বর্তমান সরকারের যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ইচ্ছা থাকে তাহলে নির্বাচনকালীন একটি নির্দলীয় সরকারের দাবিতে একমত হতে সমস্যা কোথায়? ক্ষমতাসীনদের মনে রাখা দরকার ভবিষ্যতে তাদেরও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন পড়তে পারে। সমপ্রতি ক্ষমতাসীনরা তাদের কর্মকাণ্ড ও ব্যর্থতার কথা স্বীকার করতে শুরু করেছেন এবং তা সংশোধনের জন্য জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন । সরকারের এ শেষ সময়ে এসে এ উপলব্ধি তাদের কোন কাজে আসবে বলে মনে হয় না। ভুল স্বীকার করে আত্মশুদ্ধ হতে হবে আর এর কোন বিকল্প নেই আওয়ামী নেতৃত্বে। সরকারের এ শেষ সময়ে আমলে পরিবর্তন আনা যেহেতু সম্ভব নয়। এ কারণে এখন শুধু নিজেদের বিবেককে পরিবর্তন করে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে হস্তান্তর করা উচিত। যা তাদের ভবিষ্যত্ রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। মো. আবদুল্লাহ আল মামুন সারিয়াকান্দী, বগুড়া বক্তব্যটি তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবং জনগণ তাঁর অনুভূতির সঙ্গে একমত নন বলেই এমন ফলাফল। এটা সত্য যে, স্থানীয় নির্বাচন হলেও পাঁচ সিটি নির্বাচনে জাতীয় ইস্যু প্রাধান্য পাওয়ায় ব্যক্তি ইমেজ ও যোগ্যতা গুরুত্ব হারিয়েছে বিশেষভাবে। বাংলাদেশের বাস্তবতায়—‘যারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি আর খুনের সঙ্গে জড়িত’— এমন পরিভাষাগুলোও আপেক্ষিক এবং আমাদের জনগণ সহসাই অতীত ভুলতে ভালোবাসেন , তাই তাদের উদার দৃষ্টিভঙ্গি সব মন থেকে মুছে আবার নির্ভরতার আশ্রয় খোঁজে। সাম্প্রতিক সিটি নির্বাচন কোন দলের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস বা বৃদ্ধির মাপকাঠি না হলেও তা যে জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা তা বোধ হয় সবাই বুঝে গেছেন, তাই এতো বিশ্লেষণ-পর্যালোচনা... অবশ্যই এগুলো সুখকর ইঙ্গিত। সিটি নির্বাচন স্থানীয় বা আঞ্চলিক হলেও এর ভোটারগণের চরিত্রে ‘মিনি বাংলাদেশ’ প্রতিফলিত হয়— চিন্তার বিষয় এটাই। আমাদের জনগণ ঐতিহ্যগতভাবে তাদের ভাবনায় লালন করে— ‘হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোথা, অন্য কোন্খানে’! (বলাকা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। বৃহত্তর রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে জনগণের অনুভূতি বুঝতে হবে এবং সে মতে নিজেদেরকে সাজাতে হবে, বিশ্লেষণ করতে হবে— পাঁচ সিটি নির্বাচন সে শিক্ষাই দিয়ে গেল। আর জনগণ কখনো ভুল করে না। কেননা, জনগণের ইচ্ছার মধ্য দিয়েই ‘ক্ষমতার মালিক’ মহান আল্লাহ্র অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয়। অধ্যাপক মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া গাজীপুর গাজীপুরের নির্বাচনে সরকারি দলের পরাজয় এবং বিরোধীদলের জয়কে ঘিরে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। কেউ সরকারি দলকে ছোট এবং কেউ হেয়প্রতিপন্ন করেছেন, আবার অনেকে প্রশংসাও করেছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীও তা থেকে বিরত ছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, যারা সত্, ক্লিন ইমেজের এবং উন্নতি করেছেন তারা ভোট পাননি। যারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং খুনের সঙ্গে জড়িত তারাই নির্বাচিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যটি ছিল রাজনৈতিক। বিপক্ষ দলকে হেয় বা ঘায়েল করার জন্য বক্তব্যটি দিয়েছিলেন। এ বক্তব্য শুধু বিরোধীদলকেই হেয় করা হয়নি পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনকেই হেয় করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী অপ্রিয় হলেও একটি সত্য কথা বলেছেন। আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতা যারা নির্বাচিত হন তারা বেশিরভাগই দুর্নীতিবাজ এবং ঐসব চরিত্রের অধিকারী। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। জসিম মজুমদার পুরানা পল্টন লেন, ঢাকা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বা সেই দলের নেতা-নেত্রী কিংবা দলীয় প্রধানমন্ত্রীর বা মন্ত্রী পরিষদের চাওয়া-পাওয়া যে শেষ কথা নয় বরং জনগণের চাওয়া-পাওয়াই শেষ কথা সেটা সদ্যসমাপ্ত পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জনগণ তাদের সুচিন্তিত রায়ের মাধ্যমে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে প্রমাণ করে দিয়েছে। স্থানীয় জনগণের মন-মর্জির তোয়াক্কা না করে, পাঁচ সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সর্বশেষ দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ খ্যাত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৯ জন ভোটার অধ্যুষিত জনগণের সাথে জাহাঙ্গীর নাটকের মহড়া প্রদানকারীদের জনগণ চিনে নিতে মোটেও ভুল করেনি। জনগণ সরকার বা বিরোধীদলীয় শীর্ষ নেতাসহ সকল নেতা, প্রধানমন্ত্রীসহ সকল মন্ত্রী ও দেশসেবকদের কথা ও কাজের প্রতি সব সময় যে নজর রাখেন এ সত্য অস্বীকার করার জো নেই। ফলে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ১৬ কোটি জনগণের মন্ত্রী হয়ে জনগণকে রাবিশ ও ভোগাস বলে বেড়াবেন আর জনগণ তা মেনে নেবে এটা আশা করা যায় কি? ৯০% জনগণের আস্থা হারিয়ে সমীক্ষা ভুল বলে অযৌক্তিক দাবি উত্থাপন জনগণ মেনে নেবে কি? ক্লাবে বসে সুরা-সাকি নিয়ে আড্ডা দিয়েও নোবেল পুরস্কার পাওয়া যায় বলে হাস্যকর মন্তব্য করার অধিকার কারো আছে কি? বিভাগীয় ও জেলা শহরের মেয়র পদে ভরাডুবির কারণ না খতিয়ে এগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন নয় বলে জনগণকে বোকা বানানোর যুগ এখনো আছে কি? গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে দলীয় ভোট তদারকির জন্য ৫৭ জন ক্ষমতাসীন দলের জাতীয় সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দেয়া সত্ত্বেও পরাজয় বরণ করা রাজনৈতিক ক্ষমতার মসনদে নিজেদের দেউলিয়াত্বের প্রতিচ্ছবি নয় কি? বিভাগীয় সিটি কর্পোরেশনের সদ্য পরাজিত জনৈক মেয়রের মতে এ দেশের ৯৬% লোক মনে করেন পদ্মা সেতু না হওয়ার জন্য প্রাক্তন যোগাযোগমন্ত্রী দায়ী। অথচ ক্ষমতাসীন দলের প্রধানমন্ত্রী তাকে দেশপ্রেমিক আখ্যায়িত করা হাস্যকর নয় কি? পুলিশের জনৈক পদস্থ কর্মকর্তা বিরোধী দলের চীফ হুইপকে প্রকাশ্য দিবালোকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম হেনস্থা করার পরও পদোন্নতি পান এবং সেই পদোন্নতি যুক্তিযুক্ত হয়েছে বলে স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাফাই গাওয়া শোভন হয়েছে কি? .ব্যাবের গুলি খেয়ে এক পা হারানো ঝালকাঠির নির্দোষ কলেজ-ছাত্র লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে করা র্যাবের মামলা সদ্য প্রত্যাহার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “লিমনের বয়স মাত্র ১৬ বছর। আমরা চাই, সে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ফিরে যাক”। দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর পর মামলা, হামলা, হুমকি, ধমকি দেয়ার পর কী সরকার বুঝতে পেরেছে লিমনের বয়স মাত্র ষোল বছর? দায়িত্বশীল মন্ত্রী কর্তৃক ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডে জড়িত দোষীদের গ্রেফতার অদ্যবধি হয়েছে কি? গুম হওয়া ইলিয়াছ আলী সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসের বাস্তবায়নের খবর আছে কি? সুদীর্ঘ তেইশ বছর ধরে জেএসপি অক্ষুণ্ন রাখার শর্তগুলো পালন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উপর্যুপরি তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও সরকার বাহাদুরের কুম্ভকর্ণের ঘুম না ভাঙার হেতু কি? বিগত আড়াই বছর ধরে ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের অহেতুক অসম্ভব বাড়াবাড়ির রহস্য কি? যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক গবেষণা ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান ফান্ড ফর পিসের (এএফপি) ব্যর্থ রাষ্ট্রের ২৯তম তালিকা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করা হয়েছে কি? ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক ‘গ্লোবাল করাপশন ব্যারোমিটার ২০১২’ শীর্ষক প্রতিবেদনের মন্তব্য মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেয়ার সত্ সাহস স্বয়ং রাজনৈতিক দল ও পুলিশের আছে কী? মূলত জনগণ সত্, ক্লিন ইমেজ ও এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি ঐ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রার্থীদের নাগাল পায়নি! অন্যদিকে নির্বাচিত মেয়রগণ যদি দুর্নীতি, সন্ত্রাস, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি ও খুনের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে প্রশাসন যন্ত্রের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে তারা ভোটে দাঁড়াবার আগে কোন ব্যবস্থা নেয়নি কেন? কাজেই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা না করাই সর্বদিক থেকে উত্তম। ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী ৫-বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা ১২০৩ সদ্য সমাপ্ত পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে আক্ষেপ করেছেন সেটা আসলেই ঠিক নয়। জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স—আমরা জানি। সুতরাং জনগণের এই রায়কেই মেনে নিতে হবে। যেহেতু জনগণ কোন ভুল রায় দেয়নি। এখন দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ একে অপরের প্রতি উস্কানিমূলক বক্তব্য বাদ দিতে হবে। এম এম কে এ রাজা টাইমস আই বেঙ্গলী, মতিঝিল, ঢাকা সবকিছুর জল্পনা-কল্পনা শেষ করে গাজীপুরের নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দরনিরপেক্ষ ভাবে হয়েছে। এতে ১৮ দলীয় জোট জয়লাভ করেছে। জনগণ কোন ভুল সিদ্ধান্ত দেয়নি। কাউছার আকন্দ মতিঝিল, ঢাকা সদ্য সমাপ্ত পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়লাভ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন, তার সাথে আমরা একমত হতে পারছি না। জনগণ যাদের রায় দিয়েছেন সেটা সঠিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন। বাস্তবতার নিরিখেই এই ফলাফল হয়েছে। মো. মোজাহারুল ইসলাম চেয়ারম্যান, ইন্টারন্যাশনাল ডায়লগ এইড ফাউন্ডেশন, সাভার, ঢাকা দেশে এ সরকার আমলে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শুরু হয় নারায়ণগঞ্জে। সম্প্রতি ৫টি সিটি কর্পোরেশনে জয়লাভ করে সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে জনগণ। যেহেতু এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানুষ আনন্দে ভোট দিয়েছে। সুতরাং মানুষ প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী কবিরহাট, নোয়াখালী ক্ষমতাসীন সরকারের এই ৫টি সিটি নির্বাচনের পরাজয়ের একমাত্র কারণ পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ষড়যন্ত্র, হলমার্কের অর্থলোপাট, শেয়ারবাজার ধস, ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মকাণ্ড। শিশির আজিমপুর, ঢাকা সদ্য সমাপ্ত ৫ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনে বিজয়ী মেয়রদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গণতন্ত্রের প্রতি চরম অবমাননাকর। মেয়রদের সন্ত্রাসী, দুর্নীতি ও খুনি আখ্যা দিয়ে তিনি ভোটারদের অশ্রদ্ধা করেছেন। ৫টি সিটি নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হলো এলাকার দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততার অভাব ছিল। মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে না নেমে নিজ নিজ কাউন্সিলর নিয়ে তারা বেশি ব্যস্ত ছিলেন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের আশায় সাড়ে ৪ বছরে দিনবদল কতটুকু হয়েছে এবং সরকার কতটুকু কৃতকার্য হয়েছে ৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবির কিছুটা ইঙ্গিত দেয়। ৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের অশুভ ইঙ্গিত বিরোধী দলের উপর মামলা, নির্যাতন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শেয়ারবাজার ধস, ডেসটিনি, হলমার্ক কেলেংকারি, রানা প্লাজা ধস, পদ্ম সেতুর দুর্নীতি, ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, খুন, গুম, হেফাজতের অবিচার ইত্যাদি বহুবিধ ঘটনা। শুধু শহরেই নয়। গ্রামের মানুষ এ কথা জানে ও বোঝে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু সম্পর্কেও অবগত। তাই জনগণের তুলনামূলক বিচারে যাচাই করতে পারে কারা একটু ভালো এবং সে বিচারেই হয়তো তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। কোরবান আলী চালাকচর, নরসিংদী গণতন্ত্র জনগণের রায়ভিত্তিক শাসন। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের রায় দেয়। প্রতিনিধি নিয়োগ করে। গণতন্ত্রের জনগণের ইচ্ছার রায়ই যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সদ্য সমাপ্ত ৫ সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, আমরা তা সঠিক মনে করি না। নীলুফা আক্তার টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা গণরায় মেনে নেয়ার মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শিত হয়। পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোট সম্পর্কিত প্রার্থীরা বিরোধী দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন। এজন্য জনগণকে দায়ী করা যায় না। অথচ তাদের দায়ী করা হচ্ছে। এটা মোটেও ঠিক নয়। মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদউল্লাহ মিরপুর, ঢাকা আমার প্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটার সঙ্গে আমি একমত নই। আমরা ২০০৯ সালের নির্বাচনে সংসদে জনগণের ভোটে ব্যাপকভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসছি। আমরা তাহলে সে সময় কি দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ছিলাম? নিশ্চয়ই ছিলাম না। তাহলে জনগণ কেন আমাদের ভোট দিয়েছিল। জনগণ এখনো আমাদেরকে ভালোবাসে। কিন্তু আমাদের কিছু নেতাদের জন্য এই দশা। মো. আবদুল করিম বিডিআর ১নম্বর গেইট, পোস্টঅফিস গলি, ঢাকা ৫টি সিটি নির্বাচনে বিরোধী দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে হেফাজতে ইসলাম। সরকার সমালোচনাযোগ্য, সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। মানুষ, সংগঠন, দল, সংস্থা, তার সমালোচনা করতে পারে। হোসনে আরা এনায়েতগঞ্জ লেন, ঢাকা আমরা সবাই ভালো করেই জানি আওয়ামী লীগের ৪ সিটির মেয়র প্রার্থী সবাই ভালো মানুষ। সরকারও কিছু ভালো কাজ করেছেন কিন্তু শেয়ারবাজার, ডেসটিনি, হলমার্ক, ড. ইউনূসকে টানা-হেঁচড়া করা। সর্বশেষ ৫ মে গভীর রাতে হেফাজতে ইসলামের আক্রমণ ও নির্বিচার অত্যাচারের কারণে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি জনপ্রিয়তা থাকে তাহলে অবশ্যই জয়লাভ করবে। আর যদি না থাকে তাহলে জয়লাভ করা কঠিন। মানুষ এখন সচেতন। মানুষ তাদের ভোট দেবে না। সব সরকারই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, লালন-পালন করছেন। কেউই এ ব্যাপারে কম নয়। এই জয়ের পর বিএনপির লাফালাফি করার কিছু নেই। ২০০৮ সালে বিএনপির এরকম অবস্থা হয়েছিল। তাহমিনা আক্তার মিনু পিরোজ হাউস,জিয়ানগর, ঢাকা সদ্য সমাপ্ত ৫টি সিটির মেয়র নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন তা ঠিকই বলেছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় এ দেশের মানুষ বুঝেছে যে তাদের জঙ্গি বাহিনী, সন্ত্রাস আর দুর্নীতিতে দেশ কিভাবে ডুবতে বসেছিল। বর্তমানেও এই পবিত্র রমজান মাসেও তারা হরতাল দিতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না। তাহলে বোঝা যায় প্রধানমন্ত্রীর কথা একেবারেই ঠিক। মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন সেলিম, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা আসলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। ৫ সিটি নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী দিশেহারা। আর এই ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি প্রলাপ বকছেন। পীযূষ কান্তি, শিক্ষক, ভোলা শুধু দুর্নীতির কারণেই সরকার তার অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারেননি। শেয়ারবাজার ধস, ব্যাংকিংখাতে উপর্যুপরি লুটপাট চালিয়ে ফাঁকা করে দেয়া হয়েছে অর্থনীতির ভিত। ফারুক আলম মালিবাগ, ঢাকা ৫ সিটির ভোটারদের উপেক্ষা করে গণতন্ত্রকে তিনি সম্মান করতে চাননি। তুষার লালবাগ, ঢাকা ৫টি সিটির জনগণ সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এজন্য তিনি তাদের সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ বলেছেন। এতে বোঝা যায় জনমতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কোন শ্রদ্ধাবোধ নেই। মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু মহাখালী, ঢাকা ৫টি সিটির নাগরিকরা নিশ্চয়ই ভুল করেননি। তারা ৫ সিটির জনগণ সরকারের উপর্যুপরি দুর্নীতিরই উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। আবুল হোসেন মিরপুর, ঢাকা প্রধানমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন তা অতীব বাস্তব ও সত্য। ইব্রাহিম খলিল, তুতপাড়া, খুলনা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলে গেছেন দিনে দিনে যত বাড়িয়াছে দেনা শোধিতে হইবে ঋণ। সম্প্রতি ৫ সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ভরাডুবি এরই আলামত বলা যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫টি স্থানে সিটির নির্বাচনে বিজয়ীদের সম্বন্ধে যে মন্তব্য করেছেন তা আমরা মেনে নিতে পারলাম না। অথচ এই বিজয়কে সহজভাবে মেনে নিলেই হবে গণতন্ত্রের সত্যিকার বহিঃপ্রকাশ। সৈয়দা নাসরিন সুলতানা, স্যানি সাইড, নিউইয়র্ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও মাঝে মাঝে বলে থাকেন জনগণ ভুল করে না। জনগণ চাইলে তিনি ক্ষমতায় থাকবেন। না চাইলে সরে যাবেন। তাহলে তিনি আবার ৫টি সিটির বিজয়ী মেয়রদের কথা উল্টো করে বললেন কেন। সৈয়দা পারভীন সুলতানা আরামপুর, ঝিনাইদহ বস্তুতগত সাড়ে ৪ বছর দেশের তেমন কোন উন্নয়নই হয়নি। এমনকি রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট সংস্কারের মতো যে কাজগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা না করলে জনজীবন বিঘ্ন হয় সেই কাজগুলো ঠিকভাবে করা যায়নি। সুতরাং ৫টি সিটির নাগরিক সত্যিকার অর্থে উত্তর দিয়েছে। মো. সেলিম মহাখালী, ঢাকা প্রধানমন্ত্রী জনগণকে তিরস্কারের অন্তরালে এমন একটা ভাব প্রকাশ করলেন যেন তাঁর সরকার দুর্নীতি তো দূরের কথা, ভাজা মাছটিও উল্টে খেতে জানে না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তিনি নিজের কথাই বলছেন। বিপ্লব আলম উর্দু রোড, ঢাকা