মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৩, ২১:২৩
দীর্ঘ তিন বছর বন্ধ থাকার পর শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল। আর এ প্রক্রিয়ার শুরুর পেছনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তার এ পদক্ষেপ দীর্ঘদিন অচল থাকা শান্তি আলোচনাকে নতুন গতি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত শুক্রবার ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে আরেক দফা আলোচনার পর জর্ডানের রাজধানী আম্মানে ফিরে এসে কেরি জানান, গত তিন বছরে এই প্রথমবারের মতো সরাসরি শান্তি আলোচনার জন্য দুই দেশ একটি মতৈক্যে পৌঁছেছে। এ লক্ষ্যে তারা একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন। তবে চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি। এর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যে মত ভিন্নতা ছিল তার একটা নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছেন তিনি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, শান্তি আলোচনার বিষয়ে চুক্তিটি ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক হচ্ছে তবে পুরো বিষয়টি আশার সঞ্চার করেছে। যদিও বিষয়টি সহজ হবে না। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলের বসতি নির্মাণকে কেন্দ্র করে তিন বছর আগে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায়। এখন শান্তি আলোচনায় ইসরাইলের নেতৃত্ব দেবেন আইনমন্ত্রী জিপি লিভনি। তিনিও বলেন, শান্তি আলোচনার বিষয়টি সহজ নয়। অপরদিকে ফিলিস্তিনের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন ও গাজার নিয়ন্ত্রক হামাস বলছে, শান্তি আলোচনায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের জনসাধারণের প্রতিনিধিত্ব করার গ্রহণযোগ্যতা নেই। দায়িত্ব নেয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এখন পর্যন্ত ছয় বার মধ্যপ্রাচ্য সফর করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর চূড়ান্ত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জন কেরি শুক্রবার দিনের প্রথম ভাগে ফিলিস্তিনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী সায়েব ইরাকাতের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর তার ওয়াশিংটন ফিরে যাবার কথা থাকলেও তিনি তার সফরসূচি বৃদ্ধি করেন। কিন্তু কীভাবে এতোখানি অগ্রগতি আনতে সক্ষম হলেন তার কোন বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি। এখন অনেকেরই প্রশ্ন জন কেরি কি সফল হতে পারবেন। প্রায় ৬ মাস আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জন কেরি। তখনই ফিলিস্তিন-ইসরইল শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়াকে তার অন্যতম অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছিলেন। এখন কেউ বলতে পারবে না কেরি তার কথা রাখেননি। গত সপ্তাহে তার দুই দিনের জর্দান সফরও ছিলো মূলত এ লক্ষ্যে। কেরি বা তার সহযোগিরা শান্তি-প্রক্রিয়ার নতুন শর্ত বা ধরন সম্পর্কে কিছুই বলেননি। তবে এক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে কাজ করছে। জন কেরির এ প্রচেষ্টাকে দুরুহ কাজ হিসেবে দেখছেন আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন এর সহকারী অধ্যাপক গাই জিভ। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া এখনো একটি বড় সংকটে রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রভাব বিস্তার করতে পারে। আর এ বিষয়টি জন কেরিরও জানা রয়েছে। তবে এখানে ভিন্নমত আছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, সিরিয়া ও মিসরে গোলযোগের কারণে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। লন্ডনভিত্তিক এক বিষেষজ্ঞ বলেন, এ প্রক্রিয়া এখনো প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। জন কেরির জর্দান সফরের আগে গুজব ছড়িয়েছিলো তিনি শান্তি আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিতে পারেন। অথবা ইসরাইল, ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্র ও আরব প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি চতুর্পক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাব দিতে পারেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে সে রকম কোনো ঘোষণা আসেনি বরং কেরির অগ্রগতির কথায় জানানো হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর পর দুই পক্ষ আলোচনায় বসতে পারে। কিন্তু এটা এখনো স্পষ্ট হয়নি যে, এটা শান্তির জন্য হবে নাকি শুধু শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য হবে। তবে অগ্রগতির জন্য সক্রিয় কূটনৈতিক তত্পরতার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কিছু বাধাও রয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন সরকারের জন্য হামাস গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনার ক্ষেত্রে তারা প্রভাব বিস্তার করতে পারে। অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আলোচনার ক্ষেত্রে তিনি কোনো পূর্ব শর্ত মানবেন না। এর অর্থ তিনি কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। আলোচনার কৌশলগত বিষয় বসতি স্থাপনের বিষয়টি এখানে অনুপস্থিত। যা বেশি উত্সাহব্যাঞ্জক নয়। গাই জিভ বলেন, এ রকম আলোচনায় আগেও বসা হয়েছে। হয়তো আগের মতো এবারও তেমন কিছু অর্জন করা সম্ভবপর নাও হতে পারে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আর ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস একসঙ্গে আলোচনায় বসলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সফল হয়ে যাবেন তা নয়। আর এ বিষয়টি জন কেরি ভালো করেই অবগত রয়েছেন।