সাহিত্যের আকাশে হুমায়ূন আহমেদ এক উজ্জ্বল কিংবদন্তির নাম। যার প্রতিভার বিচরণ ছিল সর্বত্র। সমাজ সেবাতেও যিনি কম যাননি। পশ্চাত্পদ এলাকার শিক্ষা বিস্তারে পৈতৃক গ্রাম কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে প্রতিষ্ঠা করেন শহীদ বাবার স্মৃতি নিয়ে স্বপ্নের ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ।’ ১৯৯৬ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু দুরারোগ্য রোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বরেণ্য এই লেখকের মৃত্যুর পর তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটিরও নিভু নিভু অবস্থা। মৃত্যুর একবছরেও এমপিওভুক্তি হয়নি। শত ব্যস্ততার মাঝেও এলাকার শিক্ষা বিস্তারের চিন্তা মাথায় রেখে হুমায়ূন আহমেদ তার নিজ গ্রামে ৩ একর জায়গা খরিদ করেন। ১৯৯৬ সালে সে জায়গায় স্থাপন করেন বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর । বিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন বাকের ভাই নামে পরিচিত খ্যাতিমান অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর। একই সময়ে মাঠের কোণায় শহীদ স্মৃতিফলক উন্মোচন করেছিলেন বরেণ্য কবি শামসুর রাহমান। এর পরে নানা ব্যস্ততায় পেরিয়ে যায় প্রায় একযুগ। ’০৮ সালে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক স্থাপত্যকলায় নির্মিত ভবনে শুরু হয় পাঠদান। এরপর আর থামেনি। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৬জন। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন শুরু থেকে লেখক প্রতিষ্ঠিত নূহাশ পল্লী বহন করে যাচ্ছে। শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান জানান, স্যার (হুমায়ূন আহমেদ) বিদ্যালয়টির প্রতি ছিলেন খুবই মনোযোগী। ২০১১ সালের এপ্রিলে তারই বন্ধু শিক্ষা সচিব কামাল আবু নাসের চৌধুরী পরিদর্শনে আসলে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেন। সে ঘোষণা ঘোষণা হিসেবেই থেকে গেছে। তিনি আরও জানান, স্যারের মৃত্যুর পর সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এবিষয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। এসেছে আশার বাণী। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি। প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের চাচা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির অন্যতম সদস্য আলতাফুর রহমান জানান, বর্তমান বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে রয়েছেন হুমায়ূনের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। তিনিও এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তবে কখন এমপিওভুক্তি হয় সেটিই এখন এলাকাবাসীর জানার বিষয়।
