শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবশ্যই পূর্বশর্ত
আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের শুধু একটাই আশা ক্ষমতায় টিকে থাকা। কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকতে গেলে তাদের যেসব কাজ করা উচিত সেসব কাজ তারা কোন সময়েই করেন না। ক্ষমতায় গেলেই তারা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে পাঁচ বছর জনগণের এতই দুর্ভোগ পোহাতে হয় যে তারা সরকার পরিবর্তন করতে চায়। জনগণ আবার সে সরকারকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসে তারাও একই কাজ করে। ফলে জনগণের দুর্ভোগ কোন সময়ই কমে না। বর্তমানে মানুষের সরকারের কাছে একটাই আবেদন যে, দেশের উন্নতি না হলেও দেশে যেন কোন অরাজকতা সৃষ্টি না হয়। কিন্তু উভয় সরকার এটুকুই করতে ব্যর্থ হচ্ছে। আমাদের রাজনীতিবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন দরকার। তাদের এই উপলব্ধির দরকার যে দেশের জন্য ভাল কাজ করলে জনগণ তাদের নির্বাচিত করবে। দেশের স্বার্থের জন্য না হলেও নিজেদের অস্তিত্ব টিকে রাখার জন্য তাদের দেশ ও জনগণের পক্ষে কাজ করা উচিত।
সঞ্জিত্ মন্ডল
নাট্যকল্প বিভাগ, ৩য় বর্ষ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই বয়ে আনবে অর্থনৈতিক উন্নতি
বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নতি ক্রম অগ্রসরমান এবং প্রশংসার দাবিদার। বিশ্বব্যাংকের এবং পৃথিবীর অন্যতম টাইম সাময়িকীর প্রকাশিত প্রতিবেদনটি তার উল্লেখযোগ্য প্রমাণ। বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্রুতই এগিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও উন্নয়ন গতিশীল এবং উল্লেখ করার মতো। এই অপার সম্ভাবনাময় দেশটি প্রতি দশকেই আর প্রবৃদ্ধির হার ১ শতাংশ হারে বাড়িয়েই চলেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন সকল ক্ষেত্রেই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে উন্নয়নশীল এই দেশটি। সর্বোপরি, উন্নয়নশীল পরিস্থিতির গতিশীলতা উত্সাহব্যঞ্জক, দৃষ্টান্তমূলক ও চমকপ্রদ। অবাক হওয়ার বিষয় এই যে, দুর্নীতিতে হ্যাটট্রিক করা সোনার বাংলাদেশ সকল কিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করে ক্রমশই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু লজ্জার ব্যাপার এই যে, এদেশটিকে রাজনৈতিক অস্থিশীলতা অক্টোপাসের মতো জাপটে ধরে আছে। শত চেষ্টা করেও সেই গভীর গহ্বর থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারছে না দেশটি। অথচ আমাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যদি স্থবিরতা বিরাজ করে, নাশকতা, হরতাল, আঘাত-প্রতিঘাত, সংঘাত-সহিংসতার গোলকধাঁধা থেকে যদি আমরা বেরিয়ে আসতে পারতাম তাহলে আমাদের দেশ কোথায় অবস্থান করত আজ! এতদসত্ত্বেও দেশের প্রধান দু’টি দলের টনক নড়ছে না। সবমিলিয়ে দু’দলের মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক। কিন্তু, জনগণ কী চায় তার প্রতি সুদৃষ্টি প্রদর্শন করা উভয় দলেরই গুরুদায়িত্ব। জনগণের আস্থা অর্জনে সরকারকে ক্ষমতার স্বাক্ষর দিতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
মো. মেজর
২য় বর্ষ, চতুর্থ সেমিস্টার (অনার্স),
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
শান্তিপূর্ণ উপায়ে অবশ্যই ক্ষমতা হস্তান্তর দরকার
শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর যদি করে, দু’দল যদি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে তাহলে তো নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হবে। কিন্তু এখন তা করছেন না। গভীরভাবে তারা যদি চিন্তা করে দেশের জনগণের কথা দেখুন তারা আজ কোন পর্যায়ে আছে। তারা মারামারি, কাটাকাটি, খুন-খারাপি, হরতাল দিয়ে দেশের সম্পদ অর্থনৈতিক নষ্ট করে যাচ্ছে কিন্তু ক্ষতি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। কিন্তু আজ পক্ষ-বিপক্ষ দু’দলকেই বলবো জনগণই তো ভোট দিয়ে আপনাদের নির্বাচিত করেছেন। যে দলই হোক পক্ষ-বিপক্ষ দু’দলই। তাই বলবো পক্ষ-বিপক্ষ— দু’দলকে জনগণ যা ভালবেসে সাপোর্ট দিবে সে কাজ করুন তাহলে নির্বাচন নিয়ে কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না। আশাকরি সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারবে না।
মো. মোশাররফ হোসেন সোহাগ
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম
অর্থনীতির উন্নয়নে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পাশাপাশি চাই রাজনীতিবিদদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন
একটি দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে রাজনীতিবিদদের ওপর অনেকাংশ নির্ভর করে। একটি রাজনৈতিক দল দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। এই দায়িত্ব দিয়ে থাকেন দেশের জনগণ তা একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে। কিন্তু সেই নির্বাচন যদি প্রধান বিরোধী দলের মনোঃপুত না হয় তখন বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, হরতাল ও অবরোধের মত ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দেখতে হয় দেশের নিরীহ জনগণের। তখন প্রশ্ন জাগে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা কি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন চান? তবে একথা সত্য যে আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় বড় অর্জনগুলো এসেছে রাজনীতিবিদদের হাত ধরে। কিন্তু আজ কেন আমাদের হরতালের মত কর্মসূচি দেখতে হচ্ছে, হরতালের নামে গাড়ি পোড়াও, গাড়ি ভাংচুর, জ্বালাও পোড়াও ও রাস্তা অবরোধ, ককটেল বিস্ফোরণের মত ধ্বংসাত্মকমূলক কর্মকাণ্ড দেখতে হচ্ছে। এবং বিভিন্ন সময়ে নানান ইস্যুতে কিছু রাজনীতিবিদের কাছ থেকে দেশ অচল করে দেয়ার মত কর্মসূচির কথাও শোনা যায়। কিন্তু কোন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ কি এ ধরনের কর্মসূচির কথা ভাবতে পারে?
হাবিবুর হমান
স্নাতক (সম্মান), ইতিহাস বিভাগ,
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
