বাংলা দ্বিতীয়পত্র
পতিতপাবন মণ্ডল,
শিক্ষক:
সেন্ট গ্রেগরী উচ্চ বিদ্যালয়, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা
প্রিয় (৮ম, ৯ম, ১০ শ্রেণির) শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদেরকে জানাই আিন্তরিক শুভেচ্ছা। বাংলা দ্বিতীয়পত্রের‘সন্ধি’একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রচলিত বইগুলোতে এ বিষয়টি নানাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে অত্যন্ত সহজভাবে ব্যঞ্জন সন্ধির সূত্রগুলো শুদ্ধরূপে প্রদান করা হলো।
১. স্বরধ্বনি ২. ব্যঞ্জনধ্বনি
ব্যঞ্জনসন্ধি = ১ + ২, ২ + ১, ২ + ২
অর্থাত্ স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে, ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধিহয়, তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
যেমন: বি + ছেদ = বিচ্ছেদ (১+২)
দিক্ + অন্ত = দিগন্ত (২+১)উত্ + জ্বল = উজ্জ্বল (২+২)
ব্যঞ্জন সন্ধি দুই প্রকার। যথা-
১. খাঁটি বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি
২. তত্সম ব্যঞ্জন সন্ধি
খাঁটি বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি :
১.খাঁটি বাংলা শব্দে এ সন্ধি প্রযোজ্য,
২.প্রকৃত খাঁটি বাংলা ব্যঞ্জনসন্ধি সমীভবনের নিয়মে হয়ে থাকে।
৩.খাঁটি বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি মূলত কথ্য বা চলিত রীতিতে সীমাবদ্ধ।
নিচে খাঁটি বাংলা ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণসহ সূত্র দেয়া হলো:
সূত্র:১ উদাহরণ: পাঁচ্ + জন = পাঁজ্জন, তত্ + দিন = তদ্দিন, ছোট্ + দা = ছোড়দা
সূত্র: অঘোষ ধ্বনির পর ঘোস ধ্বনি থাকলে উভয় মিলে ঘোষ ধ্বনিদ্বিত্ব হয়।
সূত্র:২উদাহরণ: আর্ + না = আন্না, দুর্ + ছাই = দুচ্ছাই,
চার্ + দিন = চাদ্দিন, হর্ + তাল = হত্তাল
সূত্র: হলন্ত‘র্’এর পর অন্য যে কোনো ব্যঞ্জন ধ্বনি থাকলে‘র্’লোপ পায় এবং পরবর্তীব্যঞ্জন ধ্বনিদ্বিত্ব হয়।
সূত্র:৩উদাহরণ: নাত্ + জামাই = নাজ্জামাই,
বদ্ + জাত = বজ্জাত, সাত্ + জন = সাজ্জন
সূত্র: ‘ত্’-বর্গীয় ধ্বনিরপর ‘চ্’বর্গের ধ্বনি থাকলে‘ত্’-বর্গীয়ধ্বনি লোপ পায় এবং‘চ্’বর্গীয় ধ্বনিদ্বিত্ব হয়।
সূত্র:৪উদাহরণ: পাঁচ্ + শ = পাঁশ্শ,পাঁচ্ + সিকা = পাঁশিশকা,
সূত্র: ‘চ্’- এর পর ‘শ্’ থাকলে‘চ্’ স্থলে ‘শ্’হয়।
সূত্র:৫উদাহরণ: সাত্ + শ = সাশ্শ,
সূত্র: ‘ত্’- এর পর ‘শ্’ থাকলে‘ত্’ স্থলে ‘শ্’হয়।
সূত্র:৬উদাহরণ: কাঁচা + কলা = কাঁচকলা,
নাতি+ বৌ = নাতবৌ, ঘোড়া + দৌড় = ঘোড়দৌড়,
সূত্র: স্বরধ্বনিরপরব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে স্বরধ্বনির লোপপায়।
সূত্র: ৭উদাহরণ: তিল্+ এক = তিলেক, বার্ + এক
= বারেক, তিন্ + এক = তিনেক,
সূত্র: ব্যঞ্জনধ্বনি পর স্বরধ্বনির থাকলে স্বরধ্বনির লোপ পায় না।
সূত্র:৮উদাহরণ: কুত্ + সিত = কুচ্ছিত, উত্ + সন্ন = উচ্ছন্ন,
উত্ + সব = উচ্ছব, বত্ + সর = বচ্ছর
সূত্র: ‘ত্’- এর পর ‘স্’ থাকলে(‘ত্’ ও ‘স’)উভয়মিলে‘চ্ছ’হয়।
তত্সম ব্যঞ্জনসন্ধি:
সূত্র: ১ উদাহরণ: মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি, কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
বি + ছেদ = বিচ্ছেদ , অনু + ছেদ = অনুচ্ছেদ
সূত্র: স্বর ধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে‘ছ’ স্থানে‘চ্ছ’হয়।
সূত্র: ২ উদাহরণ: দিক্ + অন্ত = দিগন্ত, ণিচ্ +অন্ত = ণিজন্ত,
ষট্ + ঋতু = ষড়ঋতু , তত্ + অন্ত = তদন্ত, সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত
সূত্র: বর্গের প্রথম ধ্বনির পর স্বর ধ্বনি থাকলে বর্গের প্রথম ধ্বনি স্থানে
ঐ বর্গের তৃতীয় ধ্বনিহয়। বা ক্, চ্, ট্ , ত্, প্ এর পর স্বর ধ্বনি
থাকলে ক্, চ্, ট্, ত্, প্ স্থানে যথাক্রমে গ্, জ্,ড্/ড়্, দ্, ব্হয়।
সূত্র: ৩ উদাহরণ: উত্ + চারণ = উচ্চারণ, তত্ + ছবি = তচ্ছবি,
বিপদ্ + চয় = বিপচ্ছয় , বিপদ্+ ছায়া = বিপচ্ছায়া
সূত্র: ‘ত্’বা‘দ্’এর পর ‘চ্’বা‘ছ্’ থাকলে‘ত্’ ও ‘দ্’ স্থানে‘চ্’হয়।
সূত্র:৪উদাহরণ: উত্ + জ্বল = উজ্জ্বল, বিপদ্ + জনক = বিপজ্জক ,
বিপদ্ + জাল = বিপজ্জাল, কুত্ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা,
এতদ্ + ঝঙ্কার = এতজ্ঝঙ্কার
সূত্র:‘ত্’বা‘দ্’এর পর ‘জ্’বা‘ঝ্’ থাকলে‘ত্’ও ‘দ্’ স্থানে‘জ্’হয়।
সূত্র: ৫উদাহরণ: বৃহত্ + টীকা = বৃহট্টীকা, বৃহত্ + ঠাকুর = বৃহট্ঠাকুর
তদ্ + টীকা = তট্টীকা
সূত্র:‘ত্’বা‘দ্’এর পর ‘ট্’বা‘ঠ্’ থাকলে‘ত্’ও ‘দ্’ স্থানে‘ট্’হয়
সূত্র: ৬উদাহরণ: উত্ + ডীন = উড্ডীন, বৃহত্ + ঢক্কা = বৃহড্ঢকা ,
সূত্র:‘ত্’বা‘দ্’এর পর ‘ড্’বা‘ঢ্’ থাকলে‘ত্’ও ‘দ্’ স্থানে‘ড্’হয়।
সূত্র: ৭উদাহরণ: উত্ + লেখ = উল্লেখ, সূত্র:‘ত্’বা‘দ্’এর পর ‘ল্’থাকলে‘ত্’ও ‘দ্’ স্থানে‘ল্’হয়।
সূত্র: ৮উদাহরণ: উত্ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস, তদ্ + শ্রবণ = তচ্ছ্রবণ,
উত্ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল, তত্ + শক্তি = তচ্ছক্তি
সূত্র:‘ত্’বা‘দ্’এর পর ‘শ্’ থাকলে‘ত্’ও ‘দ্’ স্থানে‘চ্’এবং‘শ্’ স্থানে‘ছ্’হয়।
পরবর্তী অংশ আগামীকাল
