সঠিকভাবে কোটা বিবেচনা করে মেধাবীদের সুযোগ দিন
প্রতিটি কাজের একটি সুস্পষ্ট বৈধতা ও অবৈধতা থাকতে পারে। যুক্তিসঙ্গত আর অযৌক্তিক নানা কারণেই বির্তকের সৃষ্টি হয়। সরকারি চাকরিতে কোটা বিবেচ্য বিষয়ে একটি বির্তকের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিতর্ক ওঠাটাই স্বাভাবিক মনে করি। সব ধরনের প্রস্তাব, আইন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এমন তো নয়। যদি সহজভাবে সবাই যে-কোন আইন বা প্রস্তাব মেনে নিতো, তবে কোন বিষয়ে বির্তকের সৃষ্টি হতো না। সংবিধানের ২৯নং ধারার ৩নং অনুচ্ছেদে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রযোজ্য করেছে। আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে মহাবিতর্কের গণ্ডগোল। স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে, কোটা না থাকাই ভাল। কারণ, যারা বা যে পরিবারের সদস্যরা সরকারি চাকরি করে, আবার যদি সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে, সেই পরিবারের সদস্যরা বিশেষভাবে ছাড় পেয়ে চাকরি পায়, তবে বেসরকারিভাবে মেধাবীদের উপর একটু চাপ পড়ে। আর তখনই সৃষ্টি হয় নানা সমস্যা ও বিতর্ক। তেলের মাথায় তেল দিয়ে, অন্য যোগ্য ও মেধাবীদের চাকরিতে ব্যাঘাত ঘটানো হয়। সরকারি চাকরিতে সবার সমান অধিকার থাকা উচিত বলে মনে করি। এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী কোটাকে সঠিক প্রযোজ্য হিসেবে উল্লেখ করে, বাকি সব কোটাকে সঠিকভাবে বিবেচনা করে সংশোধনী আনা যেতে পারে। যদি শুধু কোটার হিসেব করে চাকরির সুযোগ দেয়া হয়, তবে তো মেধাবীদের সঠিক চাকরিতে কোটাই বিতর্কের সৃষ্টি করছে না, সেইসাথে ঘুষ আর দুর্নীতি ও বিতর্কের নানা কারণ। তাই সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, সঠিকভাবে কোটা বিবেচনা করে অন্যান্য ক্ষেত্রে মেধাবীদের চাকরির সুযোগ প্রদান করুন।
মো. নূরুল ইসলাম
বি.এস.সি. ইন ইঞ্জিনিয়ারিং,
ফুড টেকনোলজী, ২য় বর্ষ,
স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
এখনই উচিত কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে মেধাবীদের সুযোগ দেয়া
বর্তমানে বিসিএসসহ সকল সরকারি চাকরিতে ৫৫ শতাংশ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে কোটার মাধ্যমে, বাকি ৪৫ শতাংশের নিয়োগ পাচ্ছে মেধার ভিত্তিতে। এই ৫৫ শতাংশের মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের, ১০ শতাংশ নারীদের, ৫ শতাংশ উপজাতিদের ও ১০ জেলা কোটার জন্য সংরক্ষিত আছে। বিগত পাঁচ বছরের বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করলে বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। এই সময়ের মধ্যে মোট এক হাজার ১৮৯ জন প্রার্থীকে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করা হয় যার মধ্যে ৬২৯ জন কোটায় আর বাকি ৫৬০ জন মেধায় নিয়োগ পায়। একইভাবে পুলিশ ক্যাডারের ৭৫৩ জনের মধ্যে ৩৯৮ জন কোটায় ও ৩৫৫ জন মেধায় নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া প্রথম শ্রেণীর অন্যান্য পনেরটি ক্যাডারেও গত পাঁচ বছরে বিসিএস-এ কোটা নিয়োগ এগিয়ে আছে। পিএসসি মোট ৩ হাজার ১৭৯ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে যার মধ্যে এক হাজার ৬৮৬ জন কোটায় এবং এক হাজার ৪৯৩ জনকে মেধায় নিয়োগ দেয়া হয়। তুলনা করলে দেখা যায় প্রকৃত মেধা নয়, কোটাই চাকরি পাওয়ার মাপকাঠিতে পরিণত হয়েছে। ফলে যোগ্য প্রার্থীরা ছিটকে পড়ছে প্রতিযোগিতা থেকে। সরকারি চাকরিতে এভাবেই প্রতিক্ষেত্রে কোটাধারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে বৈষম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী দেশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধা মিলিয়ে মোট লোকসংখ্যার ২.৭৩ শতাংশের জন্য চাকরিতে সংরক্ষিত আছে ৩৬ শতাংশ আসন,যেখানে শুধুমাত্র দশমিক ১৩ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানের জন্য ৩০ শতাংশ আসন রেখে দেয়া হয়েছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা মেধা থাকা সত্ত্বেও চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্বাধীনতার বিয়াল্লিশ বছর পর এসে এতটা কোটা বৈষম্য কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখনই উচিত কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে মেধাবীদের সুযোগ দেয়া এবং একটা সময় কোটাকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করে দেয়া।
মোফাজ্জল হোসেন মায়া
শহীদ নাজমুল আহসান হল,
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
যাদের কোটা নেই তাদের কী দোষ
আমি মনে করি কোটা থাকলে মেধার মূল্যায়ন সঠিক হয় না। কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। তবে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বহাল থাকতে পারে যে কারণে, তা হলো যারা সুবিধাবঞ্চিত তাদের সুযোগ করে দেয়া। বিসিএস ক্যাডার সার্ভিস, সেখানে ইতোমধ্যেই নানান ধরনের দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। তার অন্যতম কারণ কোটার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন। কোটা ব্যবস্থা বহাল থাকলে আগামীতে এই দুর্বলতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। মেধার বাইরে কোটা ব্যবস্থা চাই না। যাদের কোটা নেই তাদের কী দোষ? এটাই যে তাদের কোটা নেই।
রফিকুল ইসলাম সাগর
ইন্টারন্যাশনাল ট্যুর এন্ড ট্যুরিজম ফাউন্ডেশন কোর্স, ওয়ার্ল্ড পয়েন্ট একাডেমি, মালয়েশিয়া
কোটার ফলে অযোগ্য, অদক্ষ, মেধাহীন লোকজনই প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হচ্ছেন
কোটা প্রথা মেধাবীদের রুখে দেয়ার একটা প্রক্রিয়া বলে আমার কাছে মনে হয়। একজন মেধাবী শিক্ষার্থী তার কর্মক্ষেত্রে স্থান করে নিবে মেধার বদৌলতে এটাই নিয়ম। কিন্তু কোটা প্রথা তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর কোটার ফলে অযোগ্য, অদক্ষ, মেধাহীন লোকজনই প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হচ্ছেন। এরা তাদের দায়িত্ব পালনে প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে পারে না আর এর ভুক্তভোগী প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষই হচ্ছেন।
রীমা আক্তার
বিএসএস অনার্স (শেষ বর্ষ), রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ
