[ ত থ্য প্র যু ক্তি ]

সাইবার দুনিয়া, গোপনীয়তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২২:০৩
সাইবার আক্রমণের তাত্ক্ষণিক ও বিধ্বংসী— উভয় সম্ভাবনা আছে। এটি যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করতে পারে, জাতীয় পরিকাঠামো নিস্ক্রিয় করতে পারে, অথবা পারমাণবিক অস্ত্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। এতে ব্যাখ্যা করা হয় যে, প্রথম পদক্ষেপে দরকার সাইবার দলের কম্পিউটার সিস্টেম অনুধাবন করা, যাতে আক্রমণ এবং সিস্টেমের দুর্বলতা শনাক্ত করা হয়। যদি নানা রকম দুর্বলতা খুেঁজ না পাওয়া যায় তখন ‘ব্যাক ডোরস’ তৈরি করা হয় এবং হ্যাকারদের দ্বারা আক্রমণের সুবিধার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়। ম্প্রতি এডওর্য়াড স্নোডেনের এক বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বমঞ্চে বিপুল আলোড়ন তৈরি করে। এ নিয়ে প্রশ্ন শুধু ডিজিটালেজশন, ইন্টারনেট এবং সামাজিক গণমাধ্যমের সাথে যারা জড়িত তাদের মধ্যেই উত্থাপিত হয় না, বরং গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার ব্যাপারে যারা আগ্রহী তাদের মধ্যেও এ প্রশ্ন তৈরি হয়। নিরাপত্তা প্রযুক্তিবিদ ব্রুস স্ক্যানসির বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি সাইবার যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং একবিংশ শতাব্দীকে এক অস্ত্রযুগ হিসেবে বর্ণনা দেন। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রেসিডেন্ট-নীতি নির্দেশিকা-২০, যা জারি করা হয় গত অক্টোবরে এবং প্রকাশিত হয় এডওয়ার্ড স্নোডেন দ্বারা, মার্কিন সাইবার যুদ্ধ নীতির রূপরেখা প্রকাশ করে। তিনি মনোযোগ দেন ‘অফেন্সিভ সাইবার এফেক্ট অপারেশন’ বা OCEO এর উপর। OCEO প্রস্তাব করতে পারে বিপক্ষ বা সামান্য টার্গেট অথবা কোন সতর্কতার সঙ্গে এবং সূক্ষ্ম ও গুরুতরভাবে ক্ষতিকর সম্ভাব্য যে কোনো কিছুর সঙ্গে, যা নির্দেশ করে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয়স্বার্থ। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য উন্নয়নের জন্য OCEO-এর ক্ষমতা ও সামর্থ্যের জন্য প্রয়োজন যথেষ্ট পরিমাণ সময়, শ্রম এবং সরঞ্জাম— যা ইতিমধ্যে বিদ্যমান নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার শনাক্ত করতে চায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা, যেখানে OCEO জাতীয় শক্তির অন্যান্য যন্ত্রের সঙ্গে তুলনীয়। এটি ব্রুস দ্বারা সুপরিচিত যে, OCEO সংক্রান্ত বিষয়বস্তু, শ্রেণীবদ্ধ নথির অংশবিশেষ গোপনীয় এবং এই কারণে তারা কি বলেছে তাও বিপজ্জনক। সম্প্রতি চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠককে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রযুুক্তিগত সুপার পাওয়ারের গুরুত্ব ও ডিজিটাল বৃদ্ধির দৃষ্টান্ত হিসেবে। এটি একটি দুঃখজনক পরিস্থিতি হতে পারে, কারণ সাইবার আক্রমণ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তার উপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে। বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন যে, সাইবার আক্রমণের তাত্ক্ষণিক ও বিধ্বংসী— উভয় সম্ভাবনা আছে। এটি যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করতে পারে, জাতীয় পরিকাঠামো নিস্ক্রিয় করতে পারে, অথবা পারমাণবিক অস্ত্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। এতে ব্যাখ্যা করা হয় যে, প্রথম পদক্ষেপে দরকার সাইবার দলের কম্পিউটার সিস্টেম অনুধাবন করা, যাতে আক্রমণ এবং সিস্টেমের দুর্বলতা শনাক্ত করা হয়। যদি নানা রকম দুর্বলতা খুেঁজ না পাওয়া যায় তখন ‘ব্যাক ডোরস’ তৈরি করা হয় এবং হ্যাকারদের দ্বারা আক্রমণের সুবিধার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়। প্রতিকূল কোড শব্দও এমবেড করা হয়, যা ভবিষ্যতে ব্যবহার করা যেতে পারে শক্তিশালী নেটওয়ার্কের জন্য। ইতিমধ্যে ইরানে এই ধরনের দৃশ্যকল্পের একটি অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এই মানসিকতা ধীরে ধীরে ভয়ানক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের অন্যান্য দেশে, যারা নিজেদের অসহায় মনে করছে। চীন (একটি উঠতি মহাশক্তি), ভারত (দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক শক্তি) এবং তাদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এবং পাকিস্তান এই মানসিকতায় আক্রান্ত। মধ্যপ্রাচ্যের ইরান ইতিমধ্যে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। তাদের পারমাণবিক প্রোগ্রাম ইসরাইলের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে বলে মনে করা হয়। এর ফলে এটি বিস্ময়কর হবে না, যদি আরো একটি উদ্বায়ী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো বাহিনীয় চলে যাবার পর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উল্লেখ করেন তার প্রশাসন মার্কিন নাগরিকদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করেছেন না বরং সন্ত্রাসী খুঁজছেন। ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশন এর যুগে আমরা ইন্টারনেট মোবাইল ফোনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি এবং এগুলো আমাদের জীবনের উপর প্রভাব ফেলেছে। আমাদের ইন্টারনেট সেবাদানকারী কোম্পানি এবং সামাজিক নেটওর্য়াক পরিষেবা ও ইন্টারনেট সংযোগের জন্য ব্যবহূত ডিভাইস নির্মাতাসহ সব প্রতিষ্ঠানেরই আন্তর্জাতিক ঐকমত্য আছে। কেউ কেউ মনে করেন যে, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নজরদারি প্রয়োজন নির্দোষ মানুষদের সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে রক্ষার জন্য। যাই হোক, কোন পরিস্থিতিতেই এই ইচ্ছাকৃত ম্যানপুলেশন ও ক্ষমতার অপব্যবহার যেন সাধারণ মানুষের অধিকার লঙ্ঘিত না করে। এছাড়াও মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত করতে পারে এমন তথ্য বা বিকৃতির ডিজিটাল সুবিধার ব্যাহত করা উচিত হবে না। (সংক্ষেপিত) ভাষান্তর : মো. মনিরুজ্জামান লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন