[ নি র্বা চ ন ]

ঈদের পরে আন্দোলন না নির্বাচনের প্রস্তুতি?

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৩, ২১:২২
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে; কিন্তু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হচ্ছে না। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করার জন্য ঈদের পর আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে বিএনপির নেতারা প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন সভা-সমাবেশ কিংবা ইফতার পার্টিতে ঘোষণা করছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে অন্য মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতারা বলছেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবেই হবে। নির্দলীয় কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন সম্ভাবনা আর নেই। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে কোন ধরনের সমঝোতা না হলে দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে বিভিন্ন মহল থেকেই আশঙ্কা ব্যক্ত করা হচ্ছে। দেশে বিশৃংখল অবস্থা তৈরি হলে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে কি না সে ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। বিএনপি যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ঈদের পর আন্দোলনে নামে হরতালের পর হরতাল দিতে থাকে এবং আওয়ামী লীগ ও সরকার যদি হরতাল মোকাবিলায় মাঠে নামে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই দেশে শান্তি ও স্থিতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে। নির্বাচন বানচাল ও অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় আসতে পারে বলে যে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে সেটা সত্য না হলেই দেশের মানুষ খুশি হবে। সেজন্যই দেশের মানুষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করছে। মুখে যাই বলা হোক না কেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবেন এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করা হবে বলেই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি থেকে বিএনপি সামান্য পরিমাণ দূরে সরছে না। দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে তারা অংশ নিবে না, এমনকি নির্বাচন অনুষ্ঠিতও হতে দিবে না বলে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। সরকার ও সরকারি দল বিএনপির হুমকি-ধমকিতে বিচলিত না হওয়ার কথাই বলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একাধিকবার বিরোধী দলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক তত্ত্বাবধায়ক কইরেন না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে আপনাকেও জেলে যেতে হবে, আমাকেও জেলে যেতে হবে’। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নাকচ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে যে নির্বাচন দেবে তার গ্যারান্টি কি? গতবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে তিন মাসের কথা বলে দুই বছর পার করেছে। এবার এলে তিন বছর নয়, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা রোজ কেয়ামত পর্যন্ত সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার ফতোয়া দেবেন। তারাও কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চাইবেন।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাব দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান আনলে এবং সত্যিকার অর্থে চুরি-দুর্নীতি না করলে জেলে যেতে হবে না। অর্থাত্ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে দুই নেত্রীর জেলে যাওয়ার যে আশঙ্কা প্রধানমন্ত্রী ব্যক্ত করছেন তার সাথে বিরোধী দল একমত নয়। তারা হয়তো এটাই বলতে চায় যে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে ব্যাপক দুর্নীতি করেছে বলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে জেলে যাওয়ার আতঙ্কে ভুগছে। বিরোধী দল এটাও মনে করে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের আর জয়লাভের আশা নেই বলেই তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে অবস্থান নিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে তাতে তাদের উদ্দেশ্যের সততা নিয়ে বিএনপিসহ অন্য বিরোধী দল ছাড়াও নাগরিক সমাজের অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। এটা ঠিক যে, সর্বোচ্চ আদালত থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়া হয়েছে। এই রায়কে অজুহাত হিসেবে নিয়েই আওয়ামী লীগ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টিকে বিতর্কিত করে তুলেছে। আওয়ামী লীগ এক্ষেত্রে যদি ধীরে চলার নীতি গ্রহণ করতো তাহলে মানুষের মধ্যে হয়তো বিরূপতা তৈরি হতো না। তাছাড়া সর্বোচ্চ আদালত দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে আরও দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ রায়ের দ্বিতীয় অংশ বিবেচনায় নেয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দেশে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলো আওয়ামী লীগই। প্রবল আন্দোলনের মুখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে বাধ্য হয়েছিলো বিএনপি। বিএনপি কর্তৃক প্রবর্তিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দেশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯৬ সালে এবং ২০০১ সালে। ৯৬-এর নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলো আওয়ামী লীগ আর ২০০১ সালে জয়লাভ করেছিলো বিএনপি-জামায়াত জোট। ২০০১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে আওয়ামী লীগের অনেক সমালোচনা ছিলো। ঐ সরকার দায়িত্ব নিয়েই আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থান নিয়ে কার্যত নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করে বিএনপি-জামায়াতের অনুকূলে কাজ করে বলে আওয়ামী লীগ মনে করে। তখন থেকেই আওয়ামী লীগের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে এক ধরনের মনোভাব গড়ে ওঠে বলে ধারণা করা যায়। কিন্তু এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে তারা গত নির্বাচনের আগেও প্রকাশ্যে কোন কথা বলেনি। এমনকি নির্বাচনী ইশতেহারেও এটা বলা হয়নি যে, তারা ক্ষমতায় গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করবে। ২০০৮-এর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধ মনোভাব প্রকাশ পায়। বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিএনপি ঐ ব্যবস্থার পক্ষে চলে যায়। এ কারণেই নির্বাচনকালীন এই সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দেশে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরোধিতা করছে সেটা দেশের মানুষের কাছে খুব বেশি পরিষ্কার নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যাওয়ার আগে আওয়ামী লীগের উচিত ছিলো দেশব্যাপী এ ব্যাপারে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে জনমত গঠন করা। কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভালো নয়, এই ব্যবস্থা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক জেনেও কেন আওয়ামী লীগ এর জন্য দেশে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলো এবং সর্বশেষে কি কি খারাপ অভিজ্ঞতার কারণে তারা এই ব্যবস্থা থেকে সরে আসতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছে—এই বিষয়গুলো দেশের মানুষকে ভালোভাবে জানা-বোঝার সুযোগ দিয়ে ব্যবস্থাটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলেই ভালো হতো। কিন্তু সেটি না করায় এখন আওয়ামী লীগ পড়েছে জনঅসন্তুষ্টির মুখে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মধ্যে যেসব ত্রুটি-দুর্বলতা-সীমাবদ্ধতা ছিলো সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নেয়াটাই ছিলো উপযুক্ত পদক্ষেপ। আওয়ামী লীগের শুভানুধ্যায়ীরাও মনে করেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু নিয়ে সরকার বাড়াবাড়ির করেছে। বর্তমান সরকারের অধীনে অসংখ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটবে বলে বিএনপি-জামায়াতের বাইরেও অনেকেই মনে করেন। ঘটনা যাই হোক না কেন, পাবলিক পারসেপশন এটাই যে, দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়। এই পাবলিক পারসেপশন পরিবর্তন করা না গেলে সরকার এই ইস্যুতে কিছুটা নাজুক অবস্থায়ই থাকবে। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে সমঝোতা না হলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা করা হচ্ছে ২০০৭ সালের অভিজ্ঞতার আলোকেই। ঐ সময় যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন সে প্রশ্নে দুই দলের মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হতো, বিএনপি যদি নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বানানোর জন্য নানা ধরনের ফন্দি-ফিকির না করতো তাহলে হয়তো ২০০৭ সালে জরুরি আইন জারি করে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় চেপে বসার সুযোগ পেত না। অর্থাত্ এটা দেখা যাচ্ছে যে, দেশে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঠেকানোর ক্ষমতা রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতিবিদদের হাতেই রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হবে সেটা নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা হলে কোন অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ পাবে না। সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষকেই ছাড় দিয়ে সংলাপে বসতে হবে। বিএনপিকে এটা বুঝতে হবে যে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অনড় থেকে তাদের কোন লাভ নেই। আন্দোলন করে দাবি আদায়ের ক্ষমতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা কোনটাই বিএনপির নেই। আন্দোলনের নামে দেশের মধ্যে বিশৃংখল অবস্থা তৈরি হলে সুযোগ গ্রহণ করতে পারে অন্য কোন পক্ষ। সেক্ষেত্রে নির্বাচন অনুষ্ঠান অনিশ্চিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। গত সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে এটা বলা যায় যে, যে যাই বলুক না কেন মানুষ তার পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিতে চায়। ভোটদানে মানুষকে এখন আর তেমন প্রভাবিত করা যায় না। ক্ষমতার অপব্যবহার করে, প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের মনে যে পরিবর্তন আনা যায় না গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন তার বড় প্রমাণ। বর্তমান সময়ে ভোট কারচুপি করা, ভোট জালিয়াতি করা, ভোটের ফলাফল পাল্টে দেয়া খুব সহজ কাজ নয়। ভোটার তালিকায় ভুয়া ভোটারের নাম না থাকায় এবং ছবিযুক্ত ভোটার পরিচয়পত্র থাকায় একজনের ভোট আরেকজনের দেয়ার সুযোগও এখন আর নেই বললেই চলে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে যদি বিরোধী পক্ষের বিজয় অসম্ভব হতো তাহলে ৫টি সিটি করপোরেশনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় ঘটতো না। সরকার যদি সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফলাফল পাল্টে দেয়ার কোন ধরনের চেষ্টা করে তাহলে মানুষই তা প্রতিহত ও প্রতিরোধ করবে। তাই নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বিএনপির মধ্যে কোন ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা উচিত নয়। বর্তমান সরকারের পেছনে সাধারণ মানুষের আর কোন সমর্থন নেই বলে বিএনপি যে প্রচারণা চালাচ্ছে সেটাকেও তারা যদি সত্য মনে করে তাহলেও তাদের যে কোন পরিস্থিতিতেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। বিএনপি যদি মনে করে যে, সরকার তাদের নির্বাচন থেকে বাইরে রেখে ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে তাহলেও তো সরকারের সামনে মাঠ ফাঁকা না রাখাই হওয়া উচিত বিএনপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি ঈদের পর আন্দোলন করুক; কিন্তু আন্দোলনই যেনো শেষ কথা না হয়। ক্ষমতা পরিবর্তনের নিয়মতান্ত্রিক পথ হলো নির্বাচন। সেজন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটাই হওয়া উচিত যে কোন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের শেষ কথা। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিষ্ট ই-মেইল: [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন