পিসিতে বাড়ুক কাজের গতি

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৪
সময়ের সাথে সাথে কম্পিউটার পৌঁছে যাচ্ছে সব ধরনের মানুষের কাছেই। আর তাতে করে সব ধরনের কাজের জন্যই ব্যবহূত হচ্ছে কম্পিউটার। গত দুই দশকে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট বিশ্বের অগ্রগতি ইর্ষণীয়। প্রযুক্তির এই অগ্রগতিই কম্পিউটার আর ইন্টারনেটকে সহজলভ্য করে তুলেছে। একইসাথে কম্পিউটার বা ইন্টারনেটে কাজ করার জন্য হাজারো প্রোগ্রাম, সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করারও সুযোগটা তৈরি করে দিয়েছে। ফলে এখন কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে বসলেই হাজার হাজার অ্যাপ্লিকেশন, হাজার হাজার ওয়েবসাইট আর খবরের ভিড়ে হারিয়ে যেতে হয়। ফলে কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যহত হতে পারে। তাহলে এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? সাজিয়ে তুলুন ডিজিটাল জীবন সময়ের সাথে সাথে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে ডিজিটাল জীবন। নিজের কম্পিউটার, তার সাথে ইন্টারনেট সংযোগ, ই-মেইল, ফেসবুক টুইটার থেকে শুরু করে ওয়েব ব্রাউজারকেও নিজের মতো করে সাজিয়ে তোলা যায়। যে বিষয়গুলো আপনার কারেজ জন্য প্রয়োজন, সেই অনুযায়ীই আপনার ই-মেইল বা ব্রাউজারকে সাজিয়ে নিলে আপনার কাজগুলো অনেক সহজ হয়ে যাবে। এই লেখাতে ই-মেইল অ্যাকাউন্ট হিসেবে জিমেইল এবং ওয়েব ব্রাউজার হিসেবে গুগল ক্রোমের জন্য কিছু অ্যাপ্লিকেশনের কথা তুলে ধরা হলো। সাথে রয়েছে পিসি নেভিগেশনের কিছু কার্যকরী টুলস। জিমেইলের জন্য টুলস ইমেইল সার্ভিস হিসেবে গুগল’র জিমেইল বহুল ব্যবহূত। সময়ের সাথে গুগল নিয়মিত পরিবর্তন নিয়ে আসছে এর ইন্টারফেস, এতে যুক্ত করছে নতুন নতুন কার্যকরী ফিচার। বর্তমান সময়ে জিমেইলের প্রায়োরিটি ইনবক্স, ইমপর্টেন্ট মেইল সার্চিং প্রভৃতি সুবিধা এতে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তবে এর বাইরেও নিচের টুলসগুলো জিমেইলের কার্যকারিতা আরও বাড়িয়েই তুলবে। টোউট অ্যাপ যারা ইমেইলের মাধ্যমে প্রফেশনালও বাণিজ্যিক ধরনের কাজ করে থাকেন, তাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে টোউট অ্যাপ। বিশেষ করে যারা ইমেইল মার্কেটিং করে থাকেন, তাদের বেশ কাজে লাগবে এটি। এই অ্যাপ্লিকেশন আপনাকে জানিয়ে দিতে পারবে আপনার পাঠানো ই-মেইলটি কে খুলেছে বা কে খোলেনি। এমইলে কোনো অ্যাটাচমেন্ট বা লিংক থাকলে সেটিও কতজন ডাউনলোড বা ক্লিক করেছে, সেই ট্র্যাকিংটি করবে টোউটঅ্যাপ। এর বাইরেও একই ধরনের মেইল পাঠানোর জন্য মেইল লেখাও এতে সহজ। এটি ব্যবহার করে জিমেইলে আগত সব ইমেইলকে আলাদা আলাদা করে ফোল্ডারে পাঠিয়ে দেওয়অ যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই। সময় ও শ্রমের অনেকটাই তাই বাঁচিয়ে দিতে পারে এটি। www1.toutapp.com ঠিকানা থেকে এটি ব্যবহার করতে পারবেন। র্যাপোট্রিভ আপনার জিমেইলের মাধ্যমে আপনি যাদের সাথে যোগাযোগ করে থাকেন, তাদের সাথে সার্বিক যোগাযোগ করা সম্ভব জিমেইল থেকেই তার ফেসবুক, টুইটার, লিংকএডইন, স্কাইপ, গুগল প্লাস প্রভৃতি অ্যাকাউন্টেরও খোঁজখবর নিতে পারবেন জিমেইল ব্যবহার করেই। এর জন্য প্রয়োজন হবে র্যাপোট্রিভ টুলটি। জিমেইলের সাথে একে সংযুক্ত করে নিলে যেকোনো ইমেইলের ঠিকানার সাথে সংশ্লিষ্ট সবগুলো সামাজিক যোগাযোগের অ্যাকাউন্টকে সে যুক্ত করে নেয়। এর আরেকটি মজার ফিচার রয়েছে—এতে যেকোনো নামের বা আইডি’র ইমেইল ঠিকানা লিখলেই সেই ঠিকানার কোনো সামাজিক যোগাযোগের প্রোফাইল আছে কি না তা খুঁজে বের করে দিতে পারে। http://rapportive.com এ গেলে পাবেন এটি। ইনবক্স পজ ধরুন আপনি পিসিতে কোনো কাজ করছেন বা ইমেইলেও কোনো কাজ করছেন। এমন সময়ে আপনার জিমেইলে আগত নতুন নতুন মেইলের নোটিফিকেশন আপনাকে কিছুটা বিরক্ত করতেই পারে। কাজের মনোযোগ এতে কিছুটা হলেও ব্যহত হয়। ‘ইনবক্স পজ’ এই ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখবে আপনাকে। এটি ব্যবহার করে যতক্ষণ খুশি ইমেইল ইনবক্স ঢোকা বন্ধ করে রাখে। এ সময়ে আসা ই-মেইলকে এটি মূলত লুকিয়ে রাখে। নির্দিষ্ট সময় শেষে ‘আনপজ’ করে দিলেই ওই সময়ে আসা ইমেইলগুলো সরাসরি প্রবেশ করবে ইনবক্সে। তাই ওই সময়ে আগত ইমেইলের স্বয়ংক্রিয় প্রত্যুত্তরও আপনি দিয়ে রাখতে পারেন। ফলে প্রেরকরা জেনে যাবেন যে আপনি ব্যস্ত রয়েছেন। http://inboxpause.com সাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন এটি। বুমেরাং আপনি যদি ভুলোমনা হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য সহায় হতে পারে ‘বুমেরাং জিমেইল’। ধরুন আপনি এখনই একটি ইমেইল লিখেছেন, কিন্তু এটি পাঠানো প্রয়োজন আরও ২ ঘণ্টা পর। হতে পারে আপনি এখন সেটা ভুলেই যাবেন। কিংবা ওই সময়ে হয়তো এমন কোনো কাজে ব্যস্ত থাকবেন তখন মেইল পাঠানোর বাস্তব অবস্থা থাকবে না। ‘বুমেরাং জিমেইল’ আপনার ঠিক করা সময়ে যেকোনো ঠিকানায় ইমেইল পাঠিয়ে দিতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, ইমেইলে কোনো ইভেন্ট বা ঘটনার সময় থাকলে সেটাও সময়মতো আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেবে, আগে নয়। রিমাইন্ডার হিসেবেও তাই এটি কার্যকরী। www.boomeranggmail.com ঠিকানা থেকে ইন্সটল করে নিতে পারবেন এটি। পাওয়ারবুট বুকমার্ক এবং নোটটেরিং অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় এভারনোট। এভারনোটকে জিমেইলের সাথে সংযুক্ত করতে রয়েছে পাওয়ার বট। এই অ্যাপ্লিকেশনটি ই-মেইলে আগত প্রতিটি মেইল বা থ্রেডকে আর্কাইভ করে সংরক্ষণ করতে পারে এভারনোটে অথবা শুধু অ্যাটাচমেন্টগুলোকেও এভারনোটে সংরক্ষণ করতে পারে। আবার জিমেইলের ই-মেইল লেখার সময়েই সরাসরি এভারনোটে সংরক্ষিত নোট ইনসার্ট করা যায়। আবার ইমেইল লেখার সময় সংরক্ষিত নোট খোঁজাও এর মাধ্যমে অত্যন্ত সহজ। www.powerbotapps.com সাইট থেকে পাবেন এই টুলটি। গুগল ক্রোমের জন্য টুলস ওয়েব ব্রাউজার হিসেবে দীর্ঘদিন ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার শীর্ষস্থানদখল করে রাখলেও গুগল ক্রোমই একে প্রতিদ্বন্ধিতার মুখে ফেলে দেয়। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অন্যতম জনপ্রিয় এই ওয়েব ব্রাউজার। ব্রাউজার হিসেবে তো বটেই, এতে নানা ধরনের এক্সটেনশন আর অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সুবিধা একে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। যেকোনো গুগল অ্যাকাউন্ট থাকলেই গুগল ক্রোমে সাইন-ইন করে ব্যবহার করা যায় ক্রোম ওয়েব স্টোরের হাজার হাজার এক্সটেনশন আর অ্যাপ্লিকেশন। এই লেখায় ক্রোমের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী কয়েকটি এক্সটেনশনের কথা তুলে ধরা হলো। এসব এক্সটেনশনগুলো পাওয়া যাবে http://goo.gl/H3odH ইউআরএল থেকে। গুগল ক্রোমের ওয়েব স্টোরের এক্সটেনশন ক্যাটাগরিতে পাবেন এসব এক্সটেনশন। এই স্টোরে এক্সটেনশনগুলোর নাম লিখে সার্চ দিলেও মিলবে সন্ধান। অ্যাডব্লক/অ্যাডব্লক প্লাস :যারা ওয়েব ব্রাউজিংয়ের সময় বিজ্ঞাপনের ঝামেলা পোহাতে চান না, তাদের জন্য রয়েছে অ্যাডব্লক এবং অ্যাডব্লক প্লাস এক্সটেনশন দুইটি। ক্লিয়ারলি :অনলাইনে ব্লক, সার্ঠিকেল বা ওয়েবপেজ পড়ার সময় মূল লেখার বাইরেও আশপাশে দৃষ্টি আকর্ষনের মতো অনেক কিছুই থাকে। যারা এসবকে এড়িয়ে মূল লেখাটিকে মনোযোগ দিয়ে পড়তে চান, তারা ব্যবহার করতে পারেন ক্লিয়ারলি। এটি একাধিক পেজের আর্টিকেলকেও একটি পেজে নিয়ে আসতে সক্ষম। আবার এটি ব্যবহার করেই সরাসরি এভারনোটে সংরক্ষণ করা যায় আর্টিকেল বা নির্বাচিত অংশ। ড্যাশলেন :ওয়েব ব্রাউজারে সরাসরি পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করার সুবিধা থাকলেও ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনার কার্যকরী একটি এক্সটেনশন ড্যাশলেন, পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, অনলাইন ট্র্যানজেশন, ওয়েবসাইট লগ-ইন প্রভৃতি কাজ সহজেই করা যায় এর মাধ্যমে। এটি ব্যবহার করে এর তথ্যগুলো ক্লাউডের মাধ্যমে একাধিক ডিভাইসে সিনক্রোনাইজ করা যায়। ফেসবুক ডিসকানেক্ট :ফেসবুকের অনেক অ্যাপ্লিকেশনই রয়েছে যেটি ব্রাউজিংয়ের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। এটি রোধ করতে ব্যবহার করতে পারেন ফেসবুক ডিসকানেক্ট। ফলে ফেসবুক আপনি ব্যবহার করতে পারবেন ঠিকই, কিন্তু ফেসবুক আপনার ব্রাউজিং ট্য্যাক করতে পারবে না। গ্র্যামারলি লাইট :ওয়েব ব্রাউজারে যেকোনো কিছু লেখার সময় ব্যকরণগত ভুল এবং যতি চিহ্ন ব্যবহারের ভুলগুলো সনাক্ত করবে গ্র্যামারলি লাইট। ফলে ইমেইল লেখা, ব্লগ লেখা কিংবা সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে লিখতে পারেন নিশ্চিন্তে। কিরকেট ফর জিমেইল :ক্রোমে জিমেইল ব্যবহার সময় জিমেইলের বিভিন্ন কিবোর্ড শর্টকাট এবং হটকি’র খবর জানাবে কিরকেট ফর জিমেইল। ফলে জিমেইল লিখতে, পড়তে বা সাজিয়ে রাখতে পারবেন সহজেই।