সরকারি চাকরিতে কোটা বিতর্ক

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩০
কোটা নয় যোগ্যতাই হোক প্রধান যোগ্যতা অনুসারে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কোন অজুহাতে অযোগ্যকে তো নয়ই, অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যকেও নিয়োগ দেয়া সাংবিধানিক নয় বলে আমি মনে করি। মূলত সুবিধাভোগী শাসক শ্রেণির স্বার্থ চরিতার্থ করতে অব্যাহতভাবে এটা করা হচ্ছে। আমাদের দেশকে এখন একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অভীষ্ট লক্ষ্য ও মুক্তি অর্জন করতে হবে। আর দেশের সুশাসন এবং অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য একটি দক্ষ জনপ্রশাসন অপরিহার্য। তাই সর্বোচ্চ চাকরি ক্ষেত্রে অন্তত কোটা বাঞ্ছনীয় নয়। কারণ বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা আমাদের রক্তে মিশে আছে, দেশ স্বাধীন হবার পর চাকরি ক্ষেত্রে কোটা প্রথা প্রবর্তন করে নতুনভাবে বৈষম্য সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে এই কোটা প্রথাকে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থানে দাঁড় করানো হয়েছে। তাই আমি দাবি করি, অবিলম্বে বিসিএসসহ সকল চাকরির ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতির সংস্কার করে ১০% এর নিচে নামিয়ে আনা হোক এবং সময়ের সাথে সাথে অনগ্রসর নাগরিকদের সমাজে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব তৈরি হলে ধীরে ধীরে এই প্রথার বিলুপ্তি ঘটানো হোক। শিরিনা শারমিন এম.এস.এস (অধ্যয়নরত) অর্থনীতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অপরিকল্পিত কোটা প্রথার চাপাকলে পিষ্ট মেধাবীরা স্বাধীনতার পর থেকেই আমাদের দেশের সকল সরকারি চাকরির নিয়োগস্তরে বিচার-বিবেচনাহীনভাবে কোটা প্রথা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারের পর সরকার এসেছে কিন্তু কোন না কোনভাবে পরিবর্তিত রূপে কোটা ব্যবস্থা রয়েই গেছে এবং দিনে দিনে কোটাগুলোর অনুপাতও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সম্প্রতি ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় কোটা প্রথার এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এই পরীক্ষায় প্রিলিমিনারিতে মেধাতালিকায় অতিনিম্নে অবস্থানকারী প্রাধিকার কোটাভুক্ত প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। অপরদিকে মেধাতালিকায় সামনের দিকে থাকা সত্ত্বেও অনেক মেধাবী প্রার্থী বিবেচনায় আসতে পারেনি। অপরদিকে আমাদের সংবিধানের ২৯নং অনুচ্ছেদে সরকারি চাকরিতে সকলের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। আবার একই অনুচ্ছেদের ৩নং ধারাতে, কোন অনগ্রসর জাতি বা গোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, তাও আবার ২০% অধিক নয়। কিন্তু আমাদের দেশের প্রাধিকার কোটাভুক্ত প্রার্থীরা কি অনগ্রসরদের আওতায় পড়ে? এই অপরিকল্পিত কোটা ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছর অনেক মেধাবী প্রার্থী বঞ্চিত ও বেকারত্ব বরণ করছে। মারুফ আহমেদ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ১ম বর্ষ ২য় সেমিস্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বহাল রাখাই শ্রেয় সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে সম্প্রতি বিসিএস ক্যাডারদের সাথে পুলিশের যে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে তা সত্যিই দুঃখজনক এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনা। বর্তমানে কোটা বিরোধীদের দাবি হচ্ছে সরকারি চাকরি হতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা। কিন্তু দেশে সরকারি চাকরিতে বর্তমানে চালু রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা, প্রতিবন্ধি কোটা এবং উপজাতি কোটা, আপনারা যদি একটু ভেবে দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন আমাদের দেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা কতটা। তারা যদি পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়াত তাহলে আমরা আমাদের এই স্বাধীন দেশে মাথা তুলে বাঁচতে পারতাম না। আর আপনারা কি পারতেন স্বাধীন দেশের বুকে চাকরি করতে? তাই আমাদের তরুণ সমাজের উচিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানো। মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রেখে আমরাই পারি তাদের প্রাপ্ত সম্মান ফিরিয়ে দিতে। তাই আমি মনে করি সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বহাল রাখাই শ্রেয়। প্রণয় কুমার সাহা উচ্চ মাধ্যমিক ফলপ্রার্থী, বাণিজ্য বিভাগ কালুখালী ডিগ্রি কলেজ, কালুখালী, রাজবাড়ী প্রকৃত মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের জন্য চাই কোটা পদ্ধতির পুনঃসংস্কার বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বর্তমান বির্তকের ঝড় বয়ে চলছে। আর বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ারই কথা। কারণ কোটার মাধ্যমে যদি ৫৬% আসন সংরক্ষণ করা হয় তাহলে সেখানে প্রকৃত মেধার সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব নয়। সরকারি চাকরিসহ সকল প্রতিযোগিতায় মেধাবীরাই ঠিকে থাকবে, দেশ ও জাতির নেতৃত্ব মেধাবীরাই দিবে এটাই নিয়ম হওয়া দরকার। কিন্তু ৫৬% আসন সংরক্ষণের মাধ্যমে আপক্ষাকৃত কম মেধাবী মেধাহীনদের এ সুযোগ দেয়ায় আজ সচেতনমহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাই কোটা পদ্ধতি পুনঃবিন্যাস করে কোটার পরিমাণ কমিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ্য মেধাবী প্রার্থীদের সুযোগ প্রদান করা জরুরি। মো. রুবেল হোসেন বি.এম.এস অর্থনীতি বিভাগ ১ম বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন