সরকারি চাকরিতে কোটা বিতর্ক
আর নয়
কোটা ব্যবস্থা বলতে সাধারণত একশ্রেণির অনগ্রসর লোকদের অগ্রসরের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ প্রসঙ্গে হঠাত্ একটা সত্য কথা মনে পড়লো, আমাদের ক্লাসের মিডটার্ম পরীক্ষায় এক ছাত্রী ২০ নম্বরের মধ্যে ১৬ নম্বরের উত্তর দেয়, তথা সে সম্পূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। রেজাল্ট শেষে দেখা গেল সে ১৬ নম্বরের মধ্যে ১৭ নম্বর পেল। কারণ আমাদের স্যারেরা অনগ্রসর শ্রেণিদের অগ্রসরে এতটাই ব্যস্ত যে, অনগ্রসর শ্রেণিদের কে কত নম্বরের উত্তর দিল তা বড় কথা নয়, নম্বর তাদের সবচেয়ে বেশিই দিতে হবে। নচেত্ তাদের অধিকার হরণ করা হবে। আমরা এর প্রতিবাদ করলাম না। কারণ রাঘব বোয়ালদের তৃতীয় হাত খুবই শক্তিশালী। তবে পিছনের বেঞ্চের একটা ছাত্র একটু প্রতিবাদ করতে গিয়ে থেমে যায়। যাই হোক, কোটা ব্যবস্থা ৫৫% না করে ১৫-২০% করলে মন্দ হতো না। বরং কোটা প্রাপ্তিরা এবং দেশের মেধাবীরা শান্তিই অনুভব করতো। কয়েকদিন আগে বিসিএস পরীক্ষার্থীরা ৫৫% কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করলো। আমরা খুব দূর থেকে তাদের সমর্থন জানাই। কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রত্যেকটি সরকার তাদের দলীয় ক্যাডার নিয়োগ দিচ্ছে। তাই স্বাধীনতার ৪২ বছর পর কোটা থাকা মানে জাতির সাথে ছেলেখেলা এবং বেঈমানি ছাড়া আর কিছুই নয়।
শাহ মু. রহমত উল্লাহ (রুমি)
শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০০
কোটার আঁধারে
মেধার বিপর্যয়
আমাদের দেশের চাকরির ক্ষেত্রটি এভাবে তুলনা করা যায় যে, এই ক্ষেত্রটি এমন এক ফুটবল মাঠের মতো পরিণত হয়েছে যেখানে কোটাধারীরা প্নাল্টিতে গোল দিচ্ছে আর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা মাঝমাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে গোলে কিক নেয়ার আগেই কোটাধারীদের আক্রমণে পরাস্থ হচ্ছে। ৩৪তম বিসিএসের কোটাধারীদের সুযোগ দিতে মেধাবীদের ৭৯ মার্কস প্রথম পর্যায়ের রেজাল্টে পাশের জন্য যথেষ্ট না হওয়া এমনটি প্রমাণ করে । আবার আর এক পক্ষ রেফারির সাথে কারসাজি করে অফ সাইটে গোল দিচ্ছে অর্থাত্ এরা হচ্ছে চাকরির মাঠে মামু-খালুর আশ্রয়ধারী । অর্ধ শতাংশের বেশি চাকরি প্রার্থীরা কোটা সুবিধা ভোগ করে। আর বাকি অংশটুকু মেধাবীদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও আমাদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে ঘুষ ও ক্ষমতার বলে বাকি অংশটুকুতেও আরো কিছু মেধাহীন লোক চাকরিতে সুযোগ পাওয়ার ফলে অনেক মেধাবীই চাকরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর এ কারণে কর্মসংস্থান মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে। কিন্তু এই বিধানের ফলে মেধাসম্পন্ন নাগরিকদের একটি বড় অংশ অনগ্রসরতার মধ্যে পতিত হচ্ছেন। শুধু এখানেই শেষ নয়, রাষ্ট্রের নাগরিকদের একটি বড় অংশ কম মেধাসম্পন্ন যারা মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও উপজাতি ইত্যাদি কোন কোটার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং যাদের জীবন বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত তাদের অনগ্রসর জীবনকে অগ্রসর করাতে আমাদের এই রাষ্ট্র কি কোটা ব্যবস্থা করেছে ?
মনিরুল ইসলাম (মনির)
ইংরেজি বিভাগ, সম্মান ৪র্থ বর্ষ
ঢাকা কলেজ, ঢাকা
০০০০০০
কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা যায় না
কোটা পদ্ধতির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যাদের জন্য কোটা দরকার তারা না পেয়ে পাচ্ছে অন্যরা। এ কোটা পদ্ধতি তাদের জন্য দরকার যারা চলতে-ফিরতে পারে না। যাদেরকে বলা হয় প্রতিবন্ধী। কিন্ু্ত এ সকল মেধাবী মেধার সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে না। আর এ কোটার মাধ্যমে যারা সরকারের বিভিন্ন মহলে নিয়োগ পাচ্ছে তাদের দ্বারা অন্যায় ছাড়া ন্যায় কোন কিছু পাওয়া যাবে না। এর মাধ্যমে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের খাটো করছি না। তবে যারা সঠিক মুক্তিযোদ্ধা তাদের জন্য অল্প কিছু সুযোগ রাখা অবশ্যই দরকার। তবে ৩০ ভাগ কমিয়ে আনতে হবে। কারণ বাংলাদেশে যে হিসেবে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সে হিসেবে চাকরি পাওয়া খুবই দুরূহ । আর তাই কোটা পদ্ধতির হার কমিয়ে সকল শিক্ষার্থীকে চাকরি করার সুযোগ করে দেয়া যে কোন সরকারের আবশ্যিক কর্তব্য। আর এটাই আমাদের সকল শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি।
মনিরুল ইসলাম নাঈম
বিএ অনার্স, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০০
মুক্তিযোদ্ধারা কোটার
জন্য যুদ্ধ করেননি
যারা দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন তাদের কোন আলাদা সন্তান নেই। কোটা প্রথা দ্বারা আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধাদের ছোট করা হচ্ছে । বরং যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তারা চান এ দেশ পরিচালনা করবে তাদের যোগ্য সন্তানরা, তাদের ঔরসজাতরা নয়। তাছাড়া দেশে স্থায়ী তালিকা নেই মুক্তিযোদ্ধাদের। প্রতি সরকারের সময় তালিকায় রদবদল হয়। টাকায় কেনা সার্টিফিকেটের উপর ভিত্তি করে ৩০% কোটা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ। মুক্তিযোদ্ধারা কোটার জন্য যুদ্ধ করেননি। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে কোটা ছিল সেটা নিয়ে কথা নেই। তাদের সন্তানদের জন্য কেন কোটা থাকবে? কেন কোটা থাকবে তাদের নাতি-নাতনিদের জন্য? জন্মই যদি যোগ্যতার মাপকাঠি হয় তাহলে মেধার মূল্যায়ন হবে কিভাবে ? মুক্তিযোদ্ধা কোটা, নারী কোটা, জেলা কোটা, আদিবাসী কোটা- এগুলো বাতিল করা উচিত। শুধু অন্যভাবে সক্ষমদের জন্য যে ১% কোটা আছে সেটা রাখার পক্ষে।
মো. বেলায়েত হোসাইন
ইংরেজি বিভাগ, সরকারি বাংলা কলেজ, ঢাকা
