মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:১২
লাইলাতুল কদর সমাগত। আজ ২৬ রমজান দিবাগত রাতে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে পালিত হইবে লাইলাতুল কদর। মহিমান্বিত এই রাত আল্লাহ তায়ালার রহমত ও বরকতে পরিপূর্ণ । আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা এই রাত্রিকে দান করিয়াছেন অনন্য মর্যাদা। এই উপলক্ষে অবতীর্ণ সূরাতুল ক্বদরে তিনি ইরশাদ করেন, ‘ইন্না আনযালনাহু ফি লাইলাতিল ক্বদর’— অর্থাত্ আমি ইহা (মহাগ্রন্থ আল কুরআন) ক্বদরের রাত্রেই অবতীর্ণ করিয়াছি। মনীষী টমাস কার্লাইলের মতে, ‘এই একখানি গ্রন্থকে সম্বল করিয়া দুনিয়ার বুকে মহানবী (সঃ) মহাবিপ্লব সাধন করিয়াছেন।’ বিভিন্ন বর্ণনা হইতে জানা যায়, লওহে মাহফুজ হইতে এই রাত্রেই কুরআনুল কারীম অবতীর্ণ হয় সর্বনিম্ন আসমানে। অতঃপর ২৩ বত্সর ধরিয়া প্রয়োজনমত ও পর্যায়ক্রমে প্রিয়নবী (সঃ)-এর নিকট তাহা নাজিল হয়। ইহা বিশ্ব মানবের জীবনদর্শন, জীবন বিধান। লাইলাতুল ক্বদরের ফজিলত ইহার কারণেই বেশি। আল্লামা সয়ুতি (রহঃ) ‘লুবারুন নুকুল’ গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন যে, পূর্ববর্তী নবীদের যুগে তাহাদের উম্মতগণ ছিলেন দীর্ঘজীবী। ফলে তাহারা বহু বত্সর আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করিয়া অশেষ সওয়াব হাসিলের সৌভাগ্য অর্জন করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে মানুষের আয়ু কমিয়া গেলে উম্মতে মুহাম্মদীর পক্ষে এত অধিক পরিমাণ নেক আমল করা দুঃসাধ্য হইয়া পড়ে। এ কারণে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে এক ধরনের আক্ষেপ ছিল। ইহার পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয় সুরাতুল ক্বদর। ইহাতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন,—‘লাইলাতুল ক্বদরি খয়রুম মিন আলফি শাহ্র’। অর্থ:কদরের রাত্রি সহস্র মাস হইতে উত্তম। উম্মতে মুহাম্মদের (সাঃ) জন্যে নিঃসন্দেহে ইহা এক অনির্বচনীয় সুসংবাদ। তুলনামূলকভাবে স্বল্পায়ু হওয়া সত্ত্বেও ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে অনেক বেশি সওয়াব হাসিলের সুযোগ পুণ্যময় এই রাতে অবারিত। এক জীবনে অনেকবার এই রাত্রি আসিয়া হাজির হয়। তাহার পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করিতে কাহারো আলস্য করা উচিত নয়। লাইলাতুল কদর উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য আল্লাহ তায়া’লার এক বিশেষ নিয়ামত। এই পবিত্র রাত্রে ঊষার আগমন পর্যন্ত আল্লাহর রহমত বর্ষিত হইতে থাকে অবিরাম। রহমতের এই রাত্রে আল্লাহর নির্দেশে হযরত জিব্রাইল (আঃ) অন্য ফিরিশতাদের সঙ্গে লইয়া সিদরাতুল মুনতাহা হইতে নামিয়া আসেন এই ধূলির ধরায়। ঈমানদার-মুত্তাকি, গুনাহগার ও মাইয়েত-মাইয়েতা সকলের জন্যই থাকে কোন না কোন সুসংবাদ। বিশেষত অর্থসহ কুরআন পড়িয়া আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করিতে পারিলে এই রাত্রে কুরআন নাজিলের সার্থকতা পরিপূর্ণ হয়। কদর রাত্রির পরেই মাহে রমজানের বিদায় আসন্ন হইয়া পড়ে। তাই এই জিন্দেগীর সমস্ত গুনাহ-খাতা মাফ হইল কিনা তাহার জন্য দোয়া ও নামাজে বেশি বেশি কান্নাকাটি করিতে হয়। এই মুবারক রাত্রে আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নী, ইয়া গাফুরু, ইয়া গাফুরু—দোয়াটি বেশি বেশি করিয়া পাঠ করা বাঞ্ছনীয়। অর্থাত্ হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করিতে তুমি ভালবাসো, অতএব আমাকে তুমি ক্ষমা করিয়া দাও, হে ক্ষমাশীল। এই রাত্রে আল্লাহ পাক চান তাহার বান্দারা গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হইয়া তওবা করুক, তিনি তাহা কবুল করিবেন। তাই এই রাত্রিটি কুরআন তেলাওয়াত, কবর জেয়ারত, তসবিহ-তাহলিল, জিকির-আযকার, অতিরিক্ত নফল নামাজ ইত্যাদির মাধ্যমে অতিবাহিত করা কর্তব্য। ইহাছাড়া সত্কাজ, সিচন্তা, সদ্ব্যবহার ও খাস নিয়তের ব্যাপারে সারা বত্সর সজাগ ও সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়। আল্লাহ গাফুরুর রহীম আমাদের প্রার্থনা কবুল করুন এবং সারা দুনিয়ায় কল্যাণ ও শান্তি দান করুন। আমীন ইয়া রাব্বুল ’আলামীন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন