সরকারি চাকরিতে কোটা বিতর্ক

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:১৬
কোটা প্রয়োজন তবে তা ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশের বেশি নয় বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বহুল আলোচিত বিষয় হচ্ছে কোটা পদ্ধতি। যেখানে মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন করা হয় না। শুধু দেখা হয় যে কে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা কোন জেলার সদস্য। কিন্তু বাইরের দেশগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় সেখানে মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন হচ্ছে। যদিও কোন কোন দেশে কোটা পদ্ধতি চালু আছে তবে তা খুবই সীমিত পরিমাণে। কিন্তু বাংলাদেশে কোটার পরিমাণ প্রায় ৫৫ শতাংশ। আর মেধার পরিমাণ ৪৪ শতাংশ। আর এই কোটা পদ্ধতি থাকার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সঠিক জনবল নিয়োগ হচ্ছে না। যার ফলে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন করা দরকার। তাই মেধায় ৮০%, মুক্তিযোদ্ধা ১০%, আদিবাসী ৫%, প্রতিবন্ধী ৫% কোটা রাখা উত্তম বলে মনে করি। দেবাশীষ মিত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মীর মশাররফ হোসেন হল কোটার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের ছোট করা হয় বাংলার আনাচে-কানাচে এমনও অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছে যারা মাতৃভূমিকে ভালবেসে যুদ্ধ করেছিল। সার্টিফিকেটের আশায় যুদ্ধ করেনি। আজকে সে সকল মুক্তিযাদ্ধার কেউ খবরও রাখে না। আমি যখন প্রা্থমিক বিদ্যালয়ে পড়তাম তখন বাবা আমাকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনাতেন, খুব মনোযোগ সহকারে সে গল্পগুলো শুনতাম। সারা গ্রামে কেউ বাড়িতে থাকত না বাবা-মা আর আমার দাদী বাড়িতে থাকতেন। মুক্তিযোদ্ধারা বর্ষাকালে নৌকা নিয়ে বাড়িতে আসতেন। তারা খাবার খেতেন প্রয়োজনে নিয়েও যেতেন। মাঝে মাঝে বন্দুক, গোলা-বারুদ রাখতেন আবার নিয়ে যেতেন। বাবা বলতেন কিভাবে তারা কুমিল্লার ভাগুলপুরের সেতু পানি দিয়ে সাঁতার কেটে গিয়ে বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। সবশেষ কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার গোয়ালমারীতে কিভাবে পাকিস্তানি সেনাদের পরাজিত করেছিলেন। এরকম আরো অনেক কাহিনী কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমার বাবা তথাকথিত সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধা নন। শুধু আমার বাবা্ নন, গান্ধী ডাক্তার, গিয়াসউদ্দিন সরদার তরুসহ আরো অনেক্ সার্টিফিকেট পাননি, একদিন বাবাকে বললাম- বাবা আপনি মুক্তিযুদ্ধ করলেন অথচ কোন সার্টিফিকেট রাখলেন না। বাবা আমাকে সান্ব্তনা দিয়ে বললেন, শোন বাবা আমরা সার্টিফিকেটের জন্য যুদ্ধ করিনি, যুদ্ধ করেছি এদেশের মানুষকে পাকিস্তানিদের অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে মুক্ত করার জন্য। আমার বিশ্বাস আমার বাবার মতো অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা আছেন যারা সার্টিফিকেটের মুক্তিযোদ্ধা নন। সেজন্য আমি সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি— আসুন আমরা সকল মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা কোটা নয়, মেধাকে মূল্যায়ন করি। মুক্তিযোদ্ধাদের সে সোনার বাংলা গড়ে তুলি যা গোটা পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে যোগ্যতার নিরিখে। সরদার মাহমুদ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, শহীদ রফিক-জব্বার হল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কোটা পদ্ধতি মেধা অবমূল্যায়নেরই নামান্তর উন্নয়নশীল দেশে উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষিত, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি সৃষ্টি করা। জনসম্পদকে যদি জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়, তাহলে একটি দেশের চেহারা অতি দ্রুতই পাল্টে ফেলা সম্ভব। আর সেখানে যদি কোন কারণবশত বা কোন সুযোগে অদক্ষ জনসম্পদ গড়ে ওঠে বা ধাবিত হয়, তবে সেদেশের উন্নয়নের গতি রুদ্ধ করার নামান্তরই হবে কোটা ব্যবস্থা। তাতে দেশে অদক্ষ জনসম্পদ গড়ে উঠবে, মেধাবীরা হবে হতাশাগ্রস্ত, দেখা দিবে মেধা পাচার, দেশ হারাবে স্বর্ণ সন্তানদের, ক্রমে ক্রমে দেশ মেধাশূন্যতার দিকে ধাবিত হবে, তা উন্নয়নের পথে হবে প্রতিবন্ধক। তবে আমি কোটার একেবারে বিরুদ্ধেও নই। আমাদের সূর্য সৈনিকদের সম্মানস্বরূপ শুধু সন্তানদের কোটার আওতায় রাখার পক্ষে, তবে সেখানেও একটা নির্দিষ্ট স্কেল থাকা উচিত বলে মনে করি। শাহজাহান আলী মূসা মাস্টার্স, সমাজকর্ম বিভাগ সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল করা হোক সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি থাকার কারণে অনেক উচ্চশিক্ষিত ছেলে-মেয়েই স্বাভাবিক যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও সরকারি চাকরি না-পেয়ে বেছে নিচ্ছে অসত্ পথে উপার্জন প্রক্রিয়া, নয়তোবা সমাজ তথা পরিবারের কটুকথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। এখন হয়তোবা কারো কারো প্রশ্ন হতে পারে যে, সরকারি চাকরিতে বহালকৃত কোটা পদ্ধতির সঙ্গে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা ছেলে-মেয়েদের আত্মহত্যার/ অসত্ পন্থায় উপার্জন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততার কি কোন সম্পর্ক আছে? জানি না আপনারা কী বলবেন? তবে একথা সত্য যে, শুধুমাত্র কোটা পদ্ধতির কারণেই উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন ছেলে-মেয়েরা বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ নয়তোবা বেছে নেয় অসত্ পন্থায় অর্থ উপার্জন প্রক্রিয়া অথবা হয়ে যায় মাদকাসক্ত। শুধুমাত্র তাই নয়, এই কোটা পদ্ধতির কারণেই প্রকৃত মেধাবীদের পরিবর্তে অনেক কম মেধাসম্পন্নরাও সরকারি চাকরিতে অনেক বড় বড় পদ আগলে রেখে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে বিশৃঙ্খলার পথে এবং দেশ ও জাতি বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত মেধাবীদের সেবা থেকে। তাই সরকারি চাকরিতে শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী কোটা রেখে অন্যান্য সকল কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হোক। তারেক রহমান স্নাতক সম্মান (বাংলা) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, বাংলাদেশ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন