সরকারি চাকরিতে কোটা বিতর্ক

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩৪
কোটা পদ্ধতি আর নয় বিসিএসসহ সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি নিয়ে এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সংবিধানের ২৯নং ধারার ৩নং অনুচ্ছেদে কোটা পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। এই কোটা ব্যবস্থায় বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে ৫৫ শতাংশ আর মেধাবী ৪৫ শতাংশদের নিয়োগ দিয়ে চলেছে পিএসসি। এই বিতর্কের কারণে বঞ্চিত মেধাবীদের বিক্ষোভ-আন্দোলন করতে হয়েছে। এত আন্দোলনের পরও সরকার কোটা পদ্ধতি বাতিল করেনি। একটি স্বাধীন দেশে মেধাবীদের বঞ্চিতকারী কোটা পদ্ধতি থাকা উচিত্ নয়। তাই সংবিধান পরিবর্তন করে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা উচিত্। মো. ইয়ামিন খান ইংরেজী বিভাগ, অনার্স, শেষ বর্ষ, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর কোটা পদ্ধতি বাতিল নয়, প্রয়োজনে সংশোধন করতে হবে চাকরি ক্ষেত্রে কোটা প্রথা অনেক দেশেই চালু আছে। তবে মূলত তা সংরক্ষিত রাখা হয় সমাজের অনগ্রসর শ্রেণির জন্য। আমাদের দেশে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ ছাড়াও জেলা ও নারী কোটার ব্যবস্থা রয়েছে। নিঃসন্দেহে বলা যায় চাকরির ক্ষেত্রে সমাজের অনগ্রসর মানুষের জন্য কোটা ব্যবস্থার পেছনে একটি ইতিবাচক উদ্দেশ্য রয়েছে। মূলধারায় তালমিলিয়ে চলতে গিয়ে সমাজের অনগ্রসর মানুষের টেনে আনার জন্য রাষ্ট্রের করণীয় যা রয়েছে রাষ্ট্র তা যথাযথভাবে পালন করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোটাপদ্ধতি যদি চিরন্তন একটি পদ্ধতিতে পরিণত হয় এবং তা যদি বিতর্কের জন্ম দেয় তবে রাষ্ট্রকে অবশ্যই এ ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা করতে হবে। উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলায় রাষ্ট্রকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিতে হলে, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটা-ঘুষ দিয়ে নয়, মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার শোষণ-বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়েই দিতে হবে। বিষয়টি অনুধাবন করে কোটা প্রথা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে আসা দরকার। অনগ্রসর শ্রেণির জন্য কোটা রাখার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নিলেও স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পর জন্ম নেয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য কোটা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। এ নিয়ে এ প্রজন্মের মধ্যে কিছুটা চাপা ক্ষোভ রয়েছে এটা স্বীকার করতে কার্পণ্যবোধ করি না। অথচ এ খাতে কোটার পরিমাণ ৩০ শতাংশ। বর্তমান বাস্তবতায় জেলা ও নারী কোটা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও খুব বেশি যুক্তি নেই। চাকরি ক্ষেত্রে কোটা প্রথা যদি রাখতেই হয়, তবে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে এবং সেক্ষেত্রেও প্রার্থীদের সুযোগ দিতে হবে মেধার ভিত্তিতে। আলমগীর কবীর, এমফিল গবেষক, বাংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোটা জটিলতার ফাঁদে আটকে পড়ে মেধাবীরা আমাদের দেশে বিসিএস এর মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরিতে চলমান ৫৫ শতাংশ কোটা কোনভাবেই কাম্য নয়। সরকারি ও মাধ্যমিক শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিও কোটার আয়ত্তে। এই কোটা যেন সিন্দাবাদের দৈত্য হয়ে খপ্পরে নিয়েছে জাতির বিবেককে। হাজারো দুঃস্বপ্নের যাঁতাকলে পৃষ্ট শিক্ষিত তরুণসমাজ সতেজ স্বপ্ন ভঙ্গের ব্যথায় ব্যথিত। সুস্থ-স্বাভাবিক নিয়োগের অভাবে প্রশাসন হারাচ্ছে যোগ্য কান্ডারীদের। ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে নতুন ফাঁকফোকরে কোটা প্রতিটি সেক্টরের সেবার মান ও প্রাণকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। চাকরি হাহাকারময় মুহূর্তেও কোটা জটিলতার ফাঁদে আটকে পড়ে বিভিন্ন পদের নিয়োগ যা কিনা শুধু মেধাবীদের বঞ্চিতই করে না, নিরুত্সাহিত করে এক ভবিষ্যত্ শিক্ষিত অতঃপর চাকরিজীবী হবার মন্ত্রে দীক্ষিত তরুণসমাজকে। বিশ্বায়নের যুগে জাতি এভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে পারে না, চলতে দেয়া যায় না। তাই বিদ্যমান বিতর্কিত কোটা পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কামরুন্নাহার শাপলা ৮ম সেমিষ্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোটা হয়তো বাতিল নয়তো সংস্কার করা হোক কোটা পদ্ধতির বিপক্ষে যারা কথা বলে তারাতো তাদের মেধা এবং যোগ্যতাকে প্রদর্শন করতে চায় । অপরদিকে কোটার পক্ষে যারা কথা বলে তারা তাদের ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদর্শন করতে চায় (সবাই নয়)। কোটার জোরে আজ যারা বড় বড় চেয়ারগুলো দখলে নিয়েছেন। তারা চাচ্ছেন বংশ পরম্পরায় এ চেয়ারগুলো তাদের দখলেই থাকুক। তাই তারা কোটা পদ্ধতির পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে থাকেন। কারণ, যুক্তির মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যাকেও প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস পাওয়া যায়। এই হীন মানসিকতা দূরীকরণের লক্ষ্যে কোটা পদ্ধতির মূলে কুঠারাঘাত করে জাতিকে মেধা শূন্যতার হাত থেকে বাঁচানো অত্যাবশ্যক। যদি কোটা বাতিল না-ই করা যায়; তবে এমনভাবে সংস্কার করতে হবে তা যেন আপামোর জনতার সহনশীলতার মাত্রাকে অতিক্রম না করে। মো. হাবিবুর রহমান অনার্স ৪র্থ বর্ষ, ইংরেজী বিভাগ, ভোলা সরকারি কলেজ, ভোলা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন