জেলার ফতুল্লা, সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে গার্মেন্টস, হোসিয়ারী, টেক্সটাইল, স্পিনিং, স্টিল, রি-রোলিং মিলসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১০ লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মরত। ঈদ সামনে রেখে এসব শ্রমিককে লক্ষ্য করে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা প্রতিবছরের মত এবছর একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকরা বেতন বোনাস নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে তার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছেন।
গত শুক্রবার বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় নিহত হন সবুজ (১৭) নামে এক হোসিয়ারী শ্রমিক। বৃহস্পতিবার ফতুল্লায় একটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিককে কুপিয়ে ৬টি টিভি ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা। সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় গুলি করে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ৬০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২০১২ সালের ১৬ আগস্ট রাতে ঈদুল ফিতরের দু’দিন আগে শহরের জামতলা এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে গণছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই সময় অন্তত ২৪ জন ছিনতাইয়ের শিকার হন। বাংলাদেশ হোসিয়ারী অ্যাসোসিয়েশনের সচিব সফদার হোসেন জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরের নয়ামাটি, উকিলপাড়ার হোসিয়ারী পল্লীতে হোসিয়ারী শ্রমিক রয়েছে অন্তত ১ লাখ। শ্রমিকরা কাজ শেষে গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে অনেকেই ছিনতাইকারীর কবলে পড়ছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন সভাপতি এম এ শাহীন বলেন, দিনেরবেলায় শ্রমিকদের বেতন দেয়া হলে তেমন সমস্যায় পড়তে হয় না। কিন্তু রাতেরবেলায় বেতন দিলে শ্রমিকদের ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে হয়। তাই মালিক কর্তৃপক্ষকে শ্রমিক দিনেরবেলা বেতন প্রদান ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। বিকেএমইএর পরিচালক ও লেবার অ্যাফেয়ার্স স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান জিএম ফারুক বলেন, বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে শ্রমিকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
