বৈষম্য কমানোর একমাত্র
হাতিয়ার কোটা পদ্ধতি
বৈষম্য কমানোর জন্য কোটার প্রয়োজন আছে। আসলে প্রকৃত মেধাবীরা নয় অযোগ্যরাই কোটা নিয়ে বিতর্কের সূচনা করেছে। কারণ কোটার মাধ্যমে যারা সুযোগ পাচ্ছে তারা সবাই মেধাবী। নিশ্চয় তারা পড়াশোনা করেই চাকরির জন্য আবেদন করছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করার জন্য যে একাডেমিক শিক্ষার সনদপত্র দরকার তা নিশ্চয় তারা অর্জন করেছে। এই সনদপত্র তথাকথিত মেধাবীরা অর্জন করে দিয়ে যায়নি। তাই বলা যায় যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ পাচ্ছে তারা সবাই মেধাবী এবং মেধাবী হয়েই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কোটার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তাই বলা যায় বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার জন্য কোটা পদ্ধতির বিকল্প নেই।
গনেশ চন্দ্র দে (অভিজিত্)
ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট (ইএমবিএ)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কোটা বাতিল নয় বরং
সংস্কার দরকার
যারা কোটার বিরোধিতা করেন বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখলাম তারা প্রিলিতেই টিকেন না এবং কোন নিয়োগ পরীক্ষায় যখন পাস করতে পারেন না তখনি এমন ধারণা চলে আসে যে কোটা প্রথার জন্য চাকরি হচ্ছে না। আসলে প্রকৃত কথা হচ্ছে চাকরি হচ্ছে না এর জন্য কোটা প্রথা দায়ী নয় বরং জনসংখ্যার অনুপাতে চাকরির ক্ষেত্র তৈরি না হওয়া। ২ থেকে ৩ হাজার ক্যাডার পদের জন্য ২ লক্ষ লোক লড়ে থাকে এবং ভাইভা দিয়ে থাকে ২০ হাজারের মত তাহলে বাকিরা কী সবাই মেধাহীন। না জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে চাকরির ক্ষেত্র বৃদ্ধির জন্য সোচ্চার হওয়া বরং যুক্তিযুক্ত। কেননা মুক্তিযোদ্ধা কোটার সন্তানরা এদেশের শত্রু নয় বরং তারাও এদেশের নাগরিক, তাদের চাকরি পাওয়ার অধিকার আছে। তবে কোটার হার কমিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ২৫%, উপজাতি এবং অপর সকল কোটা প্রথা বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাতিল করা যেতে পারে। এবং এই ৩০% কোটায় নিয়োগ স্বচ্ছতা আনয়নে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে কোটা বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হতে পারে। অতএব কোটা বাতিল নয় বরং সংস্কার।
মো. নূরুল হক,
মাস্টার্স শেষ বর্ষ
রসায়ন বিভাগ, আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
কোটা রাষ্ট্রীয় উন্নতির
অন্তরায়
কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক তথা সার্বিক সেক্টরের উন্নতির জন্য প্রয়োজন দক্ষ, যোগ্য ও সর্বোপরি মেধাবী জনশক্তির। আর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে মেধাবীদের মূল্যায়নের কোন বিকল্প নেই। যারা কোটায় চাকরি পায় তাদের ৭০-৮০ ভাগই অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী। মেধাবীদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণের ফলে তারা ভাল চাকরির আশায় বিদেশে পাড়ি জমায়। এভাবে প্রতি বছর অনেক মেধা বিদেশে পাচার হচ্ছে। অথচ তারা দেশে থাকলে তাদের সৃজনশীল চিন্তার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে পারতো। সুতরাং দেশকে উন্নতির স্বর্ণশিখরে নিয়ে যেতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের কোন বিকল্প নেই।
সাদিক সাত্তার আনন্দ
বিবিএ প্রোগ্রাম, ৩য় বর্ষ, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
কোটাভিত্তিক নিয়োগের ফলে
যোগ্য প্রার্থী অযোগ্য
হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে
কোটা যুক্তপ্রার্থীরা কম মেধাবী হয়েও যদি কোন পদে নিয়োজিত হয় তবে সেখানে তার দ্বারা ঐ কাজ সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়া সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি। তাই সকল ছাত্র সমাজের আজ বলা উচিত সরকারিসহ বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষার ভিত্তিতে মেধার মূল্যায়ন করে উপযুক্ত পদ বা কর্ম প্রদান করলে দেশ হবে দুর্নীতিমুক্ত ও সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে সমৃদ্ধি লাভ করবে।
সালেহীন সোয়াদ সাম্মী
অনার্স, ১ম বর্ষ
অর্থনীতি বিভাগ
সরকারি রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ফরিদপুর
