চীন পশ্চিমা বিশ্বের শত্রু না বন্ধু?

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২০:২৯
অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে চীনের দ্রুত উত্থান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে এটি মাথা ব্যথার কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। তাদের মতে, উন্নয়নের সিঁড়ি বেয়ে চীন যেভাবে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে ভবিষ্যত্ চীনকে আর কোনভাবেই দমানো সম্ভব নয়। তারা মনে করছেন, দেশটির এ অগ্রযাত্রা বিশ্বে চীনের একক আধিপত্য সৃষ্টি করবে। এরই মধ্যে পাশ্চাত্যর বিভিন্ন সরকার তাদের উদ্বিগ্নতার কথা জানিয়ে বলেছে, চীন চার মহাদেশের বিভিন্ন দেশে সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করে নিয়েছে। সঙ্গত কারণেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, তাহলে চীন কি পাশ্চাত্য বিশ্বের শত্রু না বন্ধু? সমপ্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে তেমনই ইঙ্গিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তরফ থেকে এ ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, ভবিষ্যত্ চীনের যাত্রা আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, যা অনেকের কাছেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আবার কেউ কেউ এই মতের বিরুদ্ধাচরণ করে বলেছেন, পাশ্চাত্যের সঙ্গে সম্পর্কের বৈরিতা নয়, বরং সৌহার্দ্যের মাধ্যমেই সুন্দর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব। তারা বলছেন, চীন তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়টাকেও মাথায় রাখছে। সেক্ষেত্রে তারা পাশ্চাত্য বিশ্বের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখাকেই শ্রেয় বলে মনে করে। চীনের নতুন নেতৃত্ব মনে করে, ইউরোপের সঙ্গে বিশেষ করে ব্রিটেনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করা উচিত। এটি প্রতিদ্বন্দ্বী অনেক দেশের সঙ্গেই ভারসাম্য বজায়ে কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে চীনের তরফ থেকে সরাসরি কোন বক্তব্য না আসলেও তাদের পরোক্ষ মতামত হচ্ছে, তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভালো রাখার পক্ষে। একে আবার অনেকে রাজনৈতিক কৌশল চরিতার্থ করার পন্থা হিসাবে মনে করে। তাদের বক্তব্য, নতুন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এটা ভালোভাবেই জানেন যে, চীন বর্তমানে সত্যিকার অর্থে অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি। আর এ সমস্যা ব্যাপকভাবে তাদের জন্য অশনিসংকেত বয়ে আনতে পারে, যা তাদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাদের মতে, পাশ্চাত্যের সঙ্গে ভবিষ্যত্ বাণিজ্য যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক দুশ্চিন্তা চীনকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিপদে ফেলবে। তবে চীন ব্রিটেনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করলেও বাস্তবে তার পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে গত মে মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন যখন তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাইলামার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে চেয়েছিলেন, তখন চীন এর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছিল, এর ফলে চীন-ব্রিটেনে সম্পর্ক হিমাগারে চলে যাবে। চীনের পক্ষ থেকে তখন ব্রিটেনের এ ধরনের অভিপ্রায় প্রত্যাহারের আহবান জানানো হয়েছিল। কেননা চীন মনে করে তিব্বত ইস্যুতে তাদের অবস্থান পরিষ্কার। এখানে কোন ইন্ধন তা ব্যাহত করতে পারবে না। এর আগে ২০১২ সালে যখন ক্যামেরন দালাইলামার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন তখনও চীন ক্ষিপ্ত হয়েছিল। চীন তখন ব্রিটিশ সরকারের সমালোচনা করে বলেছিল, যুক্তরাজ্য এর মাধ্যমে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। ক্যামেরন দালাইলামার সঙ্গে সাক্ষাত্ করায় চীনের কর্মকর্তারা তখন ব্রিটেন সফর বাতিল করেন। তবে সম্পর্কের এই উঠানামা থাকলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্থায়ী বলে কিছু নেই। এখানে সম্পর্কের বিষয়টা যখন-তখন পরিবর্তন হতে পারে। তারই ধারাবাহিকতায় চীন হয়তো ব্রিটেনের সঙ্গে উন্নত সম্পর্ক ধরে রাখতে চায়, যা তাকে ভবিষ্যত্ অর্থনৈতিক শক্তিতে নিজেদের অবস্থান সক্রিয় করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। আর পাশ্চাত্য চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারা যদি এক হয়ে কাজ করেন, তাহলে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাবে সর্বত্র, যার সুফল উভয়েই সমানভাবে পাবে। কেননা সুস্থ প্রতিযোগিতা সবসময়ই ভালো কিছুর সৃষ্টি করে। কিন্তু অসুস্থ প্রতিযোগিতা কখনোই ভালো কিছু উপহার দিতে পারে না। তাই গঠনমূলক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অপরাজনীতি থেকে দূরে থেকে কোন কিছু সৃষ্টি করা হলে তার ফল হবে সুদূরপ্রসারী।