রুশ পার্লামেন্টের পরামর্শক হচ্ছেন স্নোডেন!

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২০:৩১
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দা কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন দীর্ঘ ছয় সপ্তাহ রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় একটি বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় ছিলেন। কয়েক দিন আগে রাশিয়া তাকে সাময়িক আশ্রয়ের অনুমতি দিয়েছে। এখন তাকে রুশ পার্লামেন্টের পরামর্শক নিয়োগ দেয়ার আয়োজন চলছে। রুশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ফেডারেশন কাউন্সিলের সদস্য রুসলান গাট্টারভ জানিয়েছেন, তাদের পার্লামেন্টের পরামর্শক হিসেবে কাজ করার জন্য স্নোডেনকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকার ও ব্যক্তিগত উপাত্তের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে এমন একটি ওয়ার্কিং গ্রুপের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে স্নোডেনের সঙ্গে কথা বলবেন পার্লামেন্ট সদস্য রুসলান গাট্টারভ। রাশিয়ার ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়ার নেতা গাট্টারভ সংসদের উচ্চকক্ষের ইনফরমেশন পলিসি কমিশনেরও চেয়ারম্যান। এই কমিশনের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ একটি বিল তৈরি করছে যাতে করে সাইবার জগতে ব্যক্তিগত তথ্য-উপাত্তের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিদ্যমান বিধি-বিধান আরো কঠোর করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) সাবেক কর্মী স্নোডেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কীভাবে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য গোপনে সংগ্রহ করে তা ফাঁস করে দিয়েছেন। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র তার পাসপোর্ট বাতিল করে দিলে তিনি এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে ইন্টারনেট ও ফোনে আড়িপেতে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতো এটি তিনি জানেন বলে তথ্য-উপাত্তের নিরাপত্তা রক্ষায় তাকে খুবই দক্ষ বলে বিবেচনা করছেন রুশ আইন প্রণেতা গাট্টারভ। ইন্টারনেট থেকে তথ্য ফাঁস রোধে সফটওয়্যার তৈরিতে স্নোডেন সহযোগিতা করতে পারবেন বলে মনে করেন গাট্টারভ। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার আড়িপাতার তথ্য ফাঁস করায় স্নোডেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ জানালেও রাশিয়া তা অগ্রাহ্য করে। গত ১ আগস্ট রাশিয়া তাকে এক বছরের জন্য আশ্রয় প্রদান করে। এরপর তিনি মস্কো বিমানবন্দর ছেড়ে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। রাশিয়া তাকে বিমানবন্দরে অবস্থানে সুযোগ দেয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সম্পর্কে চিড় ধরে। এখন তাকে আশ্রয় দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আরো ক্ষুব্ধ হয়। আগামী মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।