[ রা জ নী তি]

প্রচার-অপপ্রচার ও নির্বাচনী রাজনীতি

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩৬
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও এর ভালো প্রচার হয়নি বলেই জনগণের একটি অংশ তাদের প্রতি বিরূপ হয়ে উঠেছে। নিজেদের শাসনামলে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে সম্প্রতি সরকার সমর্থিত প্রার্থীরা যেভাবে পরাস্ত হয়েছেন সেটি তো আর তারা উপেক্ষা করতে পারছেন না। এ বিষয়ে কিছুদিন আগে খোদ প্রধানমন্ত্রী এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যাতে ক্ষমতাসীনদের বিরক্তিও স্পষ্ট। বিরোধীদল বিএনপি ও তার সহযাত্রীরা স্রেফ অপপ্রচার চালিয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত করছে বলেই তিনি মনে করেন। সরকারে এমন মনোভাবও রয়েছে যে, অপপ্রচার মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত তারা ব্যর্থ। ঈদের আগে দলের একটি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্মকে পুঁজি করে সম্পূর্ণ মিথ্যা কিছু অপপ্রচার চালানো হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে। ঈদের ছুটিতে দলীয় কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে যেন এর উপযুক্ত জবাব দেন। সব রকম বাধা সত্ত্বেও সরকার ও বিরোধী উভয় দলের নেতাকর্মীই এবার বেশি করে গেছেন তাদের এলাকায় জাতীয় নির্বাচনের বেশি দেরি নেই বলে। বিশেষত মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের ঘোরতর সমর্থকরা এলাকায় গিয়ে আগাম প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন নিশ্চয়ই। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের জোর দিয়ে বলা হলো অপপ্রচার ঠেকানোর কাজে শামিল হতে। এটি তাদের জন্য একটা বাড়তি দায়িত্ব বলেই বিবেচিত হবে। প্রতিটি ‘রাজনৈতিক সরকার’কেই দেখা যাচ্ছে মেয়াদের শেষ সময় এসে বলতে যে, তারা অপপ্রচারের শিকার। এসব অভিযোগ করতে করতেই তাদের মেয়াদ ফুরিয়ে যেতেও দেখেছি। দলসহ অত বড় রাষ্ট্রযন্ত্র হাতে থাকলেও অপপ্রচার মোকাবেলা করা আর হয়ে উঠছে না। জাতীয় নির্বাচনে এর কুফলও ফলতে দেখছেন তারা। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অবশ্য বরাবরই এমন কিছু প্রচারণা চালানো হয় যা ধর্মাশ্রিত। এদেশের রাজনীতিতে তারা ধর্মনিরপেক্ষ দল বা শক্তি হিসেবে বিবেচিত বলেই হয়তো ঘটে এটি। বর্তমান শাসনামলে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতিও এজন্য দায়ী। আইনি প্রক্রিয়ায়ও এমন কিছু ঘটনা ঘটছে তাতে বিশেষ একটা প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে প্রচার বা অপপ্রচারের। মেয়াদের শুরুর দিকে এসব ঘটলে কিন্তু সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য পরিস্থিতি অতটা প্রতিকূল নাও হয়ে উঠতে পারতো। আমাদের দেশে বিপুলভাবে নির্বাচিত সরকার তার মেয়াদের দুই তিন বছর এক ধরনের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ কাটায় জনগণের সঙ্গে। এ সময় সরকারের অনেক অপ্রিয় পদক্ষেপও তারা মেনে নেয়; ভুলকেও সহানুভূতির সঙ্গে দেখে আর ব্যর্থতার কারণ বোঝার চেষ্টা করে। ওই সময় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েও তেমন ফল পায় না বিরোধীদল। অপপ্রচারে উত্সাহও পায় না তারা। এখন যদি উত্সাহের সঙ্গে অপপ্রচার চলেই থাকে, সেক্ষেত্রে এটিও লক্ষ্য করতে হবে যে, এতে নগদ ফল মিলছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই আক্ষেপ করেছেন তার দল সমর্থিত যোগ্য প্রার্থীর পরাজয় নিয়ে। তার বিপরীতে যিনি জয়ী হয়েছেন সে ব্যক্তির বিষয়ে তীর্যক মন্তব্য করতেও তিনি ছাড়েননি। এক্ষেত্রে ভোটারের বিচারবুদ্ধির প্রশ্নও কিন্তু ওঠে। উত্তরে বলা যায়, তারা হয়তো প্রার্থী দেখেছেন কম; বেশি বিচার করেছেন দলকে। হয়তো বিরোধীদল সমর্থিত প্রার্থীর দিকে তাকানওনি—ভোট দিয়েছেন সরকার সমর্থিতের বিরুদ্ধে। সত্যি বলতে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের কর্তাব্যক্তিদের এ নিয়ে বিস্মিত হওয়া চলে না। তারা নিজেরাও কি এ ধরনের ভোট দেশজুড়ে বিপুলভাবে পাননি ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে? পেয়েছেন বলেই তো একটা রেকর্ড বিজয় নিয়ে এ সরকারটি গঠন করতে পেরেছিলেন তারা। বর্তমান সরকারের ‘কোনো সাফল্য নেই’ এমন কথা বিরোধীদল বলছে বলুক। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহূত এ ভাষা ক্ষমতাসীনদেরও কম জানা নেই। এখন কথা হলো জনগণের বিচারবুদ্ধি তো আর লোপ পায়নি। তারা অবশ্য নানা দল-মতে বিভক্ত এবং এর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে সহসা ‘ক্যাম্প’ বদলাতে দেখা যাচ্ছে না। বর্তমান শাসনামলে এত যে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে জামায়াত তারও একটা বাঁধা সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। প্রচার বা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে আসলে এই বাঁধা ভোটের বাইরে যারা আছেন তাদের টার্গেট করে। এ অবস্থায় গাজীপুর সিটি নির্বাচনে নাকি সরকার সমর্থক বিপুল সংখ্যক ভোটার ভোটকেন্দ্রেই যাননি। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভোটাররা আগেকার মতো করে নয়—ভোট দিয়েছেন যে যার মতো। জাতীয় নির্বাচনেও যদি এমনটি ঘটে তাহলে ক্ষমতাসীনদের বড় পরাজয় ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। নিজ সমর্থকগোষ্ঠী তো আর উল্টোপাল্টা প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে ভোটদানে বিরত থাকছে না বা যাকে খুশি ভোট দিচ্ছে না। নিশ্চিতভাবেই তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন পছন্দের দল ও তার দ্বারা গঠিত সরকারের কার্যকলাপে। ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে’ সরকারের ব্যর্থতা দেখেও হয়তো তারা বিরক্ত। ক্ষমতাসীন দল ও জোটে রাষ্ট্রক্ষমতা সূত্রে পাওয়া সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কোন্দলও তীব্র হয়ে উঠতে দেখা যায়। এটা কম দৃষ্টিগোচর হয়নি বিগত রাজনৈতিক শাসনামলেও। সম্প্রতি রাজধানীর বুকে এক যুবলীগ নেতাকে যেভাবে খুন হতে হল তাতে কারও বুঝতে কষ্ট হবে না—দেশে অপরাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং সুশাসনের অভাবও কম নয়। সরকারের মেয়াদ যত ফুরিয়ে আসে এটা ততই বাড়ে। কোনো রাজনৈতিক সরকারই এর বিপরীতটি করে দেখাতে সক্ষম হচ্ছে না। শুধু মেয়াদের শেষ সময় এসে বলা হচ্ছে ‘অসমাপ্ত কাজ’ শেষ করতে আরো একবার ভোট দিন। আমাদের পাশের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গেই কিন্তু পরপর বেশ কয়েকবার নির্বাচনে জিতে রাজ্য সরকার পরিচালনা করে গেছে বামফ্রন্ট। এভাবে টানা সরকার পরিচালনার দৃষ্টান্ত অবশ্য কম গণতান্ত্রিক দেশেই মিলবে। তবে পরপর দুই বার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার দৃষ্টান্ত রয়েছে আমেরিকাসহ অনেক দেশে। পর্যায় ভেদে সবদেশেই কিন্তু পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রচার-অপপ্রচার চালায় রাজনৈতিক দলগুলো। সেসব মোকাবেলা করেই তো ক্ষমতাসীন দল সরকার গঠন করে দ্বিতীয়বার। আমাদের মতো দেশে সরকার দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হলে ‘নীতির ধারাবাহিকতা’ বজায় রাখাও সহজ হতো। মুশকিল হলো সরকারগুলো দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে দেশ পরিচালনা করছে না। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮-এর নির্বাচনে কোনো ক্ষমতাসীন দলকেই পুনঃনির্বাচিত হতে দেখলাম না আমরা। শুধু অপপ্রচারের চাপে আর তা মোকাবেলা করতে না পেরেই তারা পরাস্ত হয়েছে, এমনটি বললে কিন্তু সরলীকরণ হবে। সব সরকারেরই কিছু না কিছু সাফল্য-ব্যর্থতা রয়েছে। একই দলের সরকার তার দুই শাসনামলে সমান সাফল্য-ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে তাও বলা যাবে না। তারপরও কাউকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় দেখতে চাইছে না জনগণ। এমনি এমনিই তারা কোনো দলকে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় নিতে চায় না—এটা সত্য হয়ে থাকলে তো বলতে হবে কিছুটা খেয়ালিপনা রয়েছে তাদের। সেটি দূরীকরণের দায়িত্ব তাহলে নিতে হবে বুঝদার রাজনীতিকের সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধিজীবীদের। বুদ্ধিজীবীদের অন্তত সাধারণ মানুষের পর্যায়ে নেমে এসে কথা বলা সাজে না। অসাধারণ মতামত দিয়ে সাধারণ মানুষকে বরং তাদের টেনে তোলার কথা সচেতন স্তরে। এর আগে রাজনীতিকদের স্থির করতে হবে তারা পুনঃনির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে সরকার পরিচালনা তথা কাজ করবেন কিনা। সরকার পরিচালনায় কথা ও কাজে সঙ্গতি রাখাটাও জরুরি। যে কাজ করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন সেটি করার পাশাপাশি এমন কাজ থেকে বিরত থাকা দরকার—যেগুলো করবেন না বলেও তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নইলে অপমানিত বোধ করতে পারে নির্বাচকমণ্ডলী তথা জনগণ। সেক্ষেত্রে ভোটের সময় তারা হয়তো সরকারের সাফল্যের দিকেও ফিরে তাকাবেন না। অপপ্রচারে বিভ্রান্তও করতে হবে না এ জনগোষ্ঠীকে। অপপ্রচার মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেও বলতে হয়, বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে কি উপরোক্ত ঘটনাটি ঘটে গেছে? অপপ্রচারের মোক্ষম জবাব দিতেই বোধহয় রাজধানীসহ বড় বড় শহরে বিলবোর্ডে সরকারের সাফল্য তুলে ধরার বিরাট এক উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। ঈদবাজারে (যখন পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপন প্রচারের তাগিদ ওঠে তুঙ্গে) সেটি করতে গিয়ে দ্রুতই তারা আবার পড়ে গেছেন বিতর্কের মুখে। বহুজাতিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভাড়ায় নেয়া বিলবোর্ড রাতারাতি ‘দখল’ করে নেয়া হয়েছে বলে খবর এসেছে মিডিয়ায়। কাদের বুদ্ধিতে কারা এসব করেছেন, এতে গোষ্ঠীবিশেষের ব্যবসায়িক স্বার্থও নিহিত কিনা কে জানে। নানামুখি সমালোচনার তোড়ে এমন প্রচারণা থেকে সরেও আসতে হতে পারে ক্ষমতাসীনদের। প্রচারণা চালানো তো দোষের নয়। কিন্তু সেজন্য নিয়মনীতি মানা তথা গণতন্ত্রবোধের পরিচয় দেয়াটা যে জরুরি, তা বিস্মৃত হওয়া চলে না। ব্যাপক উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি লোকে এখন এটাও দেখতে চায় যে, দেশ পরিচালনায় সরকার গণতন্ত্রবোধের পরিচয় দিচ্ছে কিনা। এক্ষেত্রে পাঁচ কিংবা তারও বেশি বছর আগে বর্তমান বিরোধীদল কীভাবে দেশ চালিয়েছে, এর বিচার তারা কমই করতে ইচ্ছুক। তারা বরং আলোচনা করেন এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হলেও এর মান কেমন এবং মান খারাপ হওয়ার জন্য মন্ত্রী বা এমপির ‘নিজস্ব লোকজন’ দায়ী কিনা। বিদ্যুত্ খাতে উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যা হয়েছে তাতে যদি গোষ্ঠীবিশেষের দুর্নীতির সুযোগ বেশি ঘটে থাকে—সেটিও কিন্তু আলোচিত হবে। বর্তমান শাসনামলে কিছু অনিয়ম, ব্যর্থতা ও বাড়াবাড়ির ঘটনা বহুল আলোচিত হয়ে পড়া এবং তা নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত অতিকথন মানুষের বিরক্তির কারণ হয়েছে। সরকারের বাঁধা সমর্থকগোষ্ঠীও এতে বিব্রত। অপপ্রচারের জবাব হয়তো আছে তাদের কাছে; কিন্তু ওইসবের কোনো জবাব নেই। সরকার ও দলের একাংশ অবশ্য মনে করে দক্ষতার সঙ্গে প্রচার ও পাল্টা প্রচার চালানো গেলে জনমত পক্ষে নিয়ে আসা যাবে কয়েক মাসেই। মেয়াদের শেষ সময়ও নাকি ঘুরে দাঁড়ানো যাবে বারাক ওবামার মতো! আমেরিকা ও ওবামার সঙ্গে চট করে তুলনা করাটা বোধহয় ঠিক হচ্ছে না তাদের। এটা তো বাংলাদেশ। এই দেশ ও এর জনগণকে মাথায় রেখেই এগোতে হবে ক্ষমতাসীনদের। মেয়াদের শেষ সময় তারা যদি ‘অনিবার্য’ পরাজয়কে সহনীয় করে আনার লক্ষ্যেও কাজ করেন সেটি মন্দ হয় না। দেশে তারা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ধারা তো বটে। বিএনপি-জামায়াত আর হেফাজত মিলেও আওয়ামী লীগ ও তার সহযাত্রীদের শেষ করে দিতে পারবে না। আগামী নির্বাচনে পরাজিত হয়েও তারা সংসদে শক্তিশালী বিরোধীদল হিসেবে অবস্থান করে নিতে পারলে রাজনীতিতে বরং একটা ভারসাম্য থাকবে। জনগণের একটি বড় অংশে আওয়ামী লীগের যে মজবুত ভিত্তি রয়েছে—শুধু অপপ্রচার তা নড়বড়ে করে দিতে পারবে বলেও মনে হয় না। সবশেষে বলতে হয় দেশ পরিচালনায় পরিচ্ছন্ন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়ে মধ্যবর্তী ভোটারদের ধরে রাখতে পারলেই মনে হয় জনগণের মধ্যে দৃঢ়মূল হতে পারতো সরকার। তাতে অপপ্রচারও কার্যকারিতা হারাতো। স্পষ্টতই দেখছি, রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালেও অপপ্রচার মোকাবেলা করতে পারছে না সরকার। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে কিছুদিন পর ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হলে সেটি কি আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে না? লেখক:সাংবাদিক [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন