কোটা নিয়ে কেন
বিতর্ক !
সরকারি চাকরিতে কোটা থাকা যেমন জরুরি, তেমনি কোটা বাতিল করাও তার চেয়ে জরুরি।কেননা সরকারি ক্ষেত্রে কোটা থাকে নির্ধারিত। নির্ধারিত কোটা থাকার ফলে সকল মেধাবীর সুযোগ মেলে না চাকরিতে। ফলে বেকার থেকে যায় মেধাবী ছাত্র/ছাত্রী। এ কোটাগুলোর মধ্যে থেকে যায় বিভিন্ন যোগ্যতাহীন ব্যক্তি। যাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি ছাড়া কোন উন্নতি লক্ষ্য করা যায় না। দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন মেধাবী ও দক্ষ ছাত্র/ছাত্রীর। যখন কোন দক্ষতা ও মেধাবী তারুণ্য কোন উপকারে আসতে পারে না তখনই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। আমার মতে কোটা বাতিল কিংবা সংস্কার করে দক্ষতা ও মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের প্রত্যেককে সরকারি/ বেসরকারি চাকরিতে যথার্থ সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া। তবেই একদিকে বেকার সমস্যা দূরীকরন হবে, অন্যদিকে দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
রবিউল আউয়াল জিহাদ সরকার
ডিপ্লোমা, ১ম বর্ষ
শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক, রংপুর
==
কোটা প্রথা ও কোটা-বিরোধী আন্দোলন
চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতেও কোটা-বিরোধী ব্যাপক আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু সে আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। তাহলে ঢাকায় এত সংঘর্ষ হওয়ার কারণ কি? কেউ কি এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছিলো? খুব হাসি পায়, রাস্তায় গণমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুর করে, পহেলা বৈশাখের শিল্পকর্ম পুড়িয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কক্ষ ভাঙচুর করে এরা নাকি প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হতে চায়! জাতি এদের কাছে কি প্রত্যাশা করবে? যারা নিজের স্বার্থের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ভুলে যাচ্ছে, চাকরিতে যোগ দিয়ে তারা কি না করতে পারে? মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে, এরা কি আসলেই বিসিএস পরীক্ষার্থী? নাকি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এদের উদয়? আমি চাই না আন্দোলনের নাম করে কেউ দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করুক, দেশের সম্পদ নষ্ট করুক, মেধাবী শিক্ষার্থী হয়ে শিক্ষকদের অপমান করুক। এমন অসত্ ছাত্রদের শাস্তি হওয়া দরকার। না হয় তারা কাল দেশকে অস্বীকার করবে! এখন নতুন যুগ চলে এসেছে, আন্দোলনও দিন দিন গুরুত্ব হারিয়ে ফেলছে। আগে অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করতো। আর এখন পরীক্ষায় ফেল করলে আন্দোলন করে। আর কিছুদিন পর হয়তো, পরীক্ষা না দিয়ে সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়ার জন্য আন্দোলন করবে। সরকারের উচিত পিএসসিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া। কোটা ব্যবস্থার উন্নীতকরণ। ১০% থেকে ১৫%-এর উপর কোটা থাকা কোন দেশের উচিত নয়। মেধাবীদের বিকাশের ক্ষেত্রে আরো গুরুত্ব দিতে হবে।
সনেট দেব
বি. এস. এস. (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ
অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম
===
সরকারের সত্ উদ্যোগ থাকলে চাকরির সমাধান হবে
আজ কেন আমাদের দেশের মেধাবীরা বিদেশে যাওয়ার জন্য পাগল। কারণ একটাই! তারা দেশে যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছে না। যে লোকটা লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে চাকরি করে, সে অবশ্যই নিজে ঘুষ খাবে। যে ঘুষ দিতে জানে, সে ঘুষ খেতেও জানে। এসব কারণে মানুষ এখন ভাবে আগে খেয়ে বাঁচি তারপর দেশ ও ধর্মের চিন্তা। সত্যিকার অর্থে সরকারের সত্ মনোভাব থাকতো তাহলে এরকম শর্ত দিয়ে চাকরিতে নিয়োগ নেয়ার দরকার ছিল না। আমার কথা হচ্ছে সন্মান ও কৃতজ্ঞতা দেখাতে গিয়ে ৫, ১০% কোটা দিয়ে দিলে সমস্যা না। তবে যেটা করতে হবে ঘুষ ও মামা-ভাগ্নের সম্পর্ক বন্ধ করতে পারলে এবং কাজের ক্ষেত্র তৈরি করলে মেধাবীরা সরকারি চাকরি পাবে। আমাদের মূল সমস্যা যেখানে আমরা সেটা চিহ্নিত করে তার সমাধান করতে হবে। তখন আমরা প্রকৃত সমাধান পাব। তখনই বুঝব আমরা সত্যিকার আমাদের দেশকে ভালবাসি, যখন দেশের সকল কাজ আমরা নিঃস্বার্থভাবে করবো।
মো. এরশাদ আলী
নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
৩য় বর্ষ, কম্পিউটার সায়েন্স
==
কোটা দিয়ে নয় মেধা দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চাই
কোটা নিয়ে যখন সারা দেশে উত্তাল, তখন দৈনিক ইত্তেফাকের দৃষ্টিকোণ বিভাগে নিজের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ পেলাম। উন্নত বিশ্বে শীর্ষে থাকা মেধাবীরাই দেশ চালানোর সুযোগ পায় এবং তাই হওয়া উচিত। কিন্তু তা আমাদের দেশে একেবারেই ভিন্ন। এখানে কোটাধারীরাই সে সুযোগ পেয়ে থাকে। তবে হ্যাঁ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির জন্য কোটা থাকা প্রয়োজন কিন্তু তা মোটেই মেধাবীদের চেয়ে বেশি নয়। কিন্তু আমি কখনোই মনে করতে পারি না নারীরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠি। যেখানে আমাদের জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতা একজন নারী। নারীরা আজ এভারেষ্ট জয় করেছে। আর আমি একজন নারী, আমি নারী কোটা চাই না। আমি এবং আমরা কোটা দিয়ে নয়, মেধা দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চাই। বৃহত্তর পরিসরে প্রতিযোগিতা করে যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে চাই। তাই এখনি সময় এসেছে, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নামমাত্র কিছু কোটা সীমিত সময়ের জন্য রেখে কোটা প্রথার সংস্কার করা হোক। নইলে আস্তে আস্তে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। তাই এখনি কোটা পদ্ধতির সংস্কার করা প্রয়োজন।
স্বপ্ন বিলাসী রহমান
অনার্স ১ম বর্ষ, ব্যবস্থাপনা বিভাগ
গাইবান্ধা সরকারি কলেজ
