আলোকপাত

বাংলাদেশের মানুষকে হাসতে হবে

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২২:০৬
গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ভারতে একটি সংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটিতে একই সঙ্গে অট্টহাসি এবং ইয়োগার ব্যবস্থা রয়েছে। এই সংঘের সদস্যরা খুব সকালে একত্রে সমবেত হন এবং অট্টহাসিতে মেতে ওঠেন। অবশ্য সবাই যে এই অট্টহাসিতে সন্তুষ্ট থাকছেন তাও নয়। মুম্বাইয়ের আদালতে সম্প্রতি একটি হাসি সংঘের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন এক আইনজীবী পরিবার। পরিবারটির দাবি হচ্ছে, হাসি সংঘের অট্টহাসি সকালবেলার শান্ত পরিবেশকে অস্থির করে তোলে। তাই শব্দ দূষণের প্রতিবাদে আদালতে হাজির হন আইনজীবী পরিবার। বলাবাহুল্য আদালত তাদের অভিযোগ বিবেচনা করেছেন এবং হাসি সংঘের কার্যক্রম বন্ধের আদেশ দিয়েছেন। বহু যুগ ধরে প্রচলিত একটি ধারণা হচ্ছে , হাসি সবচেয়ে সেরা ওষুধ। এ কথার খানিকটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মিলেছে সামপ্রতিক গবেষণায়। হাসিখুশি থাকতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে ‘হাসি সংঘ’। আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান অনেক রোগব্যাধি নিরাময়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এখন খুব কম রোগব্যাধি আছে যেগুলো নিরাময় সম্ভব নয়। কিন্তু অর্থও একটি বিষয় বটে। অনেকের পক্ষে বর্তমান সময়ের ব্যয়বহুল চিকিত্সার খরচ বহন করা সম্ভব হয় না। বহু যুগ ধরে প্রচলিত একটি ধারণা হচ্ছে, হাসি হচ্ছে মহা ওষুধ। বিষয়টি এখন বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত। শারীরিক এবং মানসিক যন্ত্রণা প্রশমনে সহায়তা করে হাসি। গত সেপ্টেম্বরে এই বিষয়ক একটি গবেষণা পরিচালনা করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক নৃ-তত্ত্ব বিষয়ক ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক রবিন দানবার । অট্টহাসির সুফল সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজাই ছিল গবেষণার উদ্দেশ্য। গবেষকরা ব্যথা উপশমে হাসির ভূমিকা নির্ধারণে দুটি দল তৈরি করেন। একটি দলকে কৃত্রিম ব্যথা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয় এবং একই সঙ্গে হাসির ভিডিও দেখানো হয়। অন্য একটি দলকে একইভাবে ব্যথা প্রদান এবং কিছু বিরক্তিকর ভিডিও দেখার সুযোগ দেয়া হয়। দানবার মনে করেন, হাসি হচ্ছে এমন এক উপায় যা দিয়ে মানুষ বড় সামাজিক গণ্ডি প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করতে পারে। এই কারণটি মাথায় রেখেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ‘ হাসি সংঘ ’। এই গবেষণার ফলাফল বেশ চমকপ্রদ । যে দলটি হাসির ভিডিও দেখছিল, তারা শুধুমাত্র হাসাহাসি করেই কমপক্ষে ১০ শতাংশ ব্যথা প্রতিরোধে সক্ষম হয়। হাসির ধরনের উপরও অবশ্য ব্যথা উপশমের বিষয়টি নির্ভর করছে। প্রফেসর দানবার এই বিষয়ে জানান, অট্টহাসি ব্যথা উপশমে সহায়তা করে। অন্যদিকে, ভদ্র চাপা হাসি নমনীয়তার প্রতীক হলেও ব্যথা উপশমে তেমন একটা সহায়তা নয়। বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছেন যারা হাসতে পারেন তাদের মন যেমন ভালো থাকে তেমনি দেহও সুস্থ থাকে। তাই এখন বলা হয় হাসলে নাকি শরীর ভালো থাকে মন আনন্দে থাকে। তবে হাসির জন্য যেটা সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন তা হলো সুন্দর দাঁত এবং এই সুন্দর দাঁতের যত্ন নিতে হলে কিছু নিয়ম-কানুন তো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। যেমন - (১) দুইবেলা (সকালে নাস্তার পর) ও রাতে (খাবার পর) দাঁত ব্রাশ, (২) প্রতিবছর একবার দাঁত পরীক্ষা ও স্কেলিং করা, (৩) প্রতিদিন কিছু সবুজ/হলুদ শাকসবজি / ফলমূল আর সালাদ খাওয়া, (৪) ফ্লোরাইড যুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা, (৫) পান/সুপারি /জর্দা/ তামাক সর্বোপরি ধূমপান বন্ধ করা। সেই প্রবাদ বাক্য ‘বাঙালি দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিতে জানে না’। এই কথাটি আজ যে সত্য নয় তা বাঙালিকেই প্রমাণ করতে হবে। শুধু মর্যাদা নয় তাকে প্রমাণ করতে হবে এই সুন্দর দাঁতের হাসি দিয়ে সে বিশ্ব জয় করেছে। বিশ্ব জয়ের কাহিনী তো ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছেন ড. মহম্মদ ইউনূস নোবেল জয়ের মাধ্যমে, বাংলার টাইগার ছেলেরা ক্রিকেট জয়ের মাধ্যমে, মুসা, নিশাত, ওয়াসফিয়া জয় করেছে হিমালয়ের পাদদেশে উঠে, তবে কেন পারবে না অন্যেরা? জীবন আর জীবিকার জন্য মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, উপরন্তু ভেজাল খাদ্য আর ফরমালিন মানুষকে করছে রোগাক্রান্ত আর অসুস্থ। বাঙালি আজ শত দুঃখ-কষ্ট হাসিমুখে বরণ করে নিতে শিখেছে। এই কষ্ট-দুঃখ থেকে মুক্তি পেতে হলে তাদের সুন্দর করে হাসতে হবে। আর সেই জন্য প্রয়োজন মুখ ও দাঁতের যত্ন, তাই আজ থেকে শুরু হোক মুখ ও দাঁতের পরিচর্যা। কারণ হাসিতেই মুক্তি, হাসিতেই আনন্দ। অতএব বাঁচতে হলে হাসতে হবে। লেখক :অধ্যাপক ডেনটিস্ট্রি,ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মানস E-mail: [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন