কোটা মেধা বিকাশের অন্তরায়
কোটা মেধা বিকাশের অন্তরায়। কেননা জন্ম থেকেই একটি সন্তান জানতে পারে তার জন্য একটি কোটা সংরক্ষিত আছে। তাকে জানানো হয় তার জন্য বয়স দু’বছর বেশি থাকবে। কোন রকম পাস করতে পারলেই তোমার চাকরি নিশ্চিত। এমতাবস্থায় একজন ছাত্রের মেধার স্বাভাবিক বিকাশ কখনোই ঘটে না। এমনকি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা নির্লজ্জের মতো কোনরকম পাস করে মেধাবীদের পাস কাটিয়ে রাষ্ট্রের বড় বড় পদ দখল করে। ফলে তাদের কাছে মেধার কোনো মূল্য থাকে না। কিন্তু তারা সহপাঠী এমনকি সহকর্মীদের কাছে ছোট হিসেবে বিবেচিত হয়। এমনকি কোটা থাকার কারণে অনেক কোটাধারীর মনেও হীনমন্যতা জন্ম নেয়। ফলে অনেক কোটাধারীও চায় না যে, শুধু কোটার যোগ্যতায় তাদের চাকরি হোক। অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, কোটার বিরুদ্ধে কথা বললেই সে নাকি রাজাকার। পুলিশ নির্বিচারে কোটাধারীদের নির্যাতন করেছে। আমরা কোটার বিরোধী নই। আমরা চাই কোটাকে সংস্কার করে যুগোপযোগী করা হোক। ‘নাতি কোটা’র মতো রাজনৈতিক কোটা বন্ধ হোক। কোটাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ হোক। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানোর আরো অনেক পথ আছে। রাষ্ট্রপরিচালনায় অনগ্রসর মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে,তবে সেটা নির্দিষ্ট সংখ্যক, ঢালাওভাবে নয়। আমরা দেশপ্রেমিক, মুক্তিযোদ্ধাদের ভালোবাসি, তাদের সন্তানদের মেধাকে পঙ্গু করে না দিয়ে বিকশিত করার সুযোগ দেয়া হোক। তাহলে সমাজ থেকে কোটাধারী অযোগ্য জঞ্জাল দূর হয়ে যাবে। তখন সোনার বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় তরুণরা লালন করে তা একদিন সফল হবে।
জামান শাহিদ
বি.এ. অনার্স (প্রথম শ্রেণিতে প্রথম),
এম.এ. বাংলা,
বাংলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ সংবিধান ‘২৯ নং অনুচ্ছেদ বনাম কোটা পদ্ধতি’-বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়
‘কোটা’। অসম সমাজকে সমান করার কৌশলগত পদ্ধতি। অনেক উন্নত, উন্নয়নশীল কিংবা অনুন্নত দেশেই কোটা কমবেশি ছিল, আছে এবং থাকবে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী যুক্তিযুক্ত আনুপাতিকহার হবে প্রপঞ্চ। কিন্তু আমাদের দেশে বিসিএস-এর মাধ্যমে প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে চলমান ৫৫ শতাংশ কোটা কোনভাবেই কাম্য নয়। সরকারি ও মাধ্যমিক শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিও কোটার আয়ত্তে। এই কোটা যেন সিন্দাবাদের দৈত্য হয়ে খপ্পরে নিয়েছে জাতির বিবেককে। হাজারো দুঃস্বপ্নের যাঁতাকলে পিষ্ট শিক্ষিত তরুণ সমাজ সতেজ স্বপ্নভঙ্গের ব্যথায় ব্যথিত। সুস্থ-স্বাভাবিক নিয়োগের অভাবে প্রশাসন হারাচ্ছে যোগ্য কান্ডারিদের। ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে নতুন ফাঁক-ফোকরে কোটা প্রতিটি সেক্টরের সেবার মান ও প্রাণকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। চাকরি হাহাকারময় মুহূর্তেও কোটা জটিলতার ফাঁদে আটকে পড়ে বিভিন্ন পদের নিয়োগ যা কিনা শুধু মেধাবীদের বঞ্চিতই করে না, নিরুত্সাহিত করে এক ভবিষ্যত্ শিক্ষিত অতঃপর চাকরিজীবী হবার মন্ত্রে দীক্ষিত তরুণগোষ্ঠীকে। বিশ্বায়নের যুগে জাতি এভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে পারে না, চলতে দেয়া যায় না। তাই বিদ্যমান বিতর্কিত কোটা পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
কামরুন্নাহার শাপলা
৮ম সেমিস্টার,
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কোটা পদ্ধতির কারণে মেধাবীরা জনপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে
একটা বিশেষ সময়ে বিশেষ জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা থাকতে পারে। তাই বলে অনন্তকাল চলতে পারে না। আর কোন কোটা ন্যায্য, কোনটি অন্যায্য তাও খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। একসময় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির জন্য কোটা পদ্ধতি চালু হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার আর কোনও প্রয়োজন নেই। এমন পরিস্থিতিতে একটি পক্ষ বৈষ্যমের শিকার হচ্ছে। শুধু মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীদের আবেদন করার যোগ্যতা কি সাধারণ প্রার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক নয়? কোটা কি শিক্ষিত বেকার বৃদ্ধির জন্য দায়ী নয়? আজকে আমরা যদি উন্নত বিশ্বের দিকে তাকাই তাহলে দেখব যে, তাদের দেশে যারা প্রকৃত মেধাবী তাদেরকেই মূল্যায়ন করা হয়। এজন্যই তারা আজ উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছে। আজ আমরা স্বাধীনতার ৪২ বছর অতিক্রম করেছি। এত বছর ধরেই তো কোটাওয়ালারা এই সুবিধা ভোগ করে আসছে, এভাবে আর চলতে পারে না। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি সকলের সমান অধিকারের জন্য। কারোর বেশি কারোর কম-এর জন্য নয়। স্বাধীনতার পূর্বে পশ্চিম পাকিস্তান আমাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা হতে বঞ্চিত করছে বলে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু এখন কি হচ্ছে?
মো. সফিউল আলম (টিপু)
এম.এস.এস,
সরকারি বাংলা কলেজ, ঢাকা
বৈষম্যহীন অধিকার চাই
কোটার অপর নাম হল বৈষম্য, বিভেদ। এই বিভেদ যদি ক্রমাগত চলতে থাকে, তাহলে দেশ, জাতি, সমাজ কালবিলম্বে মেধাহীনদের কাতারে গিয়ে দাঁড়াবে। এরফলে দেশ, জাতির সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত্ কালো মেঘের ঘনঘটায় হঠাত্ হারিয়ে যাবে। “কোটা নয়, বৈষম্যহীন সমাজ চাই”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা তরুণ মেধাবী ছাত্রসমাজ দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে চাই। তাই কোটা পদ্ধতি ভারসাম্যে এনে মেধাবীদেরকে প্রাধান্য দিতে ঊর্ধ্বতন কর্ত্ৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. দিদার হোসেন
আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
