সরকারি চাকরিতে কোটা বিতর্ক

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৩, ২০:২৬
মেধার প্রাধান্য ও কোটা সংস্কার সাংবিধানিক ভিত্তি না থাকলেও বর্তমান কোটা পদ্ধতি একটি জাতীয় ইস্যু। এর জটিলতা যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে সমাধান কঠিন। কোটা মানে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য মানুষকে সুযোগ দেয়া। মুক্তিযোদ্ধা, আদিবাসী এবং নারীসহ দেশে ২৫৭ ধরনের কোটা রয়েছে। দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যখন মেধার মূল্যায়নের জন্য ছাত্র আন্দোলন শুরু হলো তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ বিরোধী ভাব প্রকাশ করলেন। অন্যদিকে ছাত্রলীগের ছেলেরা মেধাবীদের পেটালো। কি অদ্ভুত! আমাদের রাষ্ট্র। যে ব্যক্তি একবার কোটার সুবিধা নেবেন তাতে বা তার উত্তরসূরীদের দ্বিতীয়বার সুবিধা দেয়া হবে না। এই ব্যবস্থাটায় সুবিধাবঞ্চিতদের সুবিধা দেবে আবার মেধার প্রাধান্য থাকবে। যদি আমরা মেধার প্রাধান্য দেই এবং সুবিধাবঞ্চিতদের সুবিধা দিতে চাই তাহলে সঠিকভাবে মেধার প্রাধান্য দেয়া এবং কোটা পদ্ধতির সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। মো. মাহবুবুর রহমান সম্মান ৩য় বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ সরকারি বি.এল কলেজ, খুলনা কোটা নয়, মেধার ভিত্তিতে চাকরি দিতে হবে বিগত বিসিএসগুলোর প্রিলিমিনারি ফলাফলের তুলনায় এবারের ফলাফল অসন্তোষজনক হলেও দেশের উন্নয়নের জন্য কোটা প্রথা বিরাট একটি বাধা। মুক্তিযোদ্ধাদের এবং পিছিয়ে-পড়া জনগোষ্ঠীর সহযোগিতার নামে সরকারি চাকরিতে কোটা চালু করা হয়। দেশের মুক্তিযোদ্ধা, নারী, উপজাতীয়, প্রতিবন্ধী ইত্যাদি কোটা আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০% কোটা রয়েছে। যারা যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছে তাদের ঋণ কোনদিন শোধ করা যাবে না। তার মানে এই নয় যে তাদের তিন পুরুষ পর্যন্ত চাকরিতে অযোগ্য শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ ভোগ করবে। ২০১৩ সালের অর্থনীতি সমীক্ষা অনুযায়ী শিক্ষার হার, পুরুষ ৬১.১% ও নারী ৫৪.৮%। এ সামান্য ব্যবধানে নারীর জন্য ১০% কোটা কতটা যুক্তিযুক্ত। এদেশে অনেক পরিবার আছে যেখানে অতিকষ্টে একটা সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করা হয়। কিন্তু কোটা প্রথার কারণে তার চেয়ে কম মেধাবী সরকারি চাকরিতে সুযোগ পায়। এজন্য কোটার হার কমিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের, উপজাতির, প্রতিবন্ধীর জন্য ১০% করা যেতে পারে। তা না হলে স্বাধীনতা রক্ষায় বিরাট একটি বাধা তৈরি হবে। তাই কোটা নয়, মেধার ভিত্তিতে চাকরি দিয়ে দক্ষ প্রশাসন তৈরি করতে হবে। মো. কেফায়েতউল্যাহ কুরআনিক সায়েন্স এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ ৩য় বর্ষ, ওমর (রা.)হল, রুম নং-১০৫ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম কোটা ব্যবস্থা মানে বৈষম্য এবং দুর্নীতির দ্বার উন্মুক্ত করা— বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অতুলনীয়, কোটার আওতাভুক্ত সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি— কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়, তারা অক্ষম, নির্বোধ, দুর্বল, অযোগ্য, অসহায়, ভীত, কাপুরুষ, পিছিয়েপড়া গোষ্ঠী। কোটা ব্যবস্থার ফলে কোটামুক্ত ও কোটামুক্তদের মধ্যে প্রকাশ্যে বৈষম্যের সৃষ্টি করা হয়। আবার দেখা যাচ্ছে যাদের জন্য কোটা, প্রকৃতপক্ষে তারা সে অধিকার ভোগ করতে পারছে না। তা ভোগ করে টাকার কুমির পরিবারে মেধাহীন সন্তান। এই সুযোগে মেধাহীন নড়বড়ে মেরুদণ্ডযুক্ত ব্যক্তি সরকারি অফিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারের অধিকারী হয়ে পরবর্তীতে অফিসের যেকোন কাজে তার নিজের নিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করে। ধীরে ধীরে তৈরি হয় দুর্নীতির পাহাড়। এভাবে কোটা দুর্নীতির দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়ে বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জনে সহায়তা করছে। দেশের বৃহত্ জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করে ক্ষুদ্র অংশকে এগিয়ে নেয়ার নামে প্রশাসনকে দুর্বল মেধার অধিকারী করার কোন যৌক্তিকতা নেই। এটা গুরুত্বের সাথে ভাববার এখনি উপযুক্ত সময়। শামীম সুলতানা এলএলএম অতীশ দিপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পান্থপথ, ঢাকা আমের চেয়ে আমের আঁটি বড় হওয়া উচিত নয় একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে মেধাবীরাই হলো একটি দেশের মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু কোটা নামক মরণ কামড়ে অজস্র মেধাবী প্রতিবছর তার যোগ্য ঠিকানা হারাচ্ছে। আমি বলব কোটার মাধ্যমে একদিকে যেমন যোগ্যদের অযোগ্য করা হয়, অন্যদিকে কোটার মাধ্যমে দুর্নীতির ষোলকলা পূর্ণ করা হয়। তাই দুর্নীতি রুখতে ও যোগ্যদের প্রাপ্য স্থান নির্ধারণের লক্ষ্যে কোটা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। যেখানে ৭০% মেধাবী এবং সকল ধরনের মোট কোটা ৩০% হবে। আমি বলব কোটা পদ্ধতি হবে মেধাবীদের জন্য সহনশীল, পরিচ্ছন্ন ও সকলের অধিকার বাস্তবায়নের একট উত্তম পন্থা। মো. মাহাবুবুর রহমান (রিয়াদ) বিভাগ-ব্যবস্থাপনা এম.বি.এস (ফাইনাল) সরকারি বাঙলা কলেজ, মিরপুর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন